জামায়াতকর্মী হ/ত্যা মা’মলার প্রধান আসামি এমপির গাড়িবহরে, পু/লিশ বলছে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না
- আপডেট সময় : ০৪:৪০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ২৯৯ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতকর্মী হ/ত্যা মা’মলার প্রধান আসামি এমপির গাড়িবহরে, পু/লিশ বলছে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না
মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে ইফতার মাহফিলে অংশ; আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন জামায়াত নেতাদের
রাজশাহীর মোহনপুরে জামায়াতকর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাইসুল ইসলাম রাসেলকে স্থানীয় বিএনপি সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের গাড়িবহরের সঙ্গে দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঢাকা থেকে রাজশাহীতে ফেরার সময় রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি শফিকুল হক মিলনকে বিমানবন্দরে রিসিভ করেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাইসুল ইসলাম। পরে এমপির গাড়িবহরের সঙ্গে তিনি মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে কেশরহাট পৌর বিএনপির আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।
জানা গেছে, ওই ইফতার মাহফিলে হত্যা মামলার অন্য আসামিরাও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
গত ৭ মার্চ মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার সাঁকোয়া এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াতকর্মী ও উপজেলা মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন (৬৫) নিহত হন। ঈদের নামাজে ইমামতি কে করবেন—এ বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে এমরান আলী বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বর আসামি রাইসুল ইসলাম রাসেল, যিনি কেশরহাট পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এবং বর্তমানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি তানোরের সরনজাই কলেজের প্রভাষক হিসেবেও কর্মরত।
জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী বিমানবন্দরে এমপি শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে রাইসুল ইসলামের একটি সেলফি তোলা হয়। পরে তিনি সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে লেখেন, “এয়ারপোর্টে ভাইকে রিসিভ করলাম, এরপর কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা।” পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে তিনি ফেসবুক থেকে ছবিগুলো মুছে দেন।
কেশরহাট পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোখলেসুর রহমান বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন এবং এমপির সঙ্গে ইফতার মাহফিলে অংশ নিচ্ছেন—এটা দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ যদি আসামিদের খুঁজে না পায়, তাহলে তারা প্রকাশ্যে কীভাবে চলাফেরা করছেন?
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাইসুল ইসলাম বলেন, মামলায় এখনো তিনি জামিন নেননি। তবে হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার আশায় আছেন। পরে তিনি এ ঘটনায় ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সম্প্রতি বদলি হওয়ায় বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মোদাস্বের হোসেন খান। তিনি বলেন, “আসামিদের জামিনের কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।”
তবে বিমানবন্দর ও ইফতার মাহফিলে আসামিদের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিমানবন্দর মোহনপুর থানার আওতাধীন নয় এবং ইফতার মাহফিলে আসামিরা উপস্থিত ছিলেন কি না সে বিষয়ে তার কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই।
অন্যদিকে এমপি শফিকুল হক মিলন দাবি করেছেন, জামায়াতকর্মী আলাউদ্দিনের মৃত্যু স্ট্রোকে হয়েছে। তিনি বলেন, “রাইসুল এয়ারপোর্টে গেছে তো কী হয়েছে? হত্যা মামলাটা সঠিক নয়। আগে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসুক, তারপর সব পরিষ্কার হবে।”




















