ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাটোরে সরকারি গাড়িচালক সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত লালপুরে নিজের ক/ন্যাশি’শুকে ধ র্ষ ণে র অভিযোগে বাবা আটক! নলডাঙ্গার পাটুলে চার্জার গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ, প্রাণ গেল মোটরসাইকেল চালকের তিন মাস ধরে অচল রামেকের সিটি স্ক্যান মেশিন, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা করতোয়া নদীতে নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বরকলে ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী বাগাতিপাড়ায় ৩৬৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আটোয়ারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কালীমন্দিরে ভাঙচুর, সাম্প্রদায়িক গুজব ছড়ানোর অভিযোগ আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, আহত ১০ পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে কিশোর নিখোঁজ, তীব্র স্রোতে উদ্ধার অভিযান স্থগিত

গোদাগাড়ীর দ্বীপচরের চাষিদের ডিজেলের জন্য নাভিশ্বাস

মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৬৬ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোদাগাড়ীর দ্বীপচরের চাষিদের ডিজেলের জন্য নাভিশ্বাস

৫ লিটার তেলের জন্য নদী পাড়ি, স্লিপ আর দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি চরমে

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী দ্বীপচর ‘চর আষাড়িয়াদহ’ ইউনিয়নের কৃষকদের জীবন এখন এক দুঃসহ যন্ত্রণার নাম। মাত্র ৫ লিটার ডিজেল সংগ্রহের জন্য তাদের পাড়ি দিতে হচ্ছে দীর্ঘ ও জটিল এক আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এতে একদিকে যেমন কৃষকের পুরো একটি কর্মদিবস নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচে পকেট থেকে যাচ্ছে অতিরিক্ত অন্তত ৩০০ টাকা।

চরের কৃষকদের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার অজুহাতে কৃষি সরঞ্জাম বা সেচ পাম্পের জন্য ডিজেল কেনা এখন পাহাড় ডিঙানোর সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে দীর্ঘ পথ হেঁটে পদ্মা নদী পার হয়ে মূল ভূখণ্ডে আসতে হয়। এরপর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হয় বিশেষ ‘স্লিপ’। সেই স্লিপ নিয়ে অনুমোদিত পেট্রোল পাম্পে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তবেই মিলছে কাঙ্ক্ষিত ডিজেল।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৫ লিটার তেল কিনতে নৌকা ভাড়া দিয়ে নদী পার হয়ে শহরে আসতে হয়। সারাদিন অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে দিন শেষ হয়ে যায়। ডিজেলের দামের চেয়ে যাতায়াত খরচ আর সময়ের মূল্যই বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের মতো গরিব কৃষকের খবর দেখার কেউ নেই।”

সীমান্তে চোরাচালান রোধে প্রশাসনের কড়াকড়িকে কৃষকরা তাদের জন্য বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন। কৃষক করিম উদ্দিন বলেন, “চোরাচালান বন্ধের নামে আমাদের চাষাবাদ বন্ধ হওয়ার দশা। মাত্র কয়েক লিটার তেলের জন্য এত জটিল নিয়ম কেন? এতে বিঘাপ্রতি চাষের খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।”

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদত রত্ন জানান, শৃঙ্খলার স্বার্থে কৃষকদের সাময়িক কিছু অসুবিধা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কৃষকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করা যায় কি না, তা বিবেচনায় রয়েছে।

বর্তমানে চাষাবাদের ভরা মৌসুম চলছে। এই সময়ে ডিজেল সংগ্রহে এমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত নিরসন না হলে শত শত কৃষক পরিবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চরের কৃষকদের দাবি, হয় চরে তেলের ডিলার নিয়োগ করা হোক, অথবা স্লিপ সংগ্রহের এই জটিল নিয়ম বাতিল করে সহজ উপায়ে জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গোদাগাড়ীর দ্বীপচরের চাষিদের ডিজেলের জন্য নাভিশ্বাস

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

গোদাগাড়ীর দ্বীপচরের চাষিদের ডিজেলের জন্য নাভিশ্বাস

৫ লিটার তেলের জন্য নদী পাড়ি, স্লিপ আর দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি চরমে

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী দ্বীপচর ‘চর আষাড়িয়াদহ’ ইউনিয়নের কৃষকদের জীবন এখন এক দুঃসহ যন্ত্রণার নাম। মাত্র ৫ লিটার ডিজেল সংগ্রহের জন্য তাদের পাড়ি দিতে হচ্ছে দীর্ঘ ও জটিল এক আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এতে একদিকে যেমন কৃষকের পুরো একটি কর্মদিবস নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচে পকেট থেকে যাচ্ছে অতিরিক্ত অন্তত ৩০০ টাকা।

চরের কৃষকদের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার অজুহাতে কৃষি সরঞ্জাম বা সেচ পাম্পের জন্য ডিজেল কেনা এখন পাহাড় ডিঙানোর সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে দীর্ঘ পথ হেঁটে পদ্মা নদী পার হয়ে মূল ভূখণ্ডে আসতে হয়। এরপর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হয় বিশেষ ‘স্লিপ’। সেই স্লিপ নিয়ে অনুমোদিত পেট্রোল পাম্পে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তবেই মিলছে কাঙ্ক্ষিত ডিজেল।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৫ লিটার তেল কিনতে নৌকা ভাড়া দিয়ে নদী পার হয়ে শহরে আসতে হয়। সারাদিন অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে দিন শেষ হয়ে যায়। ডিজেলের দামের চেয়ে যাতায়াত খরচ আর সময়ের মূল্যই বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের মতো গরিব কৃষকের খবর দেখার কেউ নেই।”

সীমান্তে চোরাচালান রোধে প্রশাসনের কড়াকড়িকে কৃষকরা তাদের জন্য বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন। কৃষক করিম উদ্দিন বলেন, “চোরাচালান বন্ধের নামে আমাদের চাষাবাদ বন্ধ হওয়ার দশা। মাত্র কয়েক লিটার তেলের জন্য এত জটিল নিয়ম কেন? এতে বিঘাপ্রতি চাষের খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।”

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদত রত্ন জানান, শৃঙ্খলার স্বার্থে কৃষকদের সাময়িক কিছু অসুবিধা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কৃষকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করা যায় কি না, তা বিবেচনায় রয়েছে।

বর্তমানে চাষাবাদের ভরা মৌসুম চলছে। এই সময়ে ডিজেল সংগ্রহে এমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত নিরসন না হলে শত শত কৃষক পরিবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চরের কৃষকদের দাবি, হয় চরে তেলের ডিলার নিয়োগ করা হোক, অথবা স্লিপ সংগ্রহের এই জটিল নিয়ম বাতিল করে সহজ উপায়ে জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হোক।