ঢাকা ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নলডাঙ্গায় সাবেক মেয়রকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২ ১৮৫ বার পড়া হয়েছে

মেয়রের বিরুদ্ধে মেয়রকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নলডাঙ্গায় সাবেক মেয়রকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে!

নাটোর প্রতিনিধিঃ
নলডাঙ্গায় সাবেক মেয়রকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে! আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাটোরের নলডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র নলডাঙ্গা মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি ও পৌর বিএনপির আহবায়ক আব্বাস আলী নান্নুকে বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনির লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময় মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেনকেও মেয়রের সহযোগীরা শাটের কলার ধরে টানা হেঁচড়া করে। বাজারের মাছের আড়ত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে টানাহেঁচরার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নলডাঙ্গা মৎস্য আড়তদার সমিতি সুত্রে জানা যায়, প্রায় ৫০ বছর ধরে নলডাঙ্গা মৎস্য আড়তদার সমিতির আওতায় উপজেলার ১৮জন ব্যবসায়ী রেলওয়ের জায়গায় মাছের আড়ত বসিয়ে ব্যবসা করে আসছেনা। তাদের নিকট থেকে প্রতিদিন শতাধিক ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী মাছ কিনে বাজারের অন্য স্থানে বিক্রি করেন। নলডাঙ্গা পৌরসভার সরকার দলীয় মেয়র মনিরুজ্জামান মনির সম্প্রতি আড়াত স্থানান্তর করার জন্য অন্যত্র  ৯টি ঘর তৈরী করেন। এর মধ্যে চারটি ঘর অন্যদের কাছে হস্তান্তরও করেছে। অশিষ্ট ঘরগুলি আড়তদারদের আড়ত দিতে বলেন। প্রতিটি ঘরের জন্য মাসিক ১৮শ টাকা করে ভাড়া এবং ১০হাজার টাকা করে এককালীন জামানত দিতে বলেন মেয়র। নতুন এই আড়াতের জায়গায় গাড়ি প্রবেশ করা ও বের হওয়ার এবং পানি নিস্কাষনের কোন ভালো ব্যবস্থা নেই। ফলে আড়তদাররা নতুন জায়গায় না গিয়ে পুরাতন জায়গায় আড়ত রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। এসব সমস্যা নিয়ে তারা সোমবার রাত ৯টার দিবে আড়তদারদের একটি প্রতিনিধি দল নলডাঙ্গা থানায় গিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললেন। পুলিশ কর্মকর্তা মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে সমস্যা সমাধান কিভাবে করা যায় তা নিয়ে কথা বলেন।

এদিকে মেয়রের মনিরের সিন্ধান্ত অমান্য করে মঙ্গলবার (১৬ আগষ্ট) সকালে রেলওয়ের জায়গায় আড়তদারী শুরু করলে মেয়র ও তার লোকজন এসে বাধা দেয়। এ সময় মেয়র মনিরুজ্জামান মনির সাবেক মেয়র ও মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি আব্বাস আলী নান্নুকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া মেয়রের সহযোগী আজিজুল ইসলাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেনকে শাটের কলার ধরে টানা হেঁচড়া করে।

আব্বাস আলী নান্নু অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা মনিররুজ্জামান মনির তার সহযোগীদের নিয়ে মাছের আড়তে গিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তার সহযোগীরা মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারন সম্পাদক মোক্তার হোসেনকেও টানা হেঁরা করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নলডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান মনির সাবেক মেয়রকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, আড়তদাররা মাছ কেনাবেচা করে চলে যায়, পরিস্কারও করে না আবার পৌরসভায় কোন কর দেয় না। পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্সও নেয় না। আড়ত স্থানান্তর না করলে পৌর এলাকার স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রী ও অন্য ব্যবসায়ীদের অসুবিধা হয়। রাস্তার পাশে আড়ত থাকার কারণে হাঠের দিন সাধারণ মানুষের চলাচলে খুব অসুবিধা হয়। শতাধিক ব্যবসায়ী তার কাছে লিখিত আবেদন করায় তিনি আড়ত স্থানান্তর করার সিন্ধান্ত নেন। তিনি নলডাঙ্গা বাজার এলাকাকে পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন মাত্র।

নলডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেছেন ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকায় বেশি কিছু ঘটেনি।  সমস্যা সমাধানে তিনি আগেই নলডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ও মেয়র মনিরুজ্জামান মনিরের সাথে কথা বলেছিলেন বলে জানান ওসি শফিকুল ইসলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নলডাঙ্গায় সাবেক মেয়রকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে!

