পঞ্চগড়ে বারুণী স্নানের শেষ দিনে পুণ্যার্থীদের ঢল
- আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ ২৪৬ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে বারুণী স্নানের শেষ দিনে পুণ্যার্থীদের ঢল
করতোয়া নদীর তীরে তিনদিনের ধর্মীয় আয়োজনে দেশজুড়ে ভক্তদের সমাগম
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের বোয়ালমারী এলাকায় করতোয়া নদীর তীরে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বারুণী মহাস্নানের শেষ দিনে পুণ্যার্থীদের ব্যাপক ঢল নেমেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরের আলো ফুটতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পুণ্যার্থী, সাধু ও সন্ন্যাসীরা দলে দলে নদীর পাড়ে জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা করতোয়া নদীর উত্তরমুখী স্রোতে পুণ্যস্নানে অংশ নেন।
উৎসবে আগত ভক্তরা জানান, চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণ ত্রিদশী তিথিতে টানা তিন দিন উত্তরমুখী স্রোতে স্নান করলে পাপ মোচন হয়—এমন বিশ্বাস থেকেই তারা এখানে আসেন। দেহ ও মন পরিশুদ্ধ করতে অনেকেই মাথার চুল বিসর্জন দেন এবং পূজা-অর্চনা করেন।
স্নানমন্ত্র পাঠ করে ভক্তরা বেল পাতা, ফুল, ধান, দূর্বা ঘাস, হরিতকি, কাঁচা আম, ডাব ও কলা অর্পণের মাধ্যমে স্নান সম্পন্ন করেন। কোলের শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষ এই পুণ্যস্নানে অংশ নেন। পর্দানশীল নারীদের জন্যও আলাদা স্নানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার এলাকার মানিক রায় বলেন, “প্রতি বছর এখানে আসি। চুল-দাড়ি কাটার পর পুণ্যস্নান করি। এতে পাপ মোচন হয় বলে বিশ্বাস করি।”
ডোকরোপাড়া মহল্লার নরসুন্দর ননি গোপাল জানান, “প্রতিবছর আমরা এখানে এসে ভক্তদের চুল-দাড়ি কাটার সেবা দিই।”
ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দর এলাকার শ্রী অরুণ রায় বলেন, “প্রথমবারের মতো এসেছি। বাবা-মায়ের আত্মার শান্তি কামনায় স্নান ও চুল বিসর্জন দিয়েছি।”
স্নান উৎসব আয়োজক কমিটির সভাপতি ওপেনন্দ্রনাথ বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই প্রতি বছর অসংখ্য পুণ্যার্থী এখানে সমবেত হন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি বছর মেলার ইজারা দেওয়া হয় এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়।
মঙ্গলবার সূর্যোদয় থেকে শুরু হওয়া এ পুণ্যস্নান বৃহস্পতিবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।




















