উদ্বোধনের অপেক্ষায় আড়াই কোটি টাকার নেকমরদ বাজার ভবন
- আপডেট সময় : ০৩:৩৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ১৬০ বার পড়া হয়েছে

উদ্বোধনের অপেক্ষায় আড়াই কোটি টাকার নেকমরদ বাজার ভবন
দুই বছর ধরে অচল অবস্থা; ব্যবসা ও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত স্থানীয়রা
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজারে নির্মিত আড়াই কোটি টাকার একটি আধুনিক বাজার ভবন দুই বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো সেখানে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবসার কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে একদিকে ভবনের অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা; সরকারও হারাচ্ছে সম্ভাব্য বাৎসরিক রাজস্ব।
জানা যায়, গ্রামীণ বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় হয় ২ কোটি ৫৫ লাখ ১২ হাজার ১০২ টাকা। কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য বিপণনে সুবিধা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনা ছিল এ মার্কেটের মূল লক্ষ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো কাঁচা-পাকা দোকানের মাঝখানে দুইতলা বিশিষ্ট ভবনটি দাঁড়িয়ে থাকলেও নিচতলার ৩৪টি ও ওপরতলার ২৪টি দোকানঘর এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। নিচতলায় সবজি, মাছ ও মাংসের দোকান বসার কথা থাকলেও অধিকাংশ ঘর ফাঁকা। দোতলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ঘরগুলোতেও ব্যবসা শুরু হয়নি।
বাজারে তিন শতাধিক ছোট-বড় দোকান রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী এখনো খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী ঘরে ব্যবসা করছেন। সাপ্তাহিক হাটের দিনে কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও স্থায়ী দোকানগুলোতে নিয়মিত বেচাকেনা নেই। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনের টাইলস ও দেয়ালে ধুলা জমেছে, কিছু অংশে ক্ষয়ের চিহ্নও দেখা যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী শহিদুল বলেন, বাজারটি বহু বছরের পুরোনো; এখানে ধান-গম ও গবাদিপশুর বড় হাট বসে। কিন্তু নতুন ভবনটি চালু না হওয়ায় আমরা সুবিধা পাচ্ছি না। দোতলার একটি দোকান বরাদ্দ পাওয়া ভবানন্দপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর নামে ঘর নিতে এক লাখ টাকা জামানত দিয়েছেন; মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। তবে এখনো দোকান চালু করেননি।
নেকমরদ মেলা কমিটির সম্পাদক মো. নবী বলেন, ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। প্রয়োজনে লিজ বাতিল করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঘর পুনরায় বরাদ্দ দিয়ে মার্কেট চালুর ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, এলজিইডি নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে। বাজার চালুর বিষয়টি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
নেকমরদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে; যাঁরা এখনো ব্যবসা শুরু করেননি, তাঁদের দ্রুত চালু করতে বলা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















