ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় গৃহবধূকে সং/ঘব/দ্ধ ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, থানায় মামলা পুঠিয়ার পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযান টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উ/ল্টে নিহত ১৫, আহত অন্তত ১০ সিংড়ায় চোরের কাছ থেকে ফ্রিজ কেনার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে মান্দায় ৪৫ দিনের শি’শুকে বি-ষ খাইয়ে হ/ত্যা/চেষ্টার অভিযোগ নলডাঙ্গায় ট্রাকচা/পা/য় ভাঙারি ব্যবসায়ী নি’হ’ত, আহত ১ শেরপুরে প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে হা/ম/লা-ভা/ঙ/চু/র ও লু’টপা’টের অভিযোগ, আদালতে মামলা বাগাতিপাড়ায় শি’শু ও নারী নি/র্যা/তনের প্রতিবাদে র‌্যালি ও মানববন্ধন ১৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি মালঞ্চি রেলস্টেশন, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসীণৃ্ পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহে মানববন্ধন, ১৪ বছর পর ছেলের খোঁজে মায়ের আকুতি

গোদাগাড়ীর দ্বীপচরের চাষিদের ডিজেলের জন্য নাভিশ্বাস

মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১১৮ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোদাগাড়ীর দ্বীপচরের চাষিদের ডিজেলের জন্য নাভিশ্বাস

৫ লিটার তেলের জন্য নদী পাড়ি, স্লিপ আর দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি চরমে

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী দ্বীপচর ‘চর আষাড়িয়াদহ’ ইউনিয়নের কৃষকদের জীবন এখন এক দুঃসহ যন্ত্রণার নাম। মাত্র ৫ লিটার ডিজেল সংগ্রহের জন্য তাদের পাড়ি দিতে হচ্ছে দীর্ঘ ও জটিল এক আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এতে একদিকে যেমন কৃষকের পুরো একটি কর্মদিবস নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচে পকেট থেকে যাচ্ছে অতিরিক্ত অন্তত ৩০০ টাকা।

চরের কৃষকদের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার অজুহাতে কৃষি সরঞ্জাম বা সেচ পাম্পের জন্য ডিজেল কেনা এখন পাহাড় ডিঙানোর সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে দীর্ঘ পথ হেঁটে পদ্মা নদী পার হয়ে মূল ভূখণ্ডে আসতে হয়। এরপর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হয় বিশেষ ‘স্লিপ’। সেই স্লিপ নিয়ে অনুমোদিত পেট্রোল পাম্পে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তবেই মিলছে কাঙ্ক্ষিত ডিজেল।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৫ লিটার তেল কিনতে নৌকা ভাড়া দিয়ে নদী পার হয়ে শহরে আসতে হয়। সারাদিন অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে দিন শেষ হয়ে যায়। ডিজেলের দামের চেয়ে যাতায়াত খরচ আর সময়ের মূল্যই বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের মতো গরিব কৃষকের খবর দেখার কেউ নেই।”

সীমান্তে চোরাচালান রোধে প্রশাসনের কড়াকড়িকে কৃষকরা তাদের জন্য বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন। কৃষক করিম উদ্দিন বলেন, “চোরাচালান বন্ধের নামে আমাদের চাষাবাদ বন্ধ হওয়ার দশা। মাত্র কয়েক লিটার তেলের জন্য এত জটিল নিয়ম কেন? এতে বিঘাপ্রতি চাষের খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।”

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদত রত্ন জানান, শৃঙ্খলার স্বার্থে কৃষকদের সাময়িক কিছু অসুবিধা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কৃষকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করা যায় কি না, তা বিবেচনায় রয়েছে।

বর্তমানে চাষাবাদের ভরা মৌসুম চলছে। এই সময়ে ডিজেল সংগ্রহে এমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত নিরসন না হলে শত শত কৃষক পরিবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চরের কৃষকদের দাবি, হয় চরে তেলের ডিলার নিয়োগ করা হোক, অথবা স্লিপ সংগ্রহের এই জটিল নিয়ম বাতিল করে সহজ উপায়ে জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গোদাগাড়ীর দ্বীপচরের চাষিদের ডিজেলের জন্য নাভিশ্বাস

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

গোদাগাড়ীর দ্বীপচরের চাষিদের ডিজেলের জন্য নাভিশ্বাস

৫ লিটার তেলের জন্য নদী পাড়ি, স্লিপ আর দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি চরমে

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী দ্বীপচর ‘চর আষাড়িয়াদহ’ ইউনিয়নের কৃষকদের জীবন এখন এক দুঃসহ যন্ত্রণার নাম। মাত্র ৫ লিটার ডিজেল সংগ্রহের জন্য তাদের পাড়ি দিতে হচ্ছে দীর্ঘ ও জটিল এক আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এতে একদিকে যেমন কৃষকের পুরো একটি কর্মদিবস নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচে পকেট থেকে যাচ্ছে অতিরিক্ত অন্তত ৩০০ টাকা।

চরের কৃষকদের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার অজুহাতে কৃষি সরঞ্জাম বা সেচ পাম্পের জন্য ডিজেল কেনা এখন পাহাড় ডিঙানোর সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে দীর্ঘ পথ হেঁটে পদ্মা নদী পার হয়ে মূল ভূখণ্ডে আসতে হয়। এরপর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হয় বিশেষ ‘স্লিপ’। সেই স্লিপ নিয়ে অনুমোদিত পেট্রোল পাম্পে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তবেই মিলছে কাঙ্ক্ষিত ডিজেল।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৫ লিটার তেল কিনতে নৌকা ভাড়া দিয়ে নদী পার হয়ে শহরে আসতে হয়। সারাদিন অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে দিন শেষ হয়ে যায়। ডিজেলের দামের চেয়ে যাতায়াত খরচ আর সময়ের মূল্যই বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের মতো গরিব কৃষকের খবর দেখার কেউ নেই।”

সীমান্তে চোরাচালান রোধে প্রশাসনের কড়াকড়িকে কৃষকরা তাদের জন্য বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন। কৃষক করিম উদ্দিন বলেন, “চোরাচালান বন্ধের নামে আমাদের চাষাবাদ বন্ধ হওয়ার দশা। মাত্র কয়েক লিটার তেলের জন্য এত জটিল নিয়ম কেন? এতে বিঘাপ্রতি চাষের খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।”

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদত রত্ন জানান, শৃঙ্খলার স্বার্থে কৃষকদের সাময়িক কিছু অসুবিধা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কৃষকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করা যায় কি না, তা বিবেচনায় রয়েছে।

বর্তমানে চাষাবাদের ভরা মৌসুম চলছে। এই সময়ে ডিজেল সংগ্রহে এমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত নিরসন না হলে শত শত কৃষক পরিবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চরের কৃষকদের দাবি, হয় চরে তেলের ডিলার নিয়োগ করা হোক, অথবা স্লিপ সংগ্রহের এই জটিল নিয়ম বাতিল করে সহজ উপায়ে জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হোক।