ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রায়গঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি পঞ্চগড়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সারওয়ার বকুল গ্রেপ্তার রাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগে সভাপতির কক্ষে তালা, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন রাজশাহীতে পেঁয়াজের বাজারে নজিরবিহীন দরপতন, চরম সংকটে কৃষক সাপাহার সীমান্তে নারী-শিশুসহ ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ বড়াইগ্রামে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগাতিপাড়ার অনুমোদনহীন যৌন উত্তেজক সামগ্রী বিক্রির বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা মান্দায় যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত পঞ্চগড়ে শেয়ালের কামড়ে শিশুসহ আহত ৯, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল: দেবীগঞ্জের পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় বদলি, গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি

ঝিনাইগাতীতে ফাকরাবাদ বাজারের পৌনে দুই একর সরকারি জমি অবৈধ দখলে

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর:
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫ ২৭৬ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝিনাইগাতীতে ফাকরাবাদ বাজারের পৌনে দুই একর সরকারি জমি অবৈধ দখলে

শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ৩নং নলকুড়া ইউনিয়নে দেশ স্বাধীনতার আগে মহারশি নদীর পার ঘেষে স্থাপন করা হয়েছিল সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর নামে বিডিআর ক্যাম্পের বাজার। ততকালীন ক্যাম্পের সরকারি কর্মকর্তা বিডিআর ফোর্স ও স্থানীয় এলাকাবাসীর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চাহিদা মেটাতে ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী একটি বাজার বসানো হয়েছিল। তাই সবার কাছে ক্যাম্পের বাজার নামে পরিচিত ছিল।

ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পের বাজারে স্বাধীনতার পূর্বে থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ এ বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যদি ক্রয়-বিক্রয় করতো। মহারশি নদী পথে যাতায়াতের সুবিধা হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকাররা এখান থেকে কৃষি পন্য সারাদেশে আমদানি রফতানি করতো।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির তোরে বাজারের কিছু অংশ জমিসহ বিডিআর ক্যাম্পটি মহারশি নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে যায়।পরে এলাকার নামানুসারে বাজারটি নাম রাখা হয় ফাকরাবাদ বাজার নামে পরিচিত হয়ে উঠে।কিন্তু কালের বিবর্তনে বাজারের জমিতে স্থানীয়রা স্থায়ী অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করে নেয় বাজারের পৌনে দুই একর সরকারি জমি। ফলে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে বাজারটি।আশির দশকের পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাজারে জায়গা না পেয়ে রাস্তার পাশে ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।এতে ব্যবসায়ীদের গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের জামানত ও মাসিক ভাড়া।

বাজারের ইজারাদার মোঃ সালাম বলেন, এই বাজারে ততকালীন প্রতিবছর ইজারা ডাক হতো ৬০ হাজার টাকা। আর এখন বছরে মাত্র ১৪ হাজার টাকা ইজারা ডাক হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অবঃ সেনা সদস্য মোঃ মজিবর রহমান বলেন,আমার বাপ-দাদার আমলে এই বাজারে গরু মহিষ ছাগল ভেড়া হাস মুরগী ধান চাউলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেচাকেনার ঐতিহাসিক বাজার হিসেবে পরিচিত ছিল।কিন্তু বর্তমানে বাজারের সমুদয় জায়গা অবৈধ দখলদাররা দখল করে নিয়েছে। তারা নিজেরাও ব্যবসা করেনা এবং কি অন্যকেও ব্যবসা করতে দেয়না।অবৈধভাবে ঘর করে দিচ্ছে মাসিক হারে ভাড়া। তাই সরকার প্রতিবছর মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, যদি সরকার অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে বাজারের জায়গা উদ্ধার করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মাঝে বরাদ্দ দেয়। তাহলে বাজারটি সচল হওয়ার পাশাপাশি বছরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঝিনাইগাতীতে ফাকরাবাদ বাজারের পৌনে দুই একর সরকারি জমি অবৈধ দখলে

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫

ঝিনাইগাতীতে ফাকরাবাদ বাজারের পৌনে দুই একর সরকারি জমি অবৈধ দখলে

শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ৩নং নলকুড়া ইউনিয়নে দেশ স্বাধীনতার আগে মহারশি নদীর পার ঘেষে স্থাপন করা হয়েছিল সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর নামে বিডিআর ক্যাম্পের বাজার। ততকালীন ক্যাম্পের সরকারি কর্মকর্তা বিডিআর ফোর্স ও স্থানীয় এলাকাবাসীর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চাহিদা মেটাতে ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী একটি বাজার বসানো হয়েছিল। তাই সবার কাছে ক্যাম্পের বাজার নামে পরিচিত ছিল।

ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পের বাজারে স্বাধীনতার পূর্বে থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ এ বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যদি ক্রয়-বিক্রয় করতো। মহারশি নদী পথে যাতায়াতের সুবিধা হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকাররা এখান থেকে কৃষি পন্য সারাদেশে আমদানি রফতানি করতো।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির তোরে বাজারের কিছু অংশ জমিসহ বিডিআর ক্যাম্পটি মহারশি নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে যায়।পরে এলাকার নামানুসারে বাজারটি নাম রাখা হয় ফাকরাবাদ বাজার নামে পরিচিত হয়ে উঠে।কিন্তু কালের বিবর্তনে বাজারের জমিতে স্থানীয়রা স্থায়ী অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করে নেয় বাজারের পৌনে দুই একর সরকারি জমি। ফলে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে বাজারটি।আশির দশকের পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাজারে জায়গা না পেয়ে রাস্তার পাশে ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।এতে ব্যবসায়ীদের গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের জামানত ও মাসিক ভাড়া।

বাজারের ইজারাদার মোঃ সালাম বলেন, এই বাজারে ততকালীন প্রতিবছর ইজারা ডাক হতো ৬০ হাজার টাকা। আর এখন বছরে মাত্র ১৪ হাজার টাকা ইজারা ডাক হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অবঃ সেনা সদস্য মোঃ মজিবর রহমান বলেন,আমার বাপ-দাদার আমলে এই বাজারে গরু মহিষ ছাগল ভেড়া হাস মুরগী ধান চাউলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেচাকেনার ঐতিহাসিক বাজার হিসেবে পরিচিত ছিল।কিন্তু বর্তমানে বাজারের সমুদয় জায়গা অবৈধ দখলদাররা দখল করে নিয়েছে। তারা নিজেরাও ব্যবসা করেনা এবং কি অন্যকেও ব্যবসা করতে দেয়না।অবৈধভাবে ঘর করে দিচ্ছে মাসিক হারে ভাড়া। তাই সরকার প্রতিবছর মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, যদি সরকার অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে বাজারের জায়গা উদ্ধার করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মাঝে বরাদ্দ দেয়। তাহলে বাজারটি সচল হওয়ার পাশাপাশি বছরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।