ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ক্যান্সার আক্রান্ত নারীকে ধ র্ষ ণ চেষ্টার মামলার পলাতক আসামি ঢাকায় আটক প্রথমবারের মতো রাণীনগরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মান্দায় খালে গোসলের সময় পানিতে পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে বাগাতিপাড়ায় ৩০ লাখ টাকার বেশি ঋণের চেক বিতরণ বাগাতিপাড়ায় একদিনে আওয়ামী লীগের সাবেক তিন নেতা আটক রাণীনগরে এক মঞ্চে সাত কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ লালপুরে নানাবাড়ির পানি নিষ্কাশনের ডোবায় পড়ে শিশু রাফসান’র মৃত্যু রাজশাহীতে কলাবাগান থেকে তিন বস্তা গাঁজা উদ্ধার; জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে সিংড়ায় স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে শ্লী/ল/তা/হা/নি/র চেষ্টা, গণ-ধো’লা’ইয়ের পর অটোরিকশাচালককে পুলিশে সোপর্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে গম চাষ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৩ ২৪৩ বার পড়া হয়েছে
চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁওয়ে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে গম চাষ!

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে গম চাষ!
সারা দেশের পাঁচভাগের এক ভাগ গম উৎপাদন হতো উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে। জেলার চাহিদা পূরণ করে গম রপ্তানি হতো দেশের অভ্যন্তরীণ অন্যান্য জেলাতেও। কিন্তু গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে ধীরে ধীরে কমেছে গম চাষ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে গত ৬ বছরের গম চাষের হিসাব বিশ্লেষণ করলে অনুমান করা যায় গম চাষ বিলুপ্ত হতে বসেছে ঠাকুরগাঁও সহ আশপাশের উপজেলা গুলোতে।

কৃষি অধিদপ্তরের হিসাব বলছে ২০১৬-১৭ চাষ মৌসুমে জেলাতে গম চাষ হয়েছিল ৬৭ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে, ২০১৭-১৮ চাষ মৌসুমে ৬১ হাজার হেক্টর, ২০১৮-১৯ চাষ মৌসুমে ৫০ হাজার ২২০ হেক্টর, ২০১৯-২০ চাষ মৌসুমে ৫০ হাজার ৬৫০ হেক্টর, ২০২০-২১ চাষ মৌসুমে ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর, ২০২১-২২ চাষ মৌসুমে ৪৫ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছিল।
চলতি বছর চাষ মৌসুমে জেলাতে ৪৪ হাজার ৬৯৯ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর৷ এ বছর লক্ষমাত্রার চেয়ে ৮ হাজার ৪২ হেক্টর জমিতে কমেছে গমের চাষ। চলতি মৌসুমে জেলা জুড়ে গম চাষ হয়েছে ৩৬ হাজার ৬৯৯ হেক্টর জমিতে।

এর মধ্যে সদর উপজেলাতে ৯ হাজার ৬৪৭ হেক্টর, বালিয়াডাঙ্গীতে ১০ হাজার ১৪০ হেক্টর,পীরগঞ্জে ৮ হাজার ২০০ হেক্টর, রাণীশংকৈলে ৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর এবং হরিপুরে ৩ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে।
২০১৬-১৭ চাষ মৌসুমের হিসাব অনুযায়ী কয়েক বছরের ব্যবধানে এখন পর্যন্ত জেলাতে ৩১ হাজার ১৬৩ হেক্টর জমিতে কমেছে গমের চাষ।
কেন গম চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকগণ এমন প্রশ্ন নিয়ে গম চাষে বিমুখ অন্তত ২০ জন কৃষকের সাথে কথা বলেছে আমাদের প্রতিনিধি।

