বাগাতিপাড়ায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রলোভনে ডেকে বাদাম বিক্রেতাকে হত্যা!
- আপডেট সময় : ০৩:২৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৫৭ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রলোভনে ডেকে বাদাম বিক্রেতাকে হত্যা!
বিশেষ প্রতিনিধি নাটোরঃ
বাগাতিপাড়ায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রলোভনে ডেকে বাদাম বিক্রেতাকে হত্যা! নাটোরের বাগাতিপাড়ায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রলোভনে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় ৩৫ বছর বয়সী বাদাম বিক্রেতা তপন চন্দ্র চৌধুরীকে। র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ৬জনকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এই হত্যাকান্ডের মুল হোতা বাগাতিপাড়া উপজেলার বাড়ইপাড়া এলাকার (ডিগ্রি কলেজের সামনে) মৃত বয়েজ উদ্দিন সরকারের ছেলে সুদ ব্যবসায়ী মইনুল ইসলামকে নওগাঁর আত্রাই থেকে গ্রেফতার করে র্যাব।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের সময় হত্যাকান্ডের মুল হোতা মইনুল ইসলাম ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে এদিন রাতে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বাড়ইপাড়া এলাকার আলম মোল্লার ছেলে মিলন মোল্লা ওরফে মিলন আহমেদ (২৫), একই এলাকার আমিরুল ইসলামের ছেলে আলামিন ইসলাম ওরফে হিরো আলম (২০), বিহারকোল এলাকার বাবলু শেখের ছেলে শাহাবুল শেখ (৩০) ও একই উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে শরিফুল ইসলাম ওরফে শরিফ (৩৫)কে গ্রেফতার করে র্যাব-৫ ও বাগাতিপাড়া মডেল থানা পুলিশের একটি দল। এর আগে শনিবার বিকেলে বাগাতিপাড়া উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের শমিরন চন্দ্র শীলের ছেলে সুমন (২৮)কে আটক করে থানা পুলিশ।
রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-৫, সিপিসি-২, নাটোর ক্যাম্পে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করে কোম্পানী কমান্ডার মেজর শাহারিয়াজ জানান, তপন চন্দ্র চৌধুরী একজন বাদাম বিক্রেতা। সে বাগাতিপাড়ার মালঞ্চি বাজারে বাদাম বিক্রি করতো। প্রতিদিনের মত বৃহপতিবার ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩ টার দিকে বাদাম বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে মালঞ্চি বাজারে আসে। এদিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাদাম বিক্রি শেষে ওই বাজারে সাহানের দর্জির দোকান ঘরে বাদামের ডালি রেখে বাড়ি যাওয়ার কথা বলে ওই দোকান থেকে বিদায় নেয় তপন। কিন্ত রাত ১০টা বেজে গেলেও তপন বাড়িতে না ফেরায় তার বড় ভাই নিতিশ চন্দ্র চৌধুরী মালঞ্চি বাজারে এসে তপনের খোজা করে না পেয়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি ফিরে যায়। পরদিন শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জানতে পারে বাগাতিপাড়া মহিলা ডিগ্রী কলেজ ও সরকারি কলেজের দক্ষিণ পার্শ্বে নীলচড়া মাঠের জনৈক সবুর মন্ডলের আখ ক্ষেতের আইলের উপর একটি অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ পড়ে আছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিতিশ চন্দ্র চৌধুরী তার ভাইয়ের মৃতদেহ বলে সনাক্ত করেন।
র্যাব কর্মকর্তা আরো বলেন, হত্যাকান্ডের মুল হোতা মাইনুল একজন সুদ কারবারি এবং পতিতা ব্যবসার সাথে জড়িত। মৃত তপন চৌধুরীকে টাকা ধার দেয় সে। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করায় তপনের সাথে তার বিরোধ বাধে। এক পর্যাায়ে তপনকে হত্যার পরিকল্পনা করে মাইনুল। ভিকটিমের চারিত্রিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনৈতিক প্রলোভন দিয়ে বাদাম বিক্রেতা তপন চৌধুরীকে বিহারকোল এলাকার জনৈক ইয়াসিনের ফার্মের কাছে ডেকে নেয়। সে ওই ফার্মের কাছে যাওয়া মাত্রই হত্যার সাথে জড়িতরা তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং এলোপাথারী ভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। তাকে হত্যার পর নীলচড়া মাঠের ওই ফসলি জমির আইলের ওপর ফেরে যায়। ঘটনাটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং এঘটনায় নিহতের বড় ভাই থানায় মামলা দায়ের করলে আসামীরা গা ঢাকা দেয়।
র্যাব-৫ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকান্ডের মুল হোতা মইনুল ইসলামকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আত্রাই এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। এসময় তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাগাতিপাড়াার বিভিন্ন স্থান থেকে বাগাতিপাড়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় অপর চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বাগাতিপাড়া থানায় সোপর্দ করা হয় বলে জানান এই র্যাব কর্মকর্তা।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, বাদাম বিক্রেতা তপন চৌধুরী হত্যার ঘটনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই তাদের পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকান্ডের মূল হোতা মাইনুল সহ ৬জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের রোববার বিকেলে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়। পরে তাদের সকলের রিমান্ড আবেদন করা হলে আসামি ৬ জনের ২দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিজ্ঞ আদালত।






















