ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নর-সুন্দর শ্রমিক ইউনিয়নে সভাপতি পদে দুই সহোদর ভাইয়ের লড়াই গোদাগাড়ীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত লোকসানের ধাক্কায় রাজশাহীতে বন্ধ হচ্ছে পোলট্রি খামার পঞ্চগড়ে তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ শুরু নাটোরে শিল্পপতির একমাত্র ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত, দাফন সম্পূর্ণ ঝিনাইগাতীতে ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত বড়াইগ্রামে সংযোগের দুই দিনের মাথায় ৩ ট্রান্সফরমার চুরি, সেচ সংকটে বড়াইগ্রামের কৃষক সিংড়ায় বালুবোঝাই ট্রাকের পেছনে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ এগ্রো’র কর্মচারীর মৃত্যু, চালক আহত রায়গঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি পঞ্চগড়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সারওয়ার বকুল গ্রেপ্তার

সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি রাজশাহীর তেল পাম্প, দ্বিগুণ দামে বিক্রি পেট্রোল-অকটেন

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি রাজশাহীর তেল পাম্প, দ্বিগুণ দামে বিক্রি পেট্রোল-অকটেন

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি, ভোগান্তিতে সাধারণ চালকরা

জ্বালানি তেলের সংকটকে পুঁজি করে রাজশাহী জেলা ও মহানগরীতে গড়ে উঠেছে চার শতাধিক সদস্যের একটি শক্তিশালী মোটরসাইকেল সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পেট্রোল ও অকটেনের জন্য সাধারণ মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। বাধ্য হয়ে সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাছ থেকে দ্বিগুণ দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে তাদের।

জানা গেছে, রাজশাহী জেলা ও মহানগরীতে মোট ৪৪টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এসব পাম্প থেকে তেল সংগ্রহে সিন্ডিকেট সদস্যরা অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। কখন কোন পাম্পে তেল সরবরাহ হবে, সে তথ্য আগে থেকেই সংগ্রহ করে তারা। তেল দেওয়ার আগের দিন থেকেই পাম্পের ভেতরে ১৫০ থেকে ২০০টি মোটরসাইকেল রেখে সিরিয়াল দখল করে নেয়। এতে সহযোগিতা করছেন পাম্পের কিছু নৈশ প্রহরী ও স্থানীয় যুবকরা।

অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ চালকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেলেও সিন্ডিকেটের সদস্যরা পাম্প কর্মচারীদের উৎকোচ দিয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ তেল নিচ্ছেন। পরে সেই তেল বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা একাধিক পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন থাকে। তবে এসব মোটরসাইকেলের মালিকদের অধিকাংশই সেখানে উপস্থিত থাকেন না। তারা মোটরসাইকেল রেখে বাসায় চলে যান। পাম্পের নৈশ প্রহরী ও স্থানীয় যুবকরাই এসব মোটরসাইকেল দেখাশোনা করেন।

শালবাগান এলাকার ইমাম হোসেন নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি পাম্পের ভেতরে তিনটি মোটরসাইকেল রেখে গেছেন এবং এ কাজে স্থানীয় যুবকদের সহায়তা পেয়েছেন। পাম্পের কর্মচারীরাও স্বীকার করেছেন, শতাধিক মোটরসাইকেল স্থানীয় যুবকরাই পাম্পে রেখে দেন।

তেল নিতে আসা আলমগীর কবির বলেন, “আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। প্রতিদিন প্রায় ১০০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালাতে হয়। রাত ২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। বাধ্য হয়ে ২৫০ টাকা লিটার দামে পেট্রোল কিনতে হয়েছে।”

পবা উপজেলার নওহাটার রুচিতা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্পে একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে পাম্পের ভেতরে শতাধিক মোটরসাইকেল রাখা হয় এবং প্রতি মোটরসাইকেলের জন্য নৈশ প্রহরীকে ৫০ টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রতিদিন একাধিক পাম্প থেকে ট্যাংক ভর্তি করে তেল সংগ্রহ করে বাইরে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা লিটার দামে বিক্রি করছেন।

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলাতেও একই চিত্র বিরাজ করছে। তানোর, পুঠিয়া, বাগমারা ও গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেট সদস্যরা একই কৌশলে তেল সংগ্রহ করছেন।

