জ্যৈষ্ঠের আগেই রাজশাহীর বাজারে লিচু, দাম চড়া
- আপডেট সময় : ০১:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

জ্যৈষ্ঠের আগেই রাজশাহীর বাজারে লিচু, দাম চড়া
খরা ও তাপদাহে কমেছে উৎপাদন, বাজারে আকাশছোঁয়া দাম
জ্যৈষ্ঠ মাস আসতে এখনও প্রায় ১০ দিন বাকি থাকলেও রাজশাহীর বাজারে উঠতে শুরু করেছে মৌসুমের জনপ্রিয় ফল লিচু। আগাম জাতের এই লিচু ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে, তবে দাম চড়া হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে ফলটি।
রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশি আগাম জাতের ছোট আকৃতির লিচু ১০০টি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কিছুটা দাগযুক্ত লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়। প্রতি পিস লিচুর দাম পড়ছে ৫ থেকে ৬ টাকা।
মৌসুমের শুরুতেই বাজারে লিচু এলেও সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ভরা মৌসুমে যেখানে সাহেব বাজার, বিন্দুরমোড়, লক্ষ্মীপুর, স্টেশন ও শালবাগান এলাকায় লিচুর ব্যাপক সরবরাহ থাকে, সেখানে বর্তমানে সীমিত পরিসরে বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর ভদ্রা এলাকার দিনমজুর আলমগীর হোসেন লিচু কিনতে এসে দাম শুনে ফিরে যান। তিনি বলেন, “দিনে ৬০০ টাকা আয় করি, সেখানে ১০০ লিচু কিনতে ৫০০ টাকা খরচ করা সম্ভব নয়।”
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান তেরখাদিয়া এলাকার বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “লিচু পুরোপুরি পাকা হয়নি, তবুও দাম অনেক বেশি। শেষ পর্যন্ত ৫০টি লিচু ২৫০ টাকায় কিনতে হয়েছে।”
বিক্রেতারা বলছেন, খরা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে এ বছর লিচুর উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। অনেক ফল পরিপক্ব হওয়ার আগেই ফেটে গেছে, ফলে বাজারে সরবরাহ কম।
সাহেব বাজারের ব্যবসায়ী হায়দার আলী জানান, আগে যেখানে দিনে প্রায় ৫ হাজার লিচু বিক্রি করতেন, এখন ২ হাজার লিচু বিক্রি করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা শুধু দেখে চলে যাচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিচু এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। বাজারে আসতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে। মৌসুমের শুরুতে দাম বেশি থাকলেও সরবরাহ বাড়লে তা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, খরা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে এ বছর উৎপাদনে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে পূর্ণ মৌসুমে বাজার স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।


















