ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাটোরে বাবার জানাজায় প্যারোলে অংশ নিলেন সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি জেমস জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত আদনান আজাদ ও হাসমত আলীকে সংবর্ধনা পঞ্চগড়ে ১৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু করতে দলমত-ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী মান্দায় মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড মোহনপুরে আধুনিক প্রযুক্তিতে মসলা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে মাঠ দিবস বাঘায় গোয়ালঘর থেকে আগুন, নিঃস্ব তিন পরিবার রাজশাহীতে কলেজছাত্রীকে যৌ/ন হয়রানির অভিযোগ, কি‍-শোর গ্যাং/য়ে/র ৩ সদস্য গ্রেপ্তার রাজশাহীতে শব্দদূষণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি, রেইলগেট ও লক্ষীপুর মোড়ে শব্দমাত্রা ১০০ ডেসিবেলের বেশি ঝিনাইগাতীতে বিয়ের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে নারীর দাবি বাগাতিপাড়ায় ভয়াবহ আগুনে ৬ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতি ১০-১২ লাখ টাকা

লাইভ ওয়েটে কম দামে গরু বিক্রি করে আলোচনায় বাগাতিপাড়ার তরুণ খামারি শাহিন

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ৩২৫ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লাইভ ওয়েটে কম দামে গরু বিক্রি করে আলোচনায় বাগাতিপাড়ার তরুণ খামারি শাহিন 

প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা গরু প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় বিক্রির ঘোষণা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লাইভ ওয়েট পদ্ধতিতে গরু বিক্রি করে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার তরুণ খামারি শাহিনুর রহমান (৩৩)। তুলনামূলক কম দামে কোরবানির গরু বিক্রির ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় ক্রেতাদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিনি।

শাহিনুর রহমান উপজেলার সদর ইউনিয়নের নুরপুর কলেজপাড়ার বাসিন্দা এবং মো. আলাউদ্দিনের ছেলে। নিজ বাড়িতেই ছোট পরিসরে “ফাইম এগ্রো” নামে একটি খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এবারের কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দেশীয় ষাঁড় জাতের গরু সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

স্থানীয়দের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামে গরু বিক্রির এ উদ্যোগ সফল হলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য তা স্বস্তির কারণ হবে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার খামারে গরু দেখতে আসছেন।

বর্তমানে কোরবানির পশু বিক্রিতে “লাইভ ওয়েট” পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ পদ্ধতিতে গরুর জীবিত অবস্থার ওজন ডিজিটাল মেশিনে মেপে প্রতি কেজি অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সুযোগ কমে যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খামারি শাহিনুর রহমান জানান, ছোটবেলা থেকেই ব্যক্তিগতভাবে গরু পালনের অভিজ্ঞতা থাকলেও এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে খামার পরিচালনা করছেন তিনি। প্রায় দেড় মাস আগে দিনাজপুরের বিভিন্ন হাট থেকে গৃহস্থদের কাছ থেকে ১৫টি গরু কিনে আনেন। গরু কিনতেই তার প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া পরিবহন, খাদ্য ও পরিচর্যায় আরও প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ যেন কম দামে ভালো মানের গরু কিনতে পারে, সেই চিন্তা থেকেই প্রতি কেজি লাইভ ওয়েট ৫০০ টাকা দরে গরু বিক্রির পরিকল্পনা করেছি। বর্তমানে অনেক খামারি সাড়ে ৫০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি করছেন।”

গরুর পরিচর্যা প্রসঙ্গে শাহিনুর রহমান বলেন, তার খামারের গরুগুলোতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম ফিড ব্যবহার করা হয়নি। প্রাকৃতিক ঘাস, গমের ভুসি ও চিটাগুড় খাইয়ে গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে।

আসন্ন ঈদে প্রায় ২০ লাখ টাকায় গরুগুলো বিক্রির আশা করছেন তিনি। এ বছর ছোট পরিসরে শুরু করলেও ভবিষ্যতে খামার আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান এই উদ্যোক্তা।