বাগমারা সদরের নাজিম আলম জানান, মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে গেলে তিনি স্থানীয় বাজার থেকে ৩০০ টাকা লিটার দামে পেট্রোল কিনতে বাধ্য হয়েছেন।

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মনিমুল হক বলেন, “পাম্প মালিকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে কর্মচারী বা নৈশ প্রহরীরা সুবিধা নিতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি রাজশাহীর তেল পাম্প, দ্বিগুণ দামে বিক্রি পেট্রোল-অকটেন

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি রাজশাহীর তেল পাম্প, দ্বিগুণ দামে বিক্রি পেট্রোল-অকটেন

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি, ভোগান্তিতে সাধারণ চালকরা

জ্বালানি তেলের সংকটকে পুঁজি করে রাজশাহী জেলা ও মহানগরীতে গড়ে উঠেছে চার শতাধিক সদস্যের একটি শক্তিশালী মোটরসাইকেল সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পেট্রোল ও অকটেনের জন্য সাধারণ মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। বাধ্য হয়ে সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাছ থেকে দ্বিগুণ দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে তাদের।

জানা গেছে, রাজশাহী জেলা ও মহানগরীতে মোট ৪৪টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এসব পাম্প থেকে তেল সংগ্রহে সিন্ডিকেট সদস্যরা অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। কখন কোন পাম্পে তেল সরবরাহ হবে, সে তথ্য আগে থেকেই সংগ্রহ করে তারা। তেল দেওয়ার আগের দিন থেকেই পাম্পের ভেতরে ১৫০ থেকে ২০০টি মোটরসাইকেল রেখে সিরিয়াল দখল করে নেয়। এতে সহযোগিতা করছেন পাম্পের কিছু নৈশ প্রহরী ও স্থানীয় যুবকরা।

অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ চালকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেলেও সিন্ডিকেটের সদস্যরা পাম্প কর্মচারীদের উৎকোচ দিয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ তেল নিচ্ছেন। পরে সেই তেল বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা একাধিক পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন থাকে। তবে এসব মোটরসাইকেলের মালিকদের অধিকাংশই সেখানে উপস্থিত থাকেন না। তারা মোটরসাইকেল রেখে বাসায় চলে যান। পাম্পের নৈশ প্রহরী ও স্থানীয় যুবকরাই এসব মোটরসাইকেল দেখাশোনা করেন।

শালবাগান এলাকার ইমাম হোসেন নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি পাম্পের ভেতরে তিনটি মোটরসাইকেল রেখে গেছেন এবং এ কাজে স্থানীয় যুবকদের সহায়তা পেয়েছেন। পাম্পের কর্মচারীরাও স্বীকার করেছেন, শতাধিক মোটরসাইকেল স্থানীয় যুবকরাই পাম্পে রেখে দেন।

তেল নিতে আসা আলমগীর কবির বলেন, “আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। প্রতিদিন প্রায় ১০০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালাতে হয়। রাত ২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। বাধ্য হয়ে ২৫০ টাকা লিটার দামে পেট্রোল কিনতে হয়েছে।”

পবা উপজেলার নওহাটার রুচিতা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্পে একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে পাম্পের ভেতরে শতাধিক মোটরসাইকেল রাখা হয় এবং প্রতি মোটরসাইকেলের জন্য নৈশ প্রহরীকে ৫০ টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রতিদিন একাধিক পাম্প থেকে ট্যাংক ভর্তি করে তেল সংগ্রহ করে বাইরে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা লিটার দামে বিক্রি করছেন।

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলাতেও একই চিত্র বিরাজ করছে। তানোর, পুঠিয়া, বাগমারা ও গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেট সদস্যরা একই কৌশলে তেল সংগ্রহ করছেন।

বাগমারা সদরের নাজিম আলম জানান, মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে গেলে তিনি স্থানীয় বাজার থেকে ৩০০ টাকা লিটার দামে পেট্রোল কিনতে বাধ্য হয়েছেন।

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মনিমুল হক বলেন, “পাম্প মালিকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে কর্মচারী বা নৈশ প্রহরীরা সুবিধা নিতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।”