কৃষকরা জানান, গমের চেয়ে ভুট্টা ও আলু বেশি উৎপাদন হয়। তাই তারা গমের পরিবর্তে আলু ও আগাম ভুট্টা ও সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন। এছাড়াও বীজ সংকট, বীজ পেতে ভোগান্তি, বীজ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারনে চড়া দাম, গম ব্যবসায়ীদের অসাধু সিন্ডিকেট সরকারের নির্ধারিত দামে কৃষকদের অখুশি সহ নানা সমস্যা উঠে আসে কৃষকদের মুখ থেকে।

সদর উপজেলার আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে গম উৎপাদন খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি ৩০ মনের বেশি গম পাওয়া যায়না। এতে লাভ কম হয়। তাই আলু উত্তোলনের পর পরেই আগাম ভুট্টা চাষ করেছি। ভুট্টাতে একই খরচে বেশি ফলন পাওয়া যায় এবং দামও পাই।

রাণীশংকৈলের গোগর এলাকার কৃষক ইয়াসিন আলী বলেন, যেসব জমি আগে গমে ভরে থাকতো সেসব জমিতে এখন ভুট্টা সহ অন্যান্য ফসল ফলাচ্ছে কৃষকরা। আমি এ বছর ৫ বিঘা জমিতে গম আবাদ করছি। বীজ কিনতে যে ভোগান্তিতে পড়েছি আগামি বছর কম চাষের ইচ্ছে হবেনা। সরকার গম বীজের মূল্য নির্ধারণ করেছিল ৫৮ টাকা। কিন্তু সে বীজ আমাকে ডিলারদের কাছে কিনতে হয়েছে ৭৯-৭৫ টাকায়। তারপরেও বীজ পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সহজ ভাবে আমরা কৃষকরা কোন কিছুই পাইনা।

তবে ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউট এর সহকারি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনে করেন একজন কৃষক আলু উত্তোলণ করেই জমিতে গম চাষ করতে পারেন। গম কাটাইয়ের পর ভুট্টা চাষ করতে পারেন এবং একই জমিতে বরো ধান চাষ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে একজন কৃষক বেশি লাভবান হতে পারেন। আমরা কৃষকদের এ কথা বোঝানোর চেষ্টা করছি এবং বীজ উৎপাদনে তাদের সহযোগিতা করছি৷ তারা যেন নিজেরাই নিজেদের বীজ উৎপাদন করতে পারেন।

বিএডিসি কার্যালয়ের বীজ বিক্রয় ও বিতরণ কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, জেলাতে বিএডিসির ১৬১ জন বীজ পরিবেশক রয়েছেন। যাদেরকে এ বছর ৫৫৭ টন বীজ বরাদ্দ সহ বিএডিসির বুথ থেকে ৪০ টন বীজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

কৃষি অফিসের গম চাষের জমির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বীজের চাহিদা হেক্টর প্রতি ১২০ কেজি হলে ৫ হাজার ৩৬৪ টন বীজ। যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

এদিকে গমের চাষ ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার কারনে খাদ্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির শঙ্কা দেখছেন বিশ্লেষকগণ। তারা বলছেন, এভাবে গমের চাষ কমে গেলে দেশকে গমে আমদানি নির্ভর হয়ে যেতে হবে। ফলে খাদ্য পণ্যের ব্যপক দাম বাড়বে। ভুট্টা থেকে বেশিরভাগ গোবাদি পশুর খাদ্য উৎপাদন হয় আর গম থেকে মানুষের খাদ্য উৎপাদন হয়। তাই গম চাষে চাষীদের প্রণোদনা সহ গম চাষ বৃদ্ধিতে নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি মনে করেন তারা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বছরে এ জেলায় গমের চাহিদা ৪ হাজার ৮০০ টন। গত বছর প্রতি কেজি গম সরকার ২৮ টাকা দর নির্ধারণ করেন। এ দরে কৃষকদের অনিহার কারনে গম কিনতে পারেননি তারা। মাত্র ৪ টন গম কিনেছিলেন। সে সময় বাজারে গমের দর ছিল ৪২ টাকা। বর্তমানে খাদ্যগুদামে আমদানিকৃত গম মজুত রয়েছে মাত্র ৬১৫ টন ২৬১ কেজি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আব্দুল আজিজ বলেন, গমের চাষ কমেছে ঠাকুরগাঁওয়ে। তবে এসব জমিতে এখন সরিষা ও ভুট্টার চাষ হচ্ছে। জমি ফাঁকা নেই। সরিষার পরে কৃষকরা বোরো আবাদ করবে। কৃষকগণ জমি ফাঁকা রাখছেননা। কৃষকরা যে আবাদই করুক আমাদের সহযোগিতা থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঠাকুরগাঁওয়ে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে গম চাষ!

