গুরুদাসপুরে স্ত্রীকে হ/ত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন, শ্বশুর-শাশুড়ির ২ বছর কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৮:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

গুরুদাসপুরে স্ত্রীকে হ/ত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন, শ্বশুর-শাশুড়ির ২ বছর কারাদণ্ড
নাটোর প্রতিনিধিঃ
নাটোরের গুরুদাসপুরে স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে (২০) গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামী ফরহাদ হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোরের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
একই মামলায় তথ্য গোপন ও আলামত গোপনের দায়ে নিহতের শ্বশুর ফজলুর রহমান ও শাশুড়ি মোছা. ফাহিমা বেগমকে ২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
নাটোর জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, ২০১৪ সালে গুরুদাসপুর থানার পিপলা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে বামনবাড়িয়া গ্রামের আমিরুল মণ্ডলের মেয়ে মরিয়ম খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরিয়মের পরিবারের সদস্যরা তার শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে তারা মরিয়মের নিথর দেহ শোবার ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলার দুই পাশে আঙুলের দাগ ছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়। পরে অভিযোগ ওঠে, পারিবারিক বিরোধের জেরে ফরহাদ হোসেন মরিয়মকে গলা টিপে হত্যা করেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা আমিরুল মণ্ডল বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। পরে আসামিদের উপস্থিতিতে প্রধান আসামি স্বামী ফরহাদ হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং শ্বশুর ফজলুর রহমান ও শাশুড়ি ফাহিমা বেগমকে ২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।









