মান্দায় লিজ নেওয়া বিল গোপনে সাবলিজের অভিযোগ, মৎস্যজীবীদের মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৮:১৫:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

মান্দায় লিজ নেওয়া বিল গোপনে সাবলিজের অভিযোগ, মৎস্যজীবীদের মানববন্ধন
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের নাপিতপাড়া (জলিঙ্গি) বিল গোপনে সাবলিজ দেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। তাঁদের দাবি, সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সদস্যদের না জানিয়ে বিলটি অন্যের কাছে সাবলিজ দিয়েছেন। এতে প্রায় ২০০ মৎস্যজীবী পরিবার মাছ শিকার ও জীবিকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে নাপিতপাড়া গ্রামের সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় বিলটি পুনরায় সমিতির নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে এনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের নাপিতপাড়া (জলিঙ্গি) বিলের খাস জমির পরিমাণ ৯ দশমিক ৩৬ একর। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে বিলটির আয়তন প্রায় ২০ একরে বিস্তৃত হয়। উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৪৩১ থেকে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৮৭৫ টাকায় বিলটি নাপিতপাড়া ও পার-কুলিহার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে ইজারা দেয়।
মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, লিজ পাওয়ার পর সদস্যদের চাঁদার অর্থে বিলে মাছ চাষ করা হয়। পাশাপাশি এলাকার অন্তত ২০০টি মৎস্যজীবী পরিবার ওই বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। তাঁদের দাবি, সমিতির সদস্যদের প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আমানত এবং দুই বছরের মাছ চাষের লভ্যাংশ সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের কাছে রয়েছে।
তাঁদের আরও অভিযোগ, চলতি বর্ষা মৌসুমের জন্য বিলের বিভিন্ন কুয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মজুত রাখা হয়েছিল। সেই মাছসহ বিলটি সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সদস্যদের অজ্ঞাতে কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিলন হোসেনের কাছে সাবলিজ দেন।
মৎস্যজীবীদের ভাষ্য, সাবলিজ নেওয়ার পর মিলন হোসেন বিলটির চারপাশে নেটজাল দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন। ফলে স্থানীয় জেলেরা সেখানে মাছ ধরতে পারছেন না এবং তাঁদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মৎস্যজীবী মনজুর আলী বলেন, “মৎস্যজীবীদের স্বার্থে সমিতির নামে বিলটি লিজ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব না দিয়ে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছেন।”
মৎস্যজীবী সাইদুর রহমান বলেন