বাগাতিপাড়ায় এমপিওভুক্ত না হয়ে অবসরে যাওয়ার কষ্ট নিয়ে মারা গেলেন শিক্ষক!
- আপডেট সময় : ০২:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুলাই ২০২৩ ২০৯ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় এমপিওভুক্ত না হয়ে অবসরে যাওয়ার কষ্ট নিয়ে মারা গেলেন শিক্ষক!
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
বাগাতিপাড়ায় এমপিওভুক্ত না হয়ে অবসরে যাওয়ার কষ্ট নিয়ে মারা গেলেন শিক্ষক! নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ২০২১ সালে বিনাবেতনে চাকরি শেষ করার কষ্ট নিয়ে অবসরে যান শিক্ষক হারুন অর রশিদ। এবার সেই কষ্ট নিয়েই শিক্ষাগুরু চলে গেছেন নাফেরার দেশে। গত ১১ জুলাই হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন পরিবারের সদস্যরা।
অবশেষে বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) ভোর ৫টায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়ইহি রাজিউন। শিক্ষক হারুন অর রশিদ নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা দক্ষিনপাড়া গ্রামের মৃত আব্বাস প্রামানিকের ছেলে। বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় জানাজা শেষে পাঁকা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয় বলে জানান তার ছেলে মাহাবুবুর রহমান।
শিক্ষক হারুনের ছেলে মাহাবুবুর রহমান জানান, তার বাবা একসময় পার্শ্ববর্তী রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার আড়ানী চকরপাড়া দাখিল মাদরাসার ক্বারি শিক্ষক ছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় সেখান থেকে তিনি একই এলাকার আড়ানী দাখিল মাদরাসায় একই পদে যোগদান করেন। কিন্তু নিয়মের বেড়াজালে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিও এমপিওভুক্ত হয়নি। দীর্ঘদিন মাদরাসায় বিনাবেতনে শিক্ষকতা শেষে জন্মতারিখ অনুযায়ী ৬০ বছর পূর্ন হওয়ায় ২০২১ সালে তাকে অবসর নিতে হয়। যদিও তার প্রকৃত বয়স আরো বেশি ছিল। তবে ছাত্রজীবন থেকেই তার বাবা ইমামতি করতেন। নিজের জমিজমা চাষাবাদ করে এবং ইমামতি আর কুরআন শিক্ষা দিয়ে যেটুকু আয় করতেন তা দিয়েই তার চার ছেলে ও চার মেয়েকে মানুষ করেছেন। সন্তানদের মধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ে মারা গেছেন। অন্য ছেলেদের একজন সেনাবাহিনীতে, একজন মাদরাসার শিক্ষকতা ও একজন কৃষি কাজ করেন। আর মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন।
তকিনগর-দিয়াড় গ্রামের শিক্ষক হাসানুজ্জামান রতন জানান, শিক্ষক হারুন অর রশিদ তার দাদার সময়ে নির্মিত তকিনগর মসজিদে দীর্ঘ ৫৫ বছর যাবত ইমামের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক ও জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনি সারাজীবন মাদরাসায় শিক্ষকতা করেও বেতন পাননি।




















