নলডাঙ্গায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রামবাসীর, মুষ্টি চাল ও স্বেচ্ছাশ্রমে এক কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার
- আপডেট সময় : ০৫:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ১০১ বার পড়া হয়েছে

নলডাঙ্গায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রামবাসীর, মুষ্টি চাল ও স্বেচ্ছাশ্রমে এক কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার
নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
নাটোরের নলডাঙ্গায় একটি গ্রামে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে নিজেদের অর্থ, মুষ্টি চাল সংগ্রহ এবং স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কারে নেমেছেন ওই গ্রামের বাসিন্দারা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই অংশ নেওয়ায় ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বিপ্রবেলঘড়িয়া ইউনিয়নের হরিদা খলসী গ্রামের সোনারপাড়া থেকে বানুরভাগ অভিমুখী রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হয়। এতে গ্রামের বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ একসঙ্গে অংশ নেন।
স্থানীয়রা জানান, হরিদা খলসী গ্রামের সোনারপাড়া থেকে শুরু হওয়া কাঁচা রাস্তাটি বানুরভাগ গ্রামের প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদায় ভরে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বর্ষায় প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি কাদা ও খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছিল। দীর্ঘদিনেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ না আসায় স্থানীয়রা নিজেরাই রাস্তা মেরামতের সিদ্ধান্ত নেন।
এ লক্ষ্যে গ্রামের প্রতিটি বাড়ি থেকে মুষ্টি চাল সংগ্রহ করে একটি তহবিল গঠন করা হয়। অনেকেই নগদ অর্থ দিয়েছেন, আর যারা অর্থ দিতে পারেননি তারা শ্রম দিয়ে কাজ করছেন। এভাবেই গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলছে রাস্তা সংস্কার।
স্থানীয় বাসিন্দা মইন আলী বলেন, এই রাস্তাটিই আমাদের হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালে যাতায়াতের একমাত্র পথ। দীর্ঘদিনেও কেউ সংস্কার করেনি। তাই বাধ্য হয়ে নিজেরাই কাজ শুরু করেছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হলেও একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।
বিপ্রবেলঘড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জিল্লুর রহমান বলেন, এলাকাবাসীর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। খবর পেয়ে আমিও তাদের সঙ্গে কাজ করেছি। ভবিষ্যতে রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
এদিকে নলডাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গ্রামবাসীর এই আত্মপ্রত্যয়ী উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং দ্রুত রাস্তাটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















