ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রামিসা হ/ত্যা মামলার আসামি দ্রুত গ্রেপ্তার, অপপ্রচারের অভিযোগ: প্রতিমন্ত্রী আজাদ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ৯ যুবক, শোকে স্তব্ধ তিন গ্রাম লালপুরে রেলওয়ে ব্রিজের নিচ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার ঝিনাইগাতী সীমান্তে ১ হাজার ২৩৪ বোতল ভারতীয় মদ ও কাভার্ড ভ্যান আটক তালায় ভ’য়াব’হ সড়ক দু’র্ঘ’টনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত মাধবপুরে সড়ক দু/র্ঘ/টনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত কিশোরগঞ্জে চালবোঝাই পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রী-সন্তান নিহত রাজশাহীর সিটি হাট ঘিরে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজির অভিযোগ গোমস্তাপুরে মহানন্দা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার বাগাতিপাড়ায় গৃহবধূকে সং/ঘব/দ্ধ ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, থানায় মামলা

বিবাহিত ও একাধিক মামলার আসামীকে ছাত্রলীগের সভাপতি করার অভিযোগ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৭২ বার পড়া হয়েছে

ছাত্রলীগের সভাপতি বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়ন

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিবাহিত ও একাধিক মামলার আসামীকে ছাত্রলীগের সভাপতি করার অভিযোগ!

উমর ফারুক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
বিবাহিত ও একাধিক মামলার আসামীকে ছাত্রলীগের সভাপতি করার অভিযোগ! পঞ্চগড়ে বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছে উপজেলা কমিটি। ২৩ সেপ্টেম্বর বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয় বোদা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুবায়েদ হুসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক আনজাম পিয়াল। ওই তালিকায় সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ১১ জনের নাম উল্লেখ আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সভাপতি পদে মোতাহার হোসেন, সহসভাপতি পদে রায়হানুল ইসলাম মানিক, অন্তর চন্দ্র বর্মন ও আরিফুজ্জামান আরিফ, সাধারণ সম্পাদক পদে আল মামুন শাহরুখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, অমূল্য চন্দ্র ও ওমর ফারুক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিনুল ইসলাম তুহিন, শাহিবুর রহমান ও মেহেদী হাসানকে রাখা হয়েছে। ওই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মোতাহার হোসেন নামে এক তরুণকে। তবে তিনি বিবাহিত এবং তার বিরুদ্ধে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের একাধিক মামলা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিবাহের একটি কাবিননামাও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্নভাবে। বিবাহিত একজনকে সভাপতি দায়িত্ব দেয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রলীগের তৃণমূল নেতারা। তবে বিবাহের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পাওয়া মোতাহার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইউনিয়নের এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, মোতাহার যে বিয়ে করেছে এটা এলাকার সবাই জানে। আসলে কিভাবে কমিটি করা হয়েছে তা উপজেলা কমিটির নেতারাই ভালো বলতে পারবেন। শোনা যাচ্ছে অনেক টাকার লেনদেন হয়েছে।
নব ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি অন্তর চন্দ্র বর্মন বলেন, আমি সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আবেদন করেছিলাম আর যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তিনি আবেদন করেছিলেন সভাপতি পদের জন্য। কিন্তু কোন নিয়মে তাকে সাধারণ সম্পাদক ও আমাকে সহসভাপতি করা হয়েছে বুঝতে পারছি না। এছাড়া যাকে সভাপতি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে অনেক রকম কথা শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরাও বিব্রত।

মোতাহার হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছি। এলাকার আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। বাবার কাছ থেকে নেয়া নিজের পকেটের টাকা খরচ করে অনেক দলীয় কর্মসূচি ও মানবিক কাজ করেছি। আমার কাজ ও জনপ্রিয়তাকে উপজেলা কমিটি মূল্যায়ন করে আমাকে সভাপতি করেছে। আমার বিয়ের বিষয়টি ভুয়া। আর আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনায় আমার বাবার ব্যবসায়ীক প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে পুলিশ বাদী কোন মামলায় আমাকে আসামী করা হয় নি। মূলত আমাকে প্রতিহত করার জন্যই একটি পক্ষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

