গলায় ফাঁস দিয়ে রারি ছাত্রীর আত্মহত্যা, স্বামীসহ আটক ২!
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ জুলাই ২০২২ ১৯১ বার পড়া হয়েছে

গলায় ফাঁস দিয়ে রারি ছাত্রীর আত্মহত্যা, স্বামীসহ আটক ২!
এম এম মামুন, নিউজ ডেস্ক:
গলায় ফাঁস দিয়ে রারি ছাত্রীর আত্মহত্যা, স্বামীসহ আটক ২! রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ওই ছাত্রীর মৃত্যুটাকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন সহপাঠীরা। শুক্রবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে সসড়ে ১২ টার সময় বিনোদপুরের ধরমপুরে অবস্থিত একটি ভাড়া বাসা থেকে ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত ছাত্রীর নাম মোসা: রিক্তা আক্তার (২১)। তিনি রাবির আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার জোতপাড়া গ্রামে। স্বামীর সঙ্গে ধরমপুরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন রিক্তা। তার স্বামী আব্দুল্লাহ ইসতিয়াক রাব্বি (রাবির) অ্যাপ্লাইড ম্যাথমেটিকস বিভাগের ছাত্র। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামে।
উদ্ধারের পর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহতের সহপাঠীরা বলছেন, মৃত্যুর বিষয়টি সন্দেহজনক।
রিক্তার কয়েকজন সহপাঠী জানায়, তারা বিষয়টা জানামাত্র রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলজের মর্গে গিয়েছিলেন। এসময় তাদের সামনেই পুলিশ রিক্তার স্বামীকে কিছুটা জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেসময় রিক্তার স্বামী জানান, কিছুদিন যাবৎ তার স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে কথা বলত। এ বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।
তিনি বলেন, শুক্রবার (২৯ জুলাই) বিকেলেও তাদের কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এসময় রাগ করে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরে কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। এরপরে রাত ১২টার দিকে ঘুম দেখে উঠে দেখেন, তার স্ত্রী জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তখনো না ঘুমিয়ে জানালার পাশে কি করছে জানতে চেয়ে স্ত্রীর কাছে গিয়ে দেখেন, সে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়েছে। তখন তিনি চিৎকার করে নিজেই ফাঁস থেকে তাকে খোলার চেষ্টা করেন। নিজে ফাঁস খুলতে না পেরে তিনি পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া তার বন্ধুকে ডাকেন। এরপর রিক্তাকে ফাঁস থেকে খুলে আব্দুল্লাহ এবং তার বন্ধু তাকে নিয়ে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। রামেকে পৌঁছানোর পরে কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, আগেই তার স্ত্রী মারা গেছেন।
এদিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃতের স্বামী ও স্বামীর বন্ধুকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। রিক্তা ও তার স্বামীর মোবাইল ফোনও নিজেদের কাছে নিয়েছে পুলিশ। বিষয়টিকে সন্দেহজনক হিসেবেই দেখছেন মৃতের সহপাঠীরা।
এ বিষয়ে আইন বিভাগের সভাপতি হাসিবুল আলম প্রধান বলেন, আমি রিক্তার মৃত্যুর বিষয়টা জেনে গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত হয়েছি। খবরটি জানার পরে রাতেই আমি হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলাম। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, রিক্তার স্বামী ও তার বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের হেফাজতে রেখেছি। মৃতের আত্মীয়স্বজন আসার পরে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




















