ঢাকা ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাটোরে সরকারি গাড়িচালক সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত লালপুরে নিজের ক/ন্যাশি’শুকে ধ র্ষ ণে র অভিযোগে বাবা আটক! নলডাঙ্গার পাটুলে চার্জার গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ, প্রাণ গেল মোটরসাইকেল চালকের তিন মাস ধরে অচল রামেকের সিটি স্ক্যান মেশিন, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা করতোয়া নদীতে নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বরকলে ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী বাগাতিপাড়ায় ৩৬৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আটোয়ারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কালীমন্দিরে ভাঙচুর, সাম্প্রদায়িক গুজব ছড়ানোর অভিযোগ আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, আহত ১০ পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে কিশোর নিখোঁজ, তীব্র স্রোতে উদ্ধার অভিযান স্থগিত

ঠাকুরগাঁওয়ে হোটেল থেকে ভোরে বেরিয়ে নিখোঁজ তিন মাদরাসাছাত্রী- ৪৮ দিনেও রহস্যের জট খুলেনি

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁওয়ে হোটেল থেকে ভোরে বেরিয়ে নিখোঁজ তিন মাদরাসাছাত্রী- ৪৮ দিনেও রহস্যের জট খুলেনি

রাত্রে হোটেলে ওঠে ভোরেই অদৃশ্য-পরিবারে আহাজারি, পুলিশ বলছে তদন্ত চলছে

ঠাকুরগাঁওয়ে তিন মাদরাসাছাত্রীর নিখোঁজের ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ঘটনার ৪৮ দিন পার হলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজের দিন রাতেই ওই তিন ছাত্রী শহরের রোড এলাকার এক আবাসিক হোটেলে উঠেছিল। তবে ভোরের আগেই তারা হোটেল ছেড়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।

এ ঘটনায় ৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। লিফলেট বিতরণ করে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে সাহায্য চাইলেও এখনো মিলছে না কোনো সান্ত্বনা বা নিশ্চিত তথ্য।

নিখোঁজ ছাত্রীরা হলো- দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মুরারিপূর গ্রামের শাহজালালের মেয়ে জুঁই (১৪), একই উপজেলার গণকপয়েনর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস তামান্না (১৬) ও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গোবিন্দ নগর এলাকার বাসিন্দা রবিউলের মেয়ে আয়শা সিদ্দিকা (১৩)। তারা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর মাদরাসা পাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘আয়শা সিদ্দিকা’ বালীকা মাদরাসার ছাত্রী।

তিনজনই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর মাদরাসাপাড়া এলাকার ‘আয়শা সিদ্দিকা বালিকা মাদরাসা’র’ ছাত্রী।

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে সর্বশেষ তাদের দেখা যায়। ভোর ৫টার সময় ডাকতে গেলে তারা আর কক্ষে ছিলেন না। দোতলার বারান্দায় ঝুলন্ত মশারি দেখে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ধারণা করে, তারা পালিয়েছে।

শহরের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাত ১টার দিকে তিন ছাত্রী রিকশায় করে ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ডে যায়, সেখান থেকে রেলস্টেশনে পৌঁছে। সেদিন রাতে কোনো ট্রেন না থাকায় তারা শহরের রোড আবাসিক হোটেলে ভোর ৪টা পর্যন্ত অবস্থান করে। এরপর হোটেল ম্যানেজারের সহায়তায় আবার স্টেশনে গিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে রোড অটোস্ট্যান্ডে ফিরে যায় এবং ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জের উদ্দেশে অটোরিকশা নিয়ে রওনা হয়। তারপর থেকেই তাদের আর কোনো সন্ধান নেই।

রোড আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান ইমন বলেন, “রাত ২টার দিকে তিনজন মেয়ে এসে বলেছিল কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ভোরে চলে যাবে। আমি তাদের ব্যাগ গাড়িতে তুলে দিই।” তবে অভিযোগ রয়েছে, হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিথিদের নাম–ঠিকানা রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করে না।

নিখোঁজ তামান্নার মা আখলিমা বেগম বলেন, “মাদরাসায় এত শিক্ষার্থী থাকার পরও কোনো নিরাপত্তা প্রহরী ছিল না। বারান্দায় গ্রিলও নেই, সহজেই কেউ বাইরে যেতে পারে। আমরা মেয়েদের ওদের ভরসায় রেখে ভুল করেছি।”

নিখোঁজ আয়শার বোনের দাবি, “মাদরাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রায়ই মারধর করত। আমার বোন আগে থেকেই বলেছিল ওখান থেকে নিয়ে যেতে। নির্যাতনের ভয়েই তারা পালিয়েছে।”