উপজেলার রহিমানপুর এলাকার বাসিন্দা রান্টু বলেন, “বর্তমানে বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি। শাহিন যদি সত্যিই কম দামে লাইভ ওয়েটে গরু বিক্রি করতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য এটি ভালো উদ্যোগ হবে।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম সরোয়ার চাঁদ বলেন, “খামারে গিয়ে দেখেছি গরুগুলো প্রাকৃতিকভাবে পালন করা হচ্ছে। দামও তুলনামূলক কম রাখা হয়েছে। এতে মানুষ প্রতারিত হওয়ার ভয় কম থাকবে।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লা বলেন, লাইভ ওয়েট পদ্ধতিতে গরু বিক্রি একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক ব্যবস্থা। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারেন। প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

লাইভ ওয়েটে কম দামে গরু বিক্রি করে আলোচনায় বাগাতিপাড়ার তরুণ খামারি শাহিন

আপডেট সময় : ০৮:০২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

লাইভ ওয়েটে কম দামে গরু বিক্রি করে আলোচনায় বাগাতিপাড়ার তরুণ খামারি শাহিন 

প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা গরু প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় বিক্রির ঘোষণা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লাইভ ওয়েট পদ্ধতিতে গরু বিক্রি করে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার তরুণ খামারি শাহিনুর রহমান (৩৩)। তুলনামূলক কম দামে কোরবানির গরু বিক্রির ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় ক্রেতাদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিনি।

শাহিনুর রহমান উপজেলার সদর ইউনিয়নের নুরপুর কলেজপাড়ার বাসিন্দা এবং মো. আলাউদ্দিনের ছেলে। নিজ বাড়িতেই ছোট পরিসরে “ফাইম এগ্রো” নামে একটি খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এবারের কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দেশীয় ষাঁড় জাতের গরু সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

স্থানীয়দের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামে গরু বিক্রির এ উদ্যোগ সফল হলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য তা স্বস্তির কারণ হবে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার খামারে গরু দেখতে আসছেন।

বর্তমানে কোরবানির পশু বিক্রিতে “লাইভ ওয়েট” পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ পদ্ধতিতে গরুর জীবিত অবস্থার ওজন ডিজিটাল মেশিনে মেপে প্রতি কেজি অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সুযোগ কমে যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খামারি শাহিনুর রহমান জানান, ছোটবেলা থেকেই ব্যক্তিগতভাবে গরু পালনের অভিজ্ঞতা থাকলেও এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে খামার পরিচালনা করছেন তিনি। প্রায় দেড় মাস আগে দিনাজপুরের বিভিন্ন হাট থেকে গৃহস্থদের কাছ থেকে ১৫টি গরু কিনে আনেন। গরু কিনতেই তার প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া পরিবহন, খাদ্য ও পরিচর্যায় আরও প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ যেন কম দামে ভালো মানের গরু কিনতে পারে, সেই চিন্তা থেকেই প্রতি কেজি লাইভ ওয়েট ৫০০ টাকা দরে গরু বিক্রির পরিকল্পনা করেছি। বর্তমানে অনেক খামারি সাড়ে ৫০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি করছেন।”

গরুর পরিচর্যা প্রসঙ্গে শাহিনুর রহমান বলেন, তার খামারের গরুগুলোতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম ফিড ব্যবহার করা হয়নি। প্রাকৃতিক ঘাস, গমের ভুসি ও চিটাগুড় খাইয়ে গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে।

আসন্ন ঈদে প্রায় ২০ লাখ টাকায় গরুগুলো বিক্রির আশা করছেন তিনি। এ বছর ছোট পরিসরে শুরু করলেও ভবিষ্যতে খামার আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান এই উদ্যোক্তা।

উপজেলার রহিমানপুর এলাকার বাসিন্দা রান্টু বলেন, “বর্তমানে বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি। শাহিন যদি সত্যিই কম দামে লাইভ ওয়েটে গরু বিক্রি করতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য এটি ভালো উদ্যোগ হবে।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম সরোয়ার চাঁদ বলেন, “খামারে গিয়ে দেখেছি গরুগুলো প্রাকৃতিকভাবে পালন করা হচ্ছে। দামও তুলনামূলক কম রাখা হয়েছে। এতে মানুষ প্রতারিত হওয়ার ভয় কম থাকবে।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লা বলেন, লাইভ ওয়েট পদ্ধতিতে গরু বিক্রি একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক ব্যবস্থা। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারেন। প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।