ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৫ বছরেও নিজস্ব ভবন পায়নি পুঠিয়া পৌরসভা, ভাড়া ভবনেই চলছে কার্যক্রম অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল আনোয়ারায় কেইপিজেডের বৃষ্টির ঢলে মেরিন একাডেমি সড়ক বিচ্ছিন্ন, তলিয়ে গেছে সিইউএফএল সড়ক তিন দিনের টানা বর্ষণে পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম, জনজীবন বিপর্যস্ত বাগাতিপাড়ায় খালের মাটি নিয়ে বিএনপির দুই নেতার দ্বন্দ্ব, মারধরের অভিযোগ বাগাতিপাড়ায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকার ড্রেন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন, সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা ক্যান্সার আক্রান্ত নারীকে ধ র্ষ ণ চেষ্টার মামলার পলাতক আসামি ঢাকায় আটক প্রথমবারের মতো রাণীনগরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মান্দায় খালে গোসলের সময় পানিতে পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল

এম এম মামুনঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:০১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

Rajshahi news

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল

একসময় রাজশাহী নগরীর অলিগলি ও সড়কের মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঢোপকল ছিল বিশুদ্ধ পানির নির্ভরযোগ্য উৎস। নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা এই স্থাপনাগুলো আজ সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যেতে বসেছে। অযত্ন, অবহেলা ও নগর উন্নয়ন কার্যক্রমের চাপে একে একে বিলীন হচ্ছে রাজশাহীর প্রায় নয় দশকের ঐতিহ্য বহনকারী এসব ঢোপকল।

১৯৩৭ সালে তৎকালীন রাজশাহী পৌরসভার চেয়ারম্যান রাইটিন দাশগুপ্তের উদ্যোগে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানীয় পানির ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সে সময় বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে কলেরা, আমাশয়সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল। এই সংকট মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠা করা হয় আধুনিক পানি শোধন ও সরবরাহ ব্যবস্থা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তৎকালীন মিনিস্ট্রি অব ক্যালকাটার অধীনে প্রায় আড়াই লাখ টাকার বেশি ব্যয় করা হয়। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা আহ্বান করা হলে মহারানী হেমন্ত কুমারী এককভাবে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা অনুদান দেন। তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পানি সরবরাহ ব্যবস্থাটির নাম রাখা হয় হেমন্ত কুমারী ওয়াটার ওয়ার্কস। পরবর্তীতে এটি ‘হেমন্ত কুমারী ঢোপকল’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

সেই সময় রাজশাহী শহরের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ঢোপকল স্থাপন করা হয়। পানি শোধনাগারে একাধিক ধাপে পানি বিশুদ্ধ করার পর পাথরকুচির ফিল্টারের মাধ্যমে তা সিমেন্টের তৈরি মোটা পাইপে করে ঢোপকলগুলোতে সরবরাহ করা হতো। প্রতিটি ঢোপকলের ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ৪৭০ গ্যালন। এতে থাকা রাফিং ফিল্টারের কারণে পানি আরও পরিশোধিত হয়ে বের হতো এবং গ্রীষ্মকালেও তা তুলনামূলক ঠান্ডা থাকত।

প্রতিদিন মাত্র দুই ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হলেও ঢোপকলগুলোতে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষিত থাকায় দিনভর মানুষ প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে পারতেন। প্রতি দুই মাস অন্তর ঢোপকল পরিষ্কার করা হতো। উপরের ঢাকনা খুলে ভেতরে নেমে ব্লিচিং পাউডারসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হতো। একই সঙ্গে নিয়মিত পানির নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে এর মানও পরীক্ষা করা হতো।

প্রায় ১২ ফুট উঁচু ও চার ফুট ব্যাসের এসব ঢোপকল শক্ত সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে নির্মিত ছিল। ঢেউখেলানো নকশার কারণে এগুলো যেমন দৃষ্টিনন্দন ছিল, তেমনি ছিল অত্যন্ত টেকসই। দীর্ঘ সময় ধরে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও অনেক ঢোপকল অক্ষত রয়েছে।