আপডেট সময় : ০১:১০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২

নলডাঙ্গায় সাবেক মেয়রকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে!

নাটোর প্রতিনিধিঃ
নলডাঙ্গায় সাবেক মেয়রকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে! আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাটোরের নলডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র নলডাঙ্গা মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি ও পৌর বিএনপির আহবায়ক আব্বাস আলী নান্নুকে বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনির লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময় মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেনকেও মেয়রের সহযোগীরা শাটের কলার ধরে টানা হেঁচড়া করে। বাজারের মাছের আড়ত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে টানাহেঁচরার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নলডাঙ্গা মৎস্য আড়তদার সমিতি সুত্রে জানা যায়, প্রায় ৫০ বছর ধরে নলডাঙ্গা মৎস্য আড়তদার সমিতির আওতায় উপজেলার ১৮জন ব্যবসায়ী রেলওয়ের জায়গায় মাছের আড়ত বসিয়ে ব্যবসা করে আসছেনা। তাদের নিকট থেকে প্রতিদিন শতাধিক ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী মাছ কিনে বাজারের অন্য স্থানে বিক্রি করেন। নলডাঙ্গা পৌরসভার সরকার দলীয় মেয়র মনিরুজ্জামান মনির সম্প্রতি আড়াত স্থানান্তর করার জন্য অন্যত্র  ৯টি ঘর তৈরী করেন। এর মধ্যে চারটি ঘর অন্যদের কাছে হস্তান্তরও করেছে। অশিষ্ট ঘরগুলি আড়তদারদের আড়ত দিতে বলেন। প্রতিটি ঘরের জন্য মাসিক ১৮শ টাকা করে ভাড়া এবং ১০হাজার টাকা করে এককালীন জামানত দিতে বলেন মেয়র। নতুন এই আড়াতের জায়গায় গাড়ি প্রবেশ করা ও বের হওয়ার এবং পানি নিস্কাষনের কোন ভালো ব্যবস্থা নেই। ফলে আড়তদাররা নতুন জায়গায় না গিয়ে পুরাতন জায়গায় আড়ত রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। এসব সমস্যা নিয়ে তারা সোমবার রাত ৯টার দিবে আড়তদারদের একটি প্রতিনিধি দল নলডাঙ্গা থানায় গিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললেন। পুলিশ কর্মকর্তা মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে সমস্যা সমাধান কিভাবে করা যায় তা নিয়ে কথা বলেন।

এদিকে মেয়রের মনিরের সিন্ধান্ত অমান্য করে মঙ্গলবার (১৬ আগষ্ট) সকালে রেলওয়ের জায়গায় আড়তদারী শুরু করলে মেয়র ও তার লোকজন এসে বাধা দেয়। এ সময় মেয়র মনিরুজ্জামান মনির সাবেক মেয়র ও মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি আব্বাস আলী নান্নুকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া মেয়রের সহযোগী আজিজুল ইসলাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেনকে শাটের কলার ধরে টানা হেঁচড়া করে।

আব্বাস আলী নান্নু অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা মনিররুজ্জামান মনির তার সহযোগীদের নিয়ে মাছের আড়তে গিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তার সহযোগীরা মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারন সম্পাদক মোক্তার হোসেনকেও টানা হেঁরা করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নলডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান মনির সাবেক মেয়রকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, আড়তদাররা মাছ কেনাবেচা করে চলে যায়, পরিস্কারও করে না আবার পৌরসভায় কোন কর দেয় না। পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্সও নেয় না। আড়ত স্থানান্তর না করলে পৌর এলাকার স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রী ও অন্য ব্যবসায়ীদের অসুবিধা হয়। রাস্তার পাশে আড়ত থাকার কারণে হাঠের দিন সাধারণ মানুষের চলাচলে খুব অসুবিধা হয়। শতাধিক ব্যবসায়ী তার কাছে লিখিত আবেদন করায় তিনি আড়ত স্থানান্তর করার সিন্ধান্ত নেন। তিনি নলডাঙ্গা বাজার এলাকাকে পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন মাত্র।

নলডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেছেন ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকায় বেশি কিছু ঘটেনি।  সমস্যা সমাধানে তিনি আগেই নলডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ও মেয়র মনিরুজ্জামান মনিরের সাথে কথা বলেছিলেন বলে জানান ওসি শফিকুল ইসলাম।