হাইকোর্টের রায়ে বৈধ সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা, ফটিকছড়িতে সমর্থকদের আনন্দ
- আপডেট সময় : ০৮:২৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

হাইকোর্টের রায়ে বৈধ সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা, ফটিকছড়িতে সমর্থকদের আনন্দ
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার পরপরই ফটিকছড়িতে সরোয়ার আলমগীরের সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তারা বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল বের করেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তবে ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে নির্বাচন কমিশন তাঁর নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখে।
এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও পরে নির্বাচন কমিশন তা বাতিল করে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন। পরবর্তীতে রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, এ রায়ের ফলে তাঁর নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা থাকছে না।
একই ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত বিষয়ে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিজয়ী প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মামলার রায় ভিন্ন হওয়ায় বিষয়টি নিয়েও জনমনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগে হাইকোর্ট আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দায়ের করা আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তাঁর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন। ফলে তাঁর নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের সুযোগ আর থাকেনি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একই ধরনের অভিযোগ থাকলেও প্রতিটি মামলার তথ্য-উপাত্ত, প্রমাণ, ঋণ পরিশোধের অবস্থা এবং আইনি প্রশ্ন ভিন্ন হতে পারে। আদালত প্রতিটি মামলার নিজস্ব বাস্তবতা ও উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। তাই দুটি মামলার রায় এক হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
হাইকোর্টের সর্বশেষ রায়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-২ আসনের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রমের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।



