আপডেট সময় : ০১:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৩

ঠাকুরগাঁওয়ে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে গম চাষ!

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে গম চাষ!
সারা দেশের পাঁচভাগের এক ভাগ গম উৎপাদন হতো উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে। জেলার চাহিদা পূরণ করে গম রপ্তানি হতো দেশের অভ্যন্তরীণ অন্যান্য জেলাতেও। কিন্তু গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে ধীরে ধীরে কমেছে গম চাষ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে গত ৬ বছরের গম চাষের হিসাব বিশ্লেষণ করলে অনুমান করা যায় গম চাষ বিলুপ্ত হতে বসেছে ঠাকুরগাঁও সহ আশপাশের উপজেলা গুলোতে।

কৃষি অধিদপ্তরের হিসাব বলছে ২০১৬-১৭ চাষ মৌসুমে জেলাতে গম চাষ হয়েছিল ৬৭ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে, ২০১৭-১৮ চাষ মৌসুমে ৬১ হাজার হেক্টর, ২০১৮-১৯ চাষ মৌসুমে ৫০ হাজার ২২০ হেক্টর, ২০১৯-২০ চাষ মৌসুমে ৫০ হাজার ৬৫০ হেক্টর, ২০২০-২১ চাষ মৌসুমে ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর, ২০২১-২২ চাষ মৌসুমে ৪৫ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছিল।
চলতি বছর চাষ মৌসুমে জেলাতে ৪৪ হাজার ৬৯৯ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর৷ এ বছর লক্ষমাত্রার চেয়ে ৮ হাজার ৪২ হেক্টর জমিতে কমেছে গমের চাষ। চলতি মৌসুমে জেলা জুড়ে গম চাষ হয়েছে ৩৬ হাজার ৬৯৯ হেক্টর জমিতে।

এর মধ্যে সদর উপজেলাতে ৯ হাজার ৬৪৭ হেক্টর, বালিয়াডাঙ্গীতে ১০ হাজার ১৪০ হেক্টর,পীরগঞ্জে ৮ হাজার ২০০ হেক্টর, রাণীশংকৈলে ৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর এবং হরিপুরে ৩ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে।
২০১৬-১৭ চাষ মৌসুমের হিসাব অনুযায়ী কয়েক বছরের ব্যবধানে এখন পর্যন্ত জেলাতে ৩১ হাজার ১৬৩ হেক্টর জমিতে কমেছে গমের চাষ।
কেন গম চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকগণ এমন প্রশ্ন নিয়ে গম চাষে বিমুখ অন্তত ২০ জন কৃষকের সাথে কথা বলেছে আমাদের প্রতিনিধি।

কৃষকরা জানান, গমের চেয়ে ভুট্টা ও আলু বেশি উৎপাদন হয়। তাই তারা গমের পরিবর্তে আলু ও আগাম ভুট্টা ও সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন। এছাড়াও বীজ সংকট, বীজ পেতে ভোগান্তি, বীজ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারনে চড়া দাম, গম ব্যবসায়ীদের অসাধু সিন্ডিকেট সরকারের নির্ধারিত দামে কৃষকদের অখুশি সহ নানা সমস্যা উঠে আসে কৃষকদের মুখ থেকে।

সদর উপজেলার আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে গম উৎপাদন খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি ৩০ মনের বেশি গম পাওয়া যায়না। এতে লাভ কম হয়। তাই আলু উত্তোলনের পর পরেই আগাম ভুট্টা চাষ করেছি। ভুট্টাতে একই খরচে বেশি ফলন পাওয়া যায় এবং দামও পাই।