বোদা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনজাম পিয়াল বলেন, কমিটি গঠনের সময় তথ্য গোপন করা হয়েছিল। তবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বলছেন কাবিননামাটি এডিট করা। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। যদি বিবাহের বিষয়টি সত্যি প্রমাণিত হয় তাহলে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে কমিটিতে রাখার সুযোগ নেই। এমনটি হলে ১ নম্বর সহসভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিবাহিত ও একাধিক মামলার আসামীকে ছাত্রলীগের সভাপতি করার অভিযোগ!

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বিবাহিত ও একাধিক মামলার আসামীকে ছাত্রলীগের সভাপতি করার অভিযোগ!

উমর ফারুক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
বিবাহিত ও একাধিক মামলার আসামীকে ছাত্রলীগের সভাপতি করার অভিযোগ! পঞ্চগড়ে বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছে উপজেলা কমিটি। ২৩ সেপ্টেম্বর বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয় বোদা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুবায়েদ হুসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক আনজাম পিয়াল। ওই তালিকায় সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ১১ জনের নাম উল্লেখ আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সভাপতি পদে মোতাহার হোসেন, সহসভাপতি পদে রায়হানুল ইসলাম মানিক, অন্তর চন্দ্র বর্মন ও আরিফুজ্জামান আরিফ, সাধারণ সম্পাদক পদে আল মামুন শাহরুখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, অমূল্য চন্দ্র ও ওমর ফারুক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিনুল ইসলাম তুহিন, শাহিবুর রহমান ও মেহেদী হাসানকে রাখা হয়েছে। ওই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মোতাহার হোসেন নামে এক তরুণকে। তবে তিনি বিবাহিত এবং তার বিরুদ্ধে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের একাধিক মামলা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিবাহের একটি কাবিননামাও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্নভাবে। বিবাহিত একজনকে সভাপতি দায়িত্ব দেয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রলীগের তৃণমূল নেতারা। তবে বিবাহের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পাওয়া মোতাহার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইউনিয়নের এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, মোতাহার যে বিয়ে করেছে এটা এলাকার সবাই জানে। আসলে কিভাবে কমিটি করা হয়েছে তা উপজেলা কমিটির নেতারাই ভালো বলতে পারবেন। শোনা যাচ্ছে অনেক টাকার লেনদেন হয়েছে।
নব ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি অন্তর চন্দ্র বর্মন বলেন, আমি সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আবেদন করেছিলাম আর যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তিনি আবেদন করেছিলেন সভাপতি পদের জন্য। কিন্তু কোন নিয়মে তাকে সাধারণ সম্পাদক ও আমাকে সহসভাপতি করা হয়েছে বুঝতে পারছি না। এছাড়া যাকে সভাপতি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে অনেক রকম কথা শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরাও বিব্রত।

মোতাহার হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছি। এলাকার আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। বাবার কাছ থেকে নেয়া নিজের পকেটের টাকা খরচ করে অনেক দলীয় কর্মসূচি ও মানবিক কাজ করেছি। আমার কাজ ও জনপ্রিয়তাকে উপজেলা কমিটি মূল্যায়ন করে আমাকে সভাপতি করেছে। আমার বিয়ের বিষয়টি ভুয়া। আর আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনায় আমার বাবার ব্যবসায়ীক প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে পুলিশ বাদী কোন মামলায় আমাকে আসামী করা হয় নি। মূলত আমাকে প্রতিহত করার জন্যই একটি পক্ষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

বোদা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনজাম পিয়াল বলেন, কমিটি গঠনের সময় তথ্য গোপন করা হয়েছিল। তবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বলছেন কাবিননামাটি এডিট করা। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। যদি বিবাহের বিষয়টি সত্যি প্রমাণিত হয় তাহলে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে কমিটিতে রাখার সুযোগ নেই। এমনটি হলে ১ নম্বর সহসভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হবে।