ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নর-সুন্দর শ্রমিক ইউনিয়নে সভাপতি পদে দুই সহোদর ভাইয়ের লড়াই গোদাগাড়ীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত লোকসানের ধাক্কায় রাজশাহীতে বন্ধ হচ্ছে পোলট্রি খামার পঞ্চগড়ে তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ শুরু নাটোরে শিল্পপতির একমাত্র ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত, দাফন সম্পূর্ণ ঝিনাইগাতীতে ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত বড়াইগ্রামে সংযোগের দুই দিনের মাথায় ৩ ট্রান্সফরমার চুরি, সেচ সংকটে বড়াইগ্রামের কৃষক সিংড়ায় বালুবোঝাই ট্রাকের পেছনে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ এগ্রো’র কর্মচারীর মৃত্যু, চালক আহত রায়গঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি পঞ্চগড়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সারওয়ার বকুল গ্রেপ্তার

চাটমোহরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ; তদন্ত কমিটি গঠন!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৭:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩ ২৪৯ বার পড়া হয়েছে

চাটমোহরের চকউথুলী শাহ চেতন (রঃ) দাখিল মাদ্রাসা

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চাটমোহরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ; তদন্ত কমিটি গঠন!

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধিঃ
চাটমোহরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ; তদন্ত কমিটি গঠন! পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনয়নের চকউথুলী শাহ চেতন (রঃ) দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ হুজ্জাতুল্লাহ’র বিরুদ্ধে সরকারি বই বিক্রি সহ নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার এই অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গত ২৩ মে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার সুপার মো. হুজ্জাতুল্লাহ সহ তার সহযোগী দুই একজন শিক্ষক মিলে একচ্ছত্রভাবে কোন জবাবদিহীতা ছাড়াই মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে নানা অনিয়ম-দূর্ণীতি করে আসছেন। পরিচালনা কমিটির নির্বাচিত সভাপতি থাকলেও, তাদেরকে কোন বিষয়ে অবহিত করেন না মাদ্রাসার সুপার। এমনকি মাসিক সভাও করেন না। মাদ্রাসার সুপার ও কিছু শিক্ষক নিয়মিত মাদ্রাসায় না এসেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। ইবতেদায়ী শাখায় কোন শিক্ষার্থী না থাকলেও, ভুয়া শিক্ষার্থী কাগজে কলমে দেখিয়ে বই উত্তোলন করে সেই বই প্রতি বছর বিক্রি করে টাকা পকেটস্থ করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মাদ্রাসায় নিরাপত্তা প্রহরী ও কৃষি শিক্ষা পদে নিয়োগ দিয়ে ১৪ লাখ টাকা নিয়ে নামমাত্র উন্নয়নের নামে খরচ দেখিয়ে সুপার সহ কয়েকজন শিক্ষক সমস্ত টাকা পকেটস্থ করেছেন। মাদ্রাসা প্রাঙ্গনের বেশকিছু বড় বড় মেহগনী গাছ বিক্রি করে সমস্ত টাকা সুপার আত্মসাত করেছেন। এমন বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দূর্ণীতির বিষয় বুঝতে পেরে মাদ্রসার সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম সুপারকে মিটিং ডাকার জন্য বারবার তাগাদা দিলেও তিনি নিজের দুর্বলতার কথা ভেবে মিটিং ডাকা থেকে বিরত থাকছেন। মাদ্রাসা সুপার পরিচালনা কমিটি মানেন না বলেও বিভিন্ন মহলে বলে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগে রয়েছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসার সুপার মওলানা মোঃ হুজ্জাতুল্লাহ মাদ্রাসার বই বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সভাপতি হিসেবে তাকে মানেন না। ১ম থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থী নেই। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতিদিন ১৫/২০ জন হাজির থাকেন। সুপারের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মাদ্রাসাটি আজ ধ্বংসের মুখে। শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ সুপারের কারণেই। সুপারের স্ত্রীও এই মাদ্রাসায় চাকুরি করেন।

মাদ্রাসার অফিস সহকারী আব্দুল মান্নান বলেন, সুপার নিজের ইচ্ছেমতোই সবকিছু করেন। কাউকে মানেন না। বই বিক্রি করে টাকা পকেটে তুলেছেন। শিক্ষার্থীর তুলানায় প্রতি বছর বেশি বইয়ের চাহিদা দিয়ে, পরে তা বিক্রি করে দেন।

কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি মঞ্জুর রহমান অভিযোগ করেন, সুপার শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ তৈরি করেছেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছেন। তিনি মাদ্রাসার সুপারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মারপিটের অভিযোগ এনে গত মাসে থানায় একটি জিডিও করেছেন বলে জানান।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মওলানা মোঃ হুজ্জাতুল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনদিন কখনও বই বিক্রি করিনি। মাদ্রাসার অফিস সহকারী আব্দুল মান্নান নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না। এটা বলার কারণেই আমার বিরুদ্ধে এ ধরণের মিথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষক মঞ্জুর রহমানকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি তার জানা নেই। তার কাছে কোন অভিযোগ না করে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।

এবতেদায়ী শাখার শিক্ষার্থী কম বলে দাবি করে মোঃ হুজ্জাতুল্লাহ জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তি দেওয়া হয়। মাদ্রাসায় দেওয়া হয়না, তাই শিক্ষার্থী পাওয়া যায়না। দাখিল শাখায় যথেষ্ট শিক্ষার্থী আছে বলে তার দাবি। আর যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ মহল বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত সোমবার (৫ জুন) উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে। তাকে আগামী দশ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিধি মতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাটমোহরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ; তদন্ত কমিটি গঠন!