তবে আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার বিস্তার, সড়ক সম্প্রসারণ ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে অধিকাংশ ঢোপকল আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যেগুলো টিকে আছে, সেগুলোরও অনেকগুলো ভাঙাচোরা ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে রাজশাহীর এই ঐতিহাসিক নিদর্শন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

রাজশাহীর ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠন ‘রাজশাহী হেরিটেজ’-এর সমন্বয়ক আবদুল মান্নান বলেন, “ঢোপকল শুধু একটি পানির আধার নয়; এটি রাজশাহীর নগর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। অথচ দীর্ঘদিনের অবহেলায় এসব স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে এগুলো সংরক্ষণ করে নগর ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও গবেষক এস. এম. তাহমিদ হাসান বলেন, “ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল শুধু একটি পুরোনো পানির উৎস নয়; এটি আমাদের জলসভ্যতার প্রত্নস্মারক এবং ইতিহাস, প্রযুক্তি ও জনকল্যাণমূলক নেতৃত্বের এক অনন্য সাক্ষ্য। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজশাহীর নগর সভ্যতার বিকাশের ইতিহাস।”

তিনি বলেন, “উন্নয়নের সঙ্গে ঐতিহ্য সংরক্ষণের সমন্বয় করতে হবে। ঢোপকল রক্ষা করা মানে শুধু একটি স্থাপনা সংরক্ষণ নয়; বরং রাজশাহীর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও ইতিহাসকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।”

রাজশাহী ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তৌহিদুর রহমান জানান, ঢোপকল সংরক্ষণে বর্তমানে কোনো পৃথক প্রকল্প নেই।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক কে এম সাইফুর রহমান বলেন, ছোট আকারের স্থাপনা হওয়ায় এগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে গেজেটভুক্ত করা কিছুটা জটিল। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, সড়ক উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনে নগরীর কয়েকটি স্থানের ঢোপকল স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে রাজশাহীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে এগুলো নতুনভাবে স্থাপন ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহীর ইতিহাসের নীরব সাক্ষী এই ঢোপকলগুলো কেবল একটি পুরোনো পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নয়; এগুলো একটি সময়ের জনস্বাস্থ্য, নগর পরিকল্পনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতীক। সময় থাকতে যথাযথ সংরক্ষণ না হলে রাজশাহীর এই অনন্য ঐতিহ্য একদিন শুধুই ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল

আপডেট সময় : ০৮:০১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল

একসময় রাজশাহী নগরীর অলিগলি ও সড়কের মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঢোপকল ছিল বিশুদ্ধ পানির নির্ভরযোগ্য উৎস। নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা এই স্থাপনাগুলো আজ সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যেতে বসেছে। অযত্ন, অবহেলা ও নগর উন্নয়ন কার্যক্রমের চাপে একে একে বিলীন হচ্ছে রাজশাহীর প্রায় নয় দশকের ঐতিহ্য বহনকারী এসব ঢোপকল।

১৯৩৭ সালে তৎকালীন রাজশাহী পৌরসভার চেয়ারম্যান রাইটিন দাশগুপ্তের উদ্যোগে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানীয় পানির ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সে সময় বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে কলেরা, আমাশয়সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল। এই সংকট মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠা করা হয় আধুনিক পানি শোধন ও সরবরাহ ব্যবস্থা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তৎকালীন মিনিস্ট্রি অব ক্যালকাটার অধীনে প্রায় আড়াই লাখ টাকার বেশি ব্যয় করা হয়। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা আহ্বান করা হলে মহারানী হেমন্ত কুমারী এককভাবে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা অনুদান দেন। তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পানি সরবরাহ ব্যবস্থাটির নাম রাখা হয় হেমন্ত কুমারী ওয়াটার ওয়ার্কস। পরবর্তীতে এটি ‘হেমন্ত কুমারী ঢোপকল’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

