আশাশুনিতে যৌথবাহিনীর মারধরের অভিযোগে যুবকের মৃত্যু, উত্তপ্ত এলাকা
- আপডেট সময় : ০৬:১১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ ২৪৪ বার পড়া হয়েছে

আশাশুনিতে যৌথবাহিনীর মারধরের অভিযোগে যুবকের মৃত্যু, উত্তপ্ত এলাকা
সাতক্ষীরার কাকবাশিয়ায় টহলের সময় মোটরসাইকেল আরোহীদের মারধরের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাকবাশিয়ায় যৌথবাহিনীর টহলের সময় তিনজন মোটরসাইকেল আরোহীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইসমাইল হোসেন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অসুস্থ মায়ের ওষুধ কিনতে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলে কাকবাশিয়া বাজারে যান ইসমাইল হোসেন ও তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন। ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরার পথে বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে পড়লে তাদের তিনজনকেই মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
মারধরের একপর্যায়ে ইসমাইল হোসেন ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত স্থানীয় চিকিৎসক ডা. পলাশের কাছে নিয়ে গেলে তিনি ইসমাইলকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইসমাইল হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শত শত এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন এবং রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
স্থানীয় আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস জানান, নিহতের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং পুলিশ ও প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার আশাশুনি সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন সাজিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”
শুক্রবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিহত ইসমাইল হোসেনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত বোর্ডে থাকা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. নাসির উদ্দীন জানান, মরদেহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হচ্ছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার দুপুরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে ইসমাইল হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহতের জানাজায় অংশ নেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক ডা. শহিদুল আলম এবং জামায়াতে ইসলামের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।



