এ বিষয়ে মাদরাসার প্রধান শিক্ষিকা হামিদা বেগম বলেন, “নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল ছিল, স্বীকার করছি। তবে নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা নিজেরাও তাদের খুঁজছি।”

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধান পেতে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই।”

জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা জানান, “ঘটনার পরপরই আমরা পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে, আশা করছি দ্রুতই মেয়েরা পরিবারের কাছে ফিরবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঠাকুরগাঁওয়ে হোটেল থেকে ভোরে বেরিয়ে নিখোঁজ তিন মাদরাসাছাত্রী- ৪৮ দিনেও রহস্যের জট খুলেনি

আপডেট সময় : ০১:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

ঠাকুরগাঁওয়ে হোটেল থেকে ভোরে বেরিয়ে নিখোঁজ তিন মাদরাসাছাত্রী- ৪৮ দিনেও রহস্যের জট খুলেনি

রাত্রে হোটেলে ওঠে ভোরেই অদৃশ্য-পরিবারে আহাজারি, পুলিশ বলছে তদন্ত চলছে

ঠাকুরগাঁওয়ে তিন মাদরাসাছাত্রীর নিখোঁজের ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ঘটনার ৪৮ দিন পার হলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজের দিন রাতেই ওই তিন ছাত্রী শহরের রোড এলাকার এক আবাসিক হোটেলে উঠেছিল। তবে ভোরের আগেই তারা হোটেল ছেড়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।

এ ঘটনায় ৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। লিফলেট বিতরণ করে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে সাহায্য চাইলেও এখনো মিলছে না কোনো সান্ত্বনা বা নিশ্চিত তথ্য।

নিখোঁজ ছাত্রীরা হলো- দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মুরারিপূর গ্রামের শাহজালালের মেয়ে জুঁই (১৪), একই উপজেলার গণকপয়েনর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস তামান্না (১৬) ও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গোবিন্দ নগর এলাকার বাসিন্দা রবিউলের মেয়ে আয়শা সিদ্দিকা (১৩)। তারা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর মাদরাসা পাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘আয়শা সিদ্দিকা’ বালীকা মাদরাসার ছাত্রী।

তিনজনই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর মাদরাসাপাড়া এলাকার ‘আয়শা সিদ্দিকা বালিকা মাদরাসা’র’ ছাত্রী।

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে সর্বশেষ তাদের দেখা যায়। ভোর ৫টার সময় ডাকতে গেলে তারা আর কক্ষে ছিলেন না। দোতলার বারান্দায় ঝুলন্ত মশারি দেখে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ধারণা করে, তারা পালিয়েছে।

শহরের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাত ১টার দিকে তিন ছাত্রী রিকশায় করে ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ডে যায়, সেখান থেকে রেলস্টেশনে পৌঁছে। সেদিন রাতে কোনো ট্রেন না থাকায় তারা শহরের রোড আবাসিক হোটেলে ভোর ৪টা পর্যন্ত অবস্থান করে। এরপর হোটেল ম্যানেজারের সহায়তায় আবার স্টেশনে গিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে রোড অটোস্ট্যান্ডে ফিরে যায় এবং ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জের উদ্দেশে অটোরিকশা নিয়ে রওনা হয়। তারপর থেকেই তাদের আর কোনো সন্ধান নেই।

রোড আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান ইমন বলেন, “রাত ২টার দিকে তিনজন মেয়ে এসে বলেছিল কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ভোরে চলে যাবে। আমি তাদের ব্যাগ গাড়িতে তুলে দিই।” তবে অভিযোগ রয়েছে, হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিথিদের নাম–ঠিকানা রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করে না।

নিখোঁজ তামান্নার মা আখলিমা বেগম বলেন, “মাদরাসায় এত শিক্ষার্থী থাকার পরও কোনো নিরাপত্তা প্রহরী ছিল না। বারান্দায় গ্রিলও নেই, সহজেই কেউ বাইরে যেতে পারে। আমরা মেয়েদের ওদের ভরসায় রেখে ভুল করেছি।”

নিখোঁজ আয়শার বোনের দাবি, “মাদরাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রায়ই মারধর করত। আমার বোন আগে থেকেই বলেছিল ওখান থেকে নিয়ে যেতে। নির্যাতনের ভয়েই তারা পালিয়েছে।”

এ বিষয়ে মাদরাসার প্রধান শিক্ষিকা হামিদা বেগম বলেন, “নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল ছিল, স্বীকার করছি। তবে নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা নিজেরাও তাদের খুঁজছি।”

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধান পেতে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই।”

জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা জানান, “ঘটনার পরপরই আমরা পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে, আশা করছি দ্রুতই মেয়েরা পরিবারের কাছে ফিরবে।”