স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীর ঘিরে ব্যবস্যা প্রতিষ্টান; ভোগান্তির চরমে রোগী সহ পথচারী!
- আপডেট সময় : ০২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ নভেম্বর ২০২২ ২১০ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীর ঘিরে ব্যবস্যা প্রতিষ্টান; ভোগান্তির চরমে রোগী সহ পথচারী!
নাজমুল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীর ঘিরে ব্যবস্যা প্রতিষ্টান; ভোগান্তির চরমে রোগী সহ পথচারী! ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ফুটপাতে গড়ে উঠেছে অবৈধ মার্কেট। এতে রাণীশংকৈল-হরিপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায়ই যানজট দেখা দিচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের এক পাশে থানার প্রাচীর এবং অন্য পাশে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইটের সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীরঘেঁষা ফুটপাতে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২০টি দোকান বসেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীরসংলগ্ন মহাসড়ক মোড়ের ফুটপাতে উজ্জ্বল নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল মেকানিকের দোকান বসিয়েছেন। তিনি দোকানে মোটরসাইকেল মেরামত করতে আসা গাড়িগুলো এমনভাবে রেখেছেন, যাতে গাড়িগুলো মহাসড়কের ওপর থাকছে।
একইভাবে মাহাবুব ও ইসমাইল হোসেনের ফলমূলের দোকান মহাসড়ক ঘেঁষে বসানো হয়েছে। এতে তাঁদের দোকানের সামনে ক্রেতা দাঁড়ালে তাঁকে মহাসড়কের ওপরেই গাড়ি পার্ক করে দাঁড়াতে হয়। এভাবে মহাসড়কের কাছাকাছি দোকান বসিয়ে ব্যবসা করার কারণে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে।
ফুটপাতে ভলকানাইজিংয়ের দোকান দেওয়া প্রসঙ্গে উজ্জ্বল আলী বলেন, ‘সবাই এই ফুটপাতে দোকান বসিয়েছে। এ জন্য আমিও বসিয়েছি। আর মাঝে মাঝে গাড়ির ভিড় লাগলে গাড়িগুলো একটু রাস্তার ওপরে পড়ে, এটা সত্য।’
ফল ব্যবসায়ী ইসমাইল ও মাহাবুব বলেন, ‘অন্য দোকানদারেরা ঘরের চেয়ে বারান্দা বাড়িয়েছিল। এতে আমাদের দোকান ঢাকা পড়ে যায়। তাই আমরাও বাড়িয়েছি। সবাই পেছালে আমরাও পিছিয়ে নেব।’
উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রাম থেকে থানায় একটি কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছিলেন জবদুল মিয়া। তিনি থানায় প্রবেশের আগে থানার সামনে একটু মোটরসাইকেলটি থামাবেন এমন ফুটপাত পাচ্ছিলেন না বলে প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফুটপাতের দোকান একেবারে মহাসড়কের ওপরে চলে এসেছে। এগুলো নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।
স্থানীয় পথচারী সুমন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা কবির বলেন, এই মহাসড়কে ফুটপাত একেবারে নেই। এক সঙ্গে বড় দুটি গাড়ি ক্রসিং হলে মহাসড়কের পাশে দাঁড়ানোর মতো জায়গা নেই। দোকানপাটে ভরে গেছে। এতে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবৈধভাবে মার্কেট গড়ে উঠেছে। অবৈধভাবে মার্কেটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবৈধ মার্কেটের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রোগী ও পথচারীদের সুবিধার্থে ওই মার্কেট উচ্ছেদ করা হবে। আর জায়গা থাকলে ছোট ছোট করে দোকান বসিয়ে দেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, প্রকৃতপক্ষে ফুটপাতের জমির মালিকানা নিয়ে একটু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই করে দেখা হবে জমির মালিকানা কার, জেলা পরিষদের, না স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের, না সরকারি খাস খতিয়ানের। মালিক নির্ণয় করেই অবৈধ মার্কেটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















