দেবীগঞ্জে প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কমিশনের নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
- আপডেট সময় : ০৯:১১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ৭৩ বার পড়া হয়েছে

দেবীগঞ্জে প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কমিশনের নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে ১৫ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগ; তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশনের নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
এ অভিযোগের পক্ষে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সঙ্গে অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত প্রায় ৫ মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় কয়েকটি প্রকল্পের বরাদ্দের পরিমাণ ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ১৫ শতাংশ কমিশনের অঙ্ক নির্ধারণ করছেন। এক পর্যায়ে তিনি এক ইউপি সদস্যকে বলেন, ৩২ হাজার টাকা করে ৮ টন গম হলে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর ১৫ শতাংশ দিলে ৩৮ হাজার টাকা হয়।
জবাবে ওই সদস্য কমিশন কমানোর অনুরোধ জানালে পিআইও বলেন, মেম্বারদের কোনো দিন লাভ হয় না। আমি এতদিন পিআইও হিসেবে কাজ করছি, কোনো মেম্বারকে বলতে শুনিনি যে তার লাভ হয়েছে।
ভিডিওর আরেক অংশে একজন ব্যক্তি টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উল্লেখ করলে পিআইও ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ২৪ হাজার টাকা কমিশনের কথা বলেন। এছাড়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আরেকটি প্রকল্পে ১৮ হাজার টাকা এবং একাধিক প্রকল্পে আরও অর্থ দাবি করার কথাও ভিডিওতে শোনা যায়। ভিডিওর শেষদিকে কয়েকজনকে টাকা গুনতে এবং ফাইলের সামনে অর্থ রাখতে দেখা যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, ওরা কাজ না করেই বিল নিতে এসেছিল। সে কারণেই আমাদের মধ্যে এ ধরনের কথা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, এর আগে তিনি নীলফামারী সদর উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। সেখানেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে সে বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।



















