গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে নওশাদ জমিরের প্রতীকী সংহতি
- আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৩২ বার পড়া হয়েছে

গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে নওশাদ জমিরের প্রতীকী সংহতি
ফিলিস্তিনের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে কুফিয়া পরে নির্বাচনী প্রচারণা
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও নির্যাতিত ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ব্যতিক্রমধর্মী প্রতীকী কর্মসূচি পালন করছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড়-১ (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণার পাশাপাশি তিনি ফিলিস্তিনিদের ঐতিহ্যবাহী সাদা-কালো স্কার্ফ ‘কুফিয়া’ বা ‘কেফিয়াহ’ পরিধান করে সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময় ও গণসংযোগ করছেন। এই কুফিয়া স্কার্ফ বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
গত অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি হামলা শুরুর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে কুফিয়া পরিধান করে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানানো হয়। অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে এই সাদা-কালো স্কার্ফ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিবিদ মেহরিন ফারুকী ও লিডিয়া থর্প সংসদে কুফিয়া পরিধান করেন, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের ভাস্কর্যেও কুফিয়া জড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেন,
“আমরা যখন দেশে ফ্যাসিবাদ হটিয়ে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, তখন ফিলিস্তিনি মুসলিম সমাজ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছে, হাজার হাজার নারী ও শিশু নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছে। এই নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। কুফিয়া ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মপরিচয়, প্রতিরোধ ও স্বাধীনতার প্রতীক। ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতেই আমি এই স্কার্ফ পরে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে এবং এই মানবিক অবস্থান অব্যাহত থাকা উচিত।
উল্লেখ্য, শুধু ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরই নন—তার ছোট ভাই, লেখক ও গবেষক ব্যারিস্টার নওফেল জমিরও ফিলিস্তিনি কুফিয়া গলায় ঝুলিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, কুফিয়া মূলত আরব কৃষকদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ছিল। ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহের সময় এটি রাজনৈতিক প্রতীকে রূপ নেয়। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ ও ‘নাকবা’র পর ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধ আন্দোলনের সঙ্গে কুফিয়া গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে। ফিলিস্তিনের সাবেক নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ইয়াসির আরাফাত কুফিয়াকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।




