রাণীশংকৈলের গোগর এলাকার কৃষক ইয়াসিন আলী বলেন, যেসব জমি আগে গমে ভরে থাকতো সেসব জমিতে এখন ভুট্টা সহ অন্যান্য ফসল ফলাচ্ছে কৃষকরা। আমি এ বছর ৫ বিঘা জমিতে গম আবাদ করছি। বীজ কিনতে যে ভোগান্তিতে পড়েছি আগামি বছর কম চাষের ইচ্ছে হবেনা। সরকার গম বীজের মূল্য নির্ধারণ করেছিল ৫৮ টাকা। কিন্তু সে বীজ আমাকে ডিলারদের কাছে কিনতে হয়েছে ৭৯-৭৫ টাকায়। তারপরেও বীজ পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সহজ ভাবে আমরা কৃষকরা কোন কিছুই পাইনা।

তবে ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউট এর সহকারি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনে করেন একজন কৃষক আলু উত্তোলণ করেই জমিতে গম চাষ করতে পারেন। গম কাটাইয়ের পর ভুট্টা চাষ করতে পারেন এবং একই জমিতে বরো ধান চাষ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে একজন কৃষক বেশি লাভবান হতে পারেন। আমরা কৃষকদের এ কথা বোঝানোর চেষ্টা করছি এবং বীজ উৎপাদনে তাদের সহযোগিতা করছি৷ তারা যেন নিজেরাই নিজেদের বীজ উৎপাদন করতে পারেন।

বিএডিসি কার্যালয়ের বীজ বিক্রয় ও বিতরণ কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, জেলাতে বিএডিসির ১৬১ জন বীজ পরিবেশক রয়েছেন। যাদেরকে এ বছর ৫৫৭ টন বীজ বরাদ্দ সহ বিএডিসির বুথ থেকে ৪০ টন বীজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

কৃষি অফিসের গম চাষের জমির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বীজের চাহিদা হেক্টর প্রতি ১২০ কেজি হলে ৫ হাজার ৩৬৪ টন বীজ। যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

এদিকে গমের চাষ ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার কারনে খাদ্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির শঙ্কা দেখছেন বিশ্লেষকগণ। তারা বলছেন, এভাবে গমের চাষ কমে গেলে দেশকে গমে আমদানি নির্ভর হয়ে যেতে হবে। ফলে খাদ্য পণ্যের ব্যপক দাম বাড়বে। ভুট্টা থেকে বেশিরভাগ গোবাদি পশুর খাদ্য উৎপাদন হয় আর গম থেকে মানুষের খাদ্য উৎপাদন হয়। তাই গম চাষে চাষীদের প্রণোদনা সহ গম চাষ বৃদ্ধিতে নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি মনে করেন তারা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বছরে এ জেলায় গমের চাহিদা ৪ হাজার ৮০০ টন। গত বছর প্রতি কেজি গম সরকার ২৮ টাকা দর নির্ধারণ করেন। এ দরে কৃষকদের অনিহার কারনে গম কিনতে পারেননি তারা। মাত্র ৪ টন গম কিনেছিলেন। সে সময় বাজারে গমের দর ছিল ৪২ টাকা। বর্তমানে খাদ্যগুদামে আমদানিকৃত গম মজুত রয়েছে মাত্র ৬১৫ টন ২৬১ কেজি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আব্দুল আজিজ বলেন, গমের চাষ কমেছে ঠাকুরগাঁওয়ে। তবে এসব জমিতে এখন সরিষা ও ভুট্টার চাষ হচ্ছে। জমি ফাঁকা নেই। সরিষার পরে কৃষকরা বোরো আবাদ করবে। কৃষকগণ জমি ফাঁকা রাখছেননা। কৃষকরা যে আবাদই করুক আমাদের সহযোগিতা থাকবে।