ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কাঁথা-বালিশ নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ২৫ বছরেও নিজস্ব ভবন পায়নি পুঠিয়া পৌরসভা, ভাড়া ভবনেই চলছে কার্যক্রম অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল আনোয়ারায় কেইপিজেডের বৃষ্টির ঢলে মেরিন একাডেমি সড়ক বিচ্ছিন্ন, তলিয়ে গেছে সিইউএফএল সড়ক তিন দিনের টানা বর্ষণে পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম, জনজীবন বিপর্যস্ত বাগাতিপাড়ায় খালের মাটি নিয়ে বিএনপির দুই নেতার দ্বন্দ্ব, মারধরের অভিযোগ বাগাতিপাড়ায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকার ড্রেন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন, সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা ক্যান্সার আক্রান্ত নারীকে ধ র্ষ ণ চেষ্টার মামলার পলাতক আসামি ঢাকায় আটক প্রথমবারের মতো রাণীনগরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ঠাকুরগাঁওয়ে একই গ্রামে অজ্ঞাত রোগে প্রায় এক কোটি টাকার গরু মৃত্যু!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩ ১৯০ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ে অজ্ঞাত রোগে গরুর মৃত্যু

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁওয়ে একই গ্রামে অজ্ঞাত রোগে প্রায় এক কোটি টাকার গরু মৃত্যু!

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধ:
ঠাকুরগাঁওয়ে একই গ্রামে অজ্ঞাত রোগে প্রায় এক কোটি টাকার গরু মৃত্যু! এক গ্রামেই গত দুই মাসে প্রায় ৮০ টির বেশি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যার বাজার মুল্য প্রায় এক কোটি টাকার বেশি। তবে কি রোগে মারা গেছে তার কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এমন ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের একই মৌজার ৪ টি পাড়ায় ২ মাসের ব্যবধানে প্রায় ৮০ টির বেশি গরুর মৃত্যু হয়েছে। যার বাজার মূল্য আনুমানিক এক কোটি টাকারও বেশি।

গ্রামবাসীরা জানায়, জোরপুকুর, ব্যাংকপুকুর, ভেলা পুকুর ও ছয় ঘড়িয়ায় এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত রোগে প্রার্ন্তিক ও গরু পালন কারী ৩০ থেকে ৩৫ জন খামারীর ৮০ টিরও অধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব বলেন, ১৫ দিনের ব্যবধানে আমার ৫ টি গরু মারা যায়। প্রথমেই একদিন বিকালে আমার একটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমি স্থানীয় ভাবে পল্লী চিকিৎসা দেওয়ার ২ ঘন্টার ব্যবধানে গরুটি মারা যায়। এক‌ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১ বছর আগে আমি একটি গরুর বাছুর এর চিকিৎসা করার জন্য উপজেলা পশু হাসপাতালে নিয়ে যাই । চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমার বাছুরটি মারা যায়। এতে আমি খুব কষ্ট পাই। যার ফলে আমার ৫ টি গরু মারা গেলেও হতাশ হয়ে চিকিৎসার জন্য উপজেলা পশু হাসপাতালে আমি নিয়ে যায়নি।

ভেলাপকুর গ্রামের বাসিন্দা সাউম জানায়, এখানকার চারটি পারার একটি গ্রামে গত দুই মাসে প্রায় ৮০টি গরু মারা গেছে। যার বাজার মুল্য প্রায় এক কোটি টাকার বেশি।
আরেক খামারী মুসলিম উদ্দিন জানান, আমার ২টি গরুর সমস্যা হলে আমি স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক কে জানাই। সে চিকিৎসা দেওয়ার পরেও ভালো না হলে আমি উপজেলা পশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলি কিন্তু পল্লী চিকিৎসক জানান, এ রোগের কারণ এখনো কেউ জানে না এবং এ রোগের ওষুধও নেই উপজেলা পশু হাসপাতালে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, আমাদের এ ৪ টি পাড়ায় আতঙ্কে খামারীরা বেশির ভাগ গরু কম দামে বিক্রি করে দিয়েছে। এখনো যাদের ঘরে কিছু গরু রয়েছে তার মধ্যে থেকেই আরো কয়েকটি গরু গত কয়েকদিন এর ব্যবধানে মারা গিয়েছে।

এ প্রতিবেদক উপস্থিত থাকাকালে শাহানা পারভীন নামে একজন খামারী দাবি করেন, একই লক্ষণে আমার একটি গরু অসুস্থ। গত বুধবার উপজেলা পশু হাসপাতালে ফোন দিলে তারা জানায় বৃহস্পতিবার সকালে আপনার খামারে আমাদের চিকিৎসক যাবে। তবে বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দুপুর গড়িয়ে গেলেও ভুক্তভোগীর বাসায় কোন চিকিৎসক আসেনি বলে দাবি করেন।
দিনমজুর ও খামারী শহিদুল জানান, গত এ রোগে কয়েকটি গরু মারা গেলে টিকা দেওয়ার জন্য কয়েকজন চিকিৎসক আসে সেসময় তারা টিকা প্রতি ৫০ টাকা দাবি করলে আমার কাছে কোন টাকা না থাকায় আমি আমার গরু গুলোকে টিকা দিতে পারিনি। এর পরে ভয়ে আমার সব গরু বাজার থেকে কমদামে বিক্রি করে দিয়েছি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোছাঃ মৌসুমী আক্তার বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পরে গ্রামটিতে গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছি এবং তরকা ও বদলা রোগের টিকা কার্যক্রম করেছি। কয়টি গরু মারা গিয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন কয়টি গরু মারা গিয়েছে এ ব্যাপারে আমার কাছে কোন তথ্য নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকারনাইন কবীর স্টীভ জানান, ‘এ বিষয়টি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি গত বুধবার এসেছিলেন এবং উনাদের কাছে যতটুকু প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া দরকার তারা দিয়েছেন ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন’। ৫০ টাকার বিনিময়ে ভেকসিন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন “তাদের এখতিয়ার না থাকলে তো নেওয়ার কথা না”।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঠাকুরগাঁওয়ে একই গ্রামে অজ্ঞাত রোগে প্রায় এক কোটি টাকার গরু মৃত্যু!

