ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৫ বছরেও নিজস্ব ভবন পায়নি পুঠিয়া পৌরসভা, ভাড়া ভবনেই চলছে কার্যক্রম অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল আনোয়ারায় কেইপিজেডের বৃষ্টির ঢলে মেরিন একাডেমি সড়ক বিচ্ছিন্ন, তলিয়ে গেছে সিইউএফএল সড়ক তিন দিনের টানা বর্ষণে পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম, জনজীবন বিপর্যস্ত বাগাতিপাড়ায় খালের মাটি নিয়ে বিএনপির দুই নেতার দ্বন্দ্ব, মারধরের অভিযোগ বাগাতিপাড়ায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকার ড্রেন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন, সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা ক্যান্সার আক্রান্ত নারীকে ধ র্ষ ণ চেষ্টার মামলার পলাতক আসামি ঢাকায় আটক প্রথমবারের মতো রাণীনগরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মান্দায় খালে গোসলের সময় পানিতে পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

তিন দিনের টানা বর্ষণে পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম, জনজীবন বিপর্যস্ত

মোহাম্মদ মাসুদ, চট্টগ্রামঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

Chottogram news pic

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তিন দিনের টানা বর্ষণে পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম, জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রায় তিন দশক ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও চট্টগ্রাম মহানগরের স্থায়ী সমাধান হয়নি। অপরিকল্পিত নগরায়ন, সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা, খাল দখল, দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অতিবৃষ্টি ও জোয়ারে এখনও নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে সোমবার ও মঙ্গলবার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নগরীর আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, কাপাসগোলা, রামপুর, মাদারবাড়ি, বাটালি রোড, আরাকান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়, বহু এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। একই সময়ে আমবাগান কেন্দ্রে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে আরও কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে পতেঙ্গা বিমানবন্দর সড়কের একটি বাইপাস অংশ ভেঙে যায়। লালখান বাজারে গাছ উপড়ে পড়ে, নগরীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীন ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও এয়ার আরাবিয়ার দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগও ব্যাহত হয়।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া ও চকরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে প্রশাসন সতর্কতা জারি করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিন জানান, আগে যেখানে ১২১টি স্থানে জলাবদ্ধতা হতো, বর্তমানে তা ১৭টিতে নেমে এসেছে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রকল্পের আওতায় অধিকাংশ খালের কাজ শেষ হয়েছে। হিজড়া খালের কিছু কাজ বাকি রয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প ও রেগুলেটর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, টানা প্রায় ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পুরোপুরি দূর না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সমন্বয় এবং অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তিন দিনের টানা বর্ষণে পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম, জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেট সময় : ০৭:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

তিন দিনের টানা বর্ষণে পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম, জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রায় তিন দশক ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও চট্টগ্রাম মহানগরের স্থায়ী সমাধান হয়নি। অপরিকল্পিত নগরায়ন, সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা, খাল দখল, দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অতিবৃষ্টি ও জোয়ারে এখনও নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে সোমবার ও মঙ্গলবার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নগরীর আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, কাপাসগোলা, রামপুর, মাদারবাড়ি, বাটালি রোড, আরাকান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়, বহু এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। একই সময়ে আমবাগান কেন্দ্রে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে আরও কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে পতেঙ্গা বিমানবন্দর সড়কের একটি বাইপাস অংশ ভেঙে যায়। লালখান বাজারে গাছ উপড়ে পড়ে, নগরীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীন ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও এয়ার আরাবিয়ার দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগও ব্যাহত হয়।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া ও চকরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে প্রশাসন সতর্কতা জারি করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিন জানান, আগে যেখানে ১২১টি স্থানে জলাবদ্ধতা হতো, বর্তমানে তা ১৭টিতে নেমে এসেছে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রকল্পের আওতায় অধিকাংশ খালের কাজ শেষ হয়েছে। হিজড়া খালের কিছু কাজ বাকি রয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প ও রেগুলেটর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, টানা প্রায় ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পুরোপুরি দূর না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সমন্বয় এবং অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।