শাহজাদপুরে মেয়ে হত্যার মামলা করে এলাকা ছাড়া বাদী পরিবার!
- আপডেট সময় : ০৩:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

শাহজাদপুরে মেয়ে হত্যার মামলা করে এলাকা ছাড়া বাদী পরিবার!
সবুজ হোসেন রাজা, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :
শাহজাদপুরে মেয়ে হত্যার মামলা করে এলাকা ছাড়া বাদী পরিবার! সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে ও থানায় মামলা দায়ের করে উল্টো বিপাকে পরেছে নিরীহ বাদীর পরিবার। মামলা করে প্রভাবশালীদের অত্যাচারে বাড়িছাড়া হতে হয়েছে নিরীহ বাদী পরিবারকে। গত ২৫ আগষ্ট সন্ধ্যার দিকে উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের পোরজনা পূর্বপাড়া গ্রামে মোঃ শহিদুল ইসলাম(সাইদুল) এর মেয়ে নুপুর খাতুন(২২) বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের ফলে মারা যায় বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত নুপুর খাতুন পোরজনা পূর্বপাড়ার মোঃ মিজানুর রহমান এর স্ত্রী ও এক সন্তানের জননী।
পরের দিন ২৬ আগষ্ট নিহত নুপুর খাতুনের মা মোছাঃ সামারতো খাতুন বাদী হয়ে নুপুর খাতুনের স্বামী মিজানুর রহমান নামে একটি আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করে। সেই মামালায় থানা পুলিশ মিজানুর রহমানকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করে। উক্ত মামলায় সে বর্তমানে জামিনে রয়েছে ।
এ ব্যাপারে নিহত নুপুর খাতুনের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী কন্যার মৃত্যুর শোকে হতবুদ্ধি হয়ে পরায় মেয়ের শশুড়বাড়ীর মানুষ ও এলাকার প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা আমার কন্যার লাশ ফেরৎ দেওয়ার কথা বলে সাদা কাগজে টিপ সই নেয়। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমার স্ত্রীর টিপ সই যুক্ত কাগজে মামলার প্রকৃত ঘটনা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আমার মেয়ের স্বামীকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। কিন্তু আরও যেসকল আসামীরা আমার মেয়ে হত্যার সাথে জরিত তাদের আসামী থেকে বাদ দেওয়া হয় তাই আমি ১২ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ আদালতে বাদি হয়ে মেয়ে হত্যার সাথে জরিত তার স্বামী মিজানুর রহমানসহ আরও ৬ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করি।
আদালতের মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামীগন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নুপুর খাতুনকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তার স্বামী বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট কিনে তার কাছে রেখে দেয় এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫আগষ্ট সকালে হত্যার উদ্দেশ্যে নুপুর খাতুনকে মারপিট করে। এতে নুপুর মারাত্বক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরলে চিকিৎসার কথা বলে ব্যাথার ঔষধদের সাথে তার স্বামী বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়াইয়া পূর্বপরিকল্পনা মতে নুপুর খাতুনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার বাবা।
এবিষয়ে নিহতের মা মোছাঃ সামারতো খাতুন মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে প্রতিবেদকে বলেন, শশুড়বাড়ীর লোকজন আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমরা মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করায় এবং সেই মামলাটি মিমাংসা করার চাপ দেওয়ার পর মিমাংসায় রাজি না হওয়ায় পোরজনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পোরজনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আমজাদ হোসেনসহ এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা হুমকি-ধাকমিসহ মারপিট করে। তাদের অত্যাচারে আমরা বাড়ী না থাকতে পেরে তাদের ভয়ে আমরা বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে অন্যত্র লুকিয়ে বাস করছি।
অপরদিকে ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সব মিথ্যা। আমি বাদিকে মামলা মিমাংসার প্রস্তাব বা কোন হুমকি ধামকি দেইনি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রবিউল করিম জানান, মামলা দায়ের পরই নিহত নুপুর খাতুনের স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তিনি এখন জামিনে আসেন। ময়না তদন্তের রির্পোট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। মামলার বাদি যে নিজ বাড়ীতে থাকতে পারছে না এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বাদি আমাদের এ বিষয়ে কিছুই জানাই নি এবং আমিও আপনাদের কাছ থেকে প্রথম জানলাম। বিষয়টি অবশ্যই খোঁজ নিয়ে জানানো হবে।




