আপডেট সময় : ০৩:০১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩

ঠাকুরগাঁওয়ে একই গ্রামে অজ্ঞাত রোগে প্রায় এক কোটি টাকার গরু মৃত্যু!

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধ:
ঠাকুরগাঁওয়ে একই গ্রামে অজ্ঞাত রোগে প্রায় এক কোটি টাকার গরু মৃত্যু! এক গ্রামেই গত দুই মাসে প্রায় ৮০ টির বেশি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যার বাজার মুল্য প্রায় এক কোটি টাকার বেশি। তবে কি রোগে মারা গেছে তার কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এমন ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের একই মৌজার ৪ টি পাড়ায় ২ মাসের ব্যবধানে প্রায় ৮০ টির বেশি গরুর মৃত্যু হয়েছে। যার বাজার মূল্য আনুমানিক এক কোটি টাকারও বেশি।

গ্রামবাসীরা জানায়, জোরপুকুর, ব্যাংকপুকুর, ভেলা পুকুর ও ছয় ঘড়িয়ায় এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত রোগে প্রার্ন্তিক ও গরু পালন কারী ৩০ থেকে ৩৫ জন খামারীর ৮০ টিরও অধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব বলেন, ১৫ দিনের ব্যবধানে আমার ৫ টি গরু মারা যায়। প্রথমেই একদিন বিকালে আমার একটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমি স্থানীয় ভাবে পল্লী চিকিৎসা দেওয়ার ২ ঘন্টার ব্যবধানে গরুটি মারা যায়। এক‌ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১ বছর আগে আমি একটি গরুর বাছুর এর চিকিৎসা করার জন্য উপজেলা পশু হাসপাতালে নিয়ে যাই । চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমার বাছুরটি মারা যায়। এতে আমি খুব কষ্ট পাই। যার ফলে আমার ৫ টি গরু মারা গেলেও হতাশ হয়ে চিকিৎসার জন্য উপজেলা পশু হাসপাতালে আমি নিয়ে যায়নি।

ভেলাপকুর গ্রামের বাসিন্দা সাউম জানায়, এখানকার চারটি পারার একটি গ্রামে গত দুই মাসে প্রায় ৮০টি গরু মারা গেছে। যার বাজার মুল্য প্রায় এক কোটি টাকার বেশি।
আরেক খামারী মুসলিম উদ্দিন জানান, আমার ২টি গরুর সমস্যা হলে আমি স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক কে জানাই। সে চিকিৎসা দেওয়ার পরেও ভালো না হলে আমি উপজেলা পশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলি কিন্তু পল্লী চিকিৎসক জানান, এ রোগের কারণ এখনো কেউ জানে না এবং এ রোগের ওষুধও নেই উপজেলা পশু হাসপাতালে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, আমাদের এ ৪ টি পাড়ায় আতঙ্কে খামারীরা বেশির ভাগ গরু কম দামে বিক্রি করে দিয়েছে। এখনো যাদের ঘরে কিছু গরু রয়েছে তার মধ্যে থেকেই আরো কয়েকটি গরু গত কয়েকদিন এর ব্যবধানে মারা গিয়েছে।

এ প্রতিবেদক উপস্থিত থাকাকালে শাহানা পারভীন নামে একজন খামারী দাবি করেন, একই লক্ষণে আমার একটি গরু অসুস্থ। গত বুধবার উপজেলা পশু হাসপাতালে ফোন দিলে তারা জানায় বৃহস্পতিবার সকালে আপনার খামারে আমাদের চিকিৎসক যাবে। তবে বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দুপুর গড়িয়ে গেলেও ভুক্তভোগীর বাসায় কোন চিকিৎসক আসেনি বলে দাবি করেন।
দিনমজুর ও খামারী শহিদুল জানান, গত এ রোগে কয়েকটি গরু মারা গেলে টিকা দেওয়ার জন্য কয়েকজন চিকিৎসক আসে সেসময় তারা টিকা প্রতি ৫০ টাকা দাবি করলে আমার কাছে কোন টাকা না থাকায় আমি আমার গরু গুলোকে টিকা দিতে পারিনি। এর পরে ভয়ে আমার সব গরু বাজার থেকে কমদামে বিক্রি করে দিয়েছি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোছাঃ মৌসুমী আক্তার বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পরে গ্রামটিতে গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছি এবং তরকা ও বদলা রোগের টিকা কার্যক্রম করেছি। কয়টি গরু মারা গিয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন কয়টি গরু মারা গিয়েছে এ ব্যাপারে আমার কাছে কোন তথ্য নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকারনাইন কবীর স্টীভ জানান, ‘এ বিষয়টি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি গত বুধবার এসেছিলেন এবং উনাদের কাছে যতটুকু প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া দরকার তারা দিয়েছেন ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন’। ৫০ টাকার বিনিময়ে ভেকসিন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন “তাদের এখতিয়ার না থাকলে তো নেওয়ার কথা না”।