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩

চাটমোহরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ; তদন্ত কমিটি গঠন!

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধিঃ
চাটমোহরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ; তদন্ত কমিটি গঠন! পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনয়নের চকউথুলী শাহ চেতন (রঃ) দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ হুজ্জাতুল্লাহ’র বিরুদ্ধে সরকারি বই বিক্রি সহ নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার এই অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গত ২৩ মে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার সুপার মো. হুজ্জাতুল্লাহ সহ তার সহযোগী দুই একজন শিক্ষক মিলে একচ্ছত্রভাবে কোন জবাবদিহীতা ছাড়াই মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে নানা অনিয়ম-দূর্ণীতি করে আসছেন। পরিচালনা কমিটির নির্বাচিত সভাপতি থাকলেও, তাদেরকে কোন বিষয়ে অবহিত করেন না মাদ্রাসার সুপার। এমনকি মাসিক সভাও করেন না। মাদ্রাসার সুপার ও কিছু শিক্ষক নিয়মিত মাদ্রাসায় না এসেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। ইবতেদায়ী শাখায় কোন শিক্ষার্থী না থাকলেও, ভুয়া শিক্ষার্থী কাগজে কলমে দেখিয়ে বই উত্তোলন করে সেই বই প্রতি বছর বিক্রি করে টাকা পকেটস্থ করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মাদ্রাসায় নিরাপত্তা প্রহরী ও কৃষি শিক্ষা পদে নিয়োগ দিয়ে ১৪ লাখ টাকা নিয়ে নামমাত্র উন্নয়নের নামে খরচ দেখিয়ে সুপার সহ কয়েকজন শিক্ষক সমস্ত টাকা পকেটস্থ করেছেন। মাদ্রাসা প্রাঙ্গনের বেশকিছু বড় বড় মেহগনী গাছ বিক্রি করে সমস্ত টাকা সুপার আত্মসাত করেছেন। এমন বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দূর্ণীতির বিষয় বুঝতে পেরে মাদ্রসার সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম সুপারকে মিটিং ডাকার জন্য বারবার তাগাদা দিলেও তিনি নিজের দুর্বলতার কথা ভেবে মিটিং ডাকা থেকে বিরত থাকছেন। মাদ্রাসা সুপার পরিচালনা কমিটি মানেন না বলেও বিভিন্ন মহলে বলে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগে রয়েছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসার সুপার মওলানা মোঃ হুজ্জাতুল্লাহ মাদ্রাসার বই বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সভাপতি হিসেবে তাকে মানেন না। ১ম থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থী নেই। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতিদিন ১৫/২০ জন হাজির থাকেন। সুপারের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মাদ্রাসাটি আজ ধ্বংসের মুখে। শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ সুপারের কারণেই। সুপারের স্ত্রীও এই মাদ্রাসায় চাকুরি করেন।

মাদ্রাসার অফিস সহকারী আব্দুল মান্নান বলেন, সুপার নিজের ইচ্ছেমতোই সবকিছু করেন। কাউকে মানেন না। বই বিক্রি করে টাকা পকেটে তুলেছেন। শিক্ষার্থীর তুলানায় প্রতি বছর বেশি বইয়ের চাহিদা দিয়ে, পরে তা বিক্রি করে দেন।

কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি মঞ্জুর রহমান অভিযোগ করেন, সুপার শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ তৈরি করেছেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছেন। তিনি মাদ্রাসার সুপারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মারপিটের অভিযোগ এনে গত মাসে থানায় একটি জিডিও করেছেন বলে জানান।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মওলানা মোঃ হুজ্জাতুল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনদিন কখনও বই বিক্রি করিনি। মাদ্রাসার অফিস সহকারী আব্দুল মান্নান নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না। এটা বলার কারণেই আমার বিরুদ্ধে এ ধরণের মিথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষক মঞ্জুর রহমানকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি তার জানা নেই। তার কাছে কোন অভিযোগ না করে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।

এবতেদায়ী শাখার শিক্ষার্থী কম বলে দাবি করে মোঃ হুজ্জাতুল্লাহ জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তি দেওয়া হয়। মাদ্রাসায় দেওয়া হয়না, তাই শিক্ষার্থী পাওয়া যায়না। দাখিল শাখায় যথেষ্ট শিক্ষার্থী আছে বলে তার দাবি। আর যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ মহল বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত সোমবার (৫ জুন) উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে। তাকে আগামী দশ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিধি মতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।