সেই সময় রাজশাহী শহরের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ঢোপকল স্থাপন করা হয়। পানি শোধনাগারে একাধিক ধাপে পানি বিশুদ্ধ করার পর পাথরকুচির ফিল্টারের মাধ্যমে তা সিমেন্টের তৈরি মোটা পাইপে করে ঢোপকলগুলোতে সরবরাহ করা হতো। প্রতিটি ঢোপকলের ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ৪৭০ গ্যালন। এতে থাকা রাফিং ফিল্টারের কারণে পানি আরও পরিশোধিত হয়ে বের হতো এবং গ্রীষ্মকালেও তা তুলনামূলক ঠান্ডা থাকত।

প্রতিদিন মাত্র দুই ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হলেও ঢোপকলগুলোতে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষিত থাকায় দিনভর মানুষ প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে পারতেন। প্রতি দুই মাস অন্তর ঢোপকল পরিষ্কার করা হতো। উপরের ঢাকনা খুলে ভেতরে নেমে ব্লিচিং পাউডারসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হতো। একই সঙ্গে নিয়মিত পানির নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে এর মানও পরীক্ষা করা হতো।

প্রায় ১২ ফুট উঁচু ও চার ফুট ব্যাসের এসব ঢোপকল শক্ত সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে নির্মিত ছিল। ঢেউখেলানো নকশার কারণে এগুলো যেমন দৃষ্টিনন্দন ছিল, তেমনি ছিল অত্যন্ত টেকসই। দীর্ঘ সময় ধরে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও অনেক ঢোপকল অক্ষত রয়েছে।

তবে আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার বিস্তার, সড়ক সম্প্রসারণ ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে অধিকাংশ ঢোপকল আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যেগুলো টিকে আছে, সেগুলোরও অনেকগুলো ভাঙাচোরা ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে রাজশাহীর এই ঐতিহাসিক নিদর্শন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

রাজশাহীর ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠন ‘রাজশাহী হেরিটেজ’-এর সমন্বয়ক আবদুল মান্নান বলেন, “ঢোপকল শুধু একটি পানির আধার নয়; এটি রাজশাহীর নগর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। অথচ দীর্ঘদিনের অবহেলায় এসব স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে এগুলো সংরক্ষণ করে নগর ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও গবেষক এস. এম. তাহমিদ হাসান বলেন, “ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল শুধু একটি পুরোনো পানির উৎস নয়; এটি আমাদের জলসভ্যতার প্রত্নস্মারক এবং ইতিহাস, প্রযুক্তি ও জনকল্যাণমূলক নেতৃত্বের এক অনন্য সাক্ষ্য। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজশাহীর নগর সভ্যতার বিকাশের ইতিহাস।”

তিনি বলেন, “উন্নয়নের সঙ্গে ঐতিহ্য সংরক্ষণের সমন্বয় করতে হবে। ঢোপকল রক্ষা করা মানে শুধু একটি স্থাপনা সংরক্ষণ নয়; বরং রাজশাহীর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও ইতিহাসকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।”

রাজশাহী ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তৌহিদুর রহমান জানান, ঢোপকল সংরক্ষণে বর্তমানে কোনো পৃথক প্রকল্প নেই।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক কে এম সাইফুর রহমান বলেন, ছোট আকারের স্থাপনা হওয়ায় এগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে গেজেটভুক্ত করা কিছুটা জটিল। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, সড়ক উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনে নগরীর কয়েকটি স্থানের ঢোপকল স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে রাজশাহীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে এগুলো নতুনভাবে স্থাপন ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহীর ইতিহাসের নীরব সাক্ষী এই ঢোপকলগুলো কেবল একটি পুরোনো পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নয়; এগুলো একটি সময়ের জনস্বাস্থ্য, নগর পরিকল্পনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতীক। সময় থাকতে যথাযথ সংরক্ষণ না হলে রাজশাহীর এই অনন্য ঐতিহ্য একদিন শুধুই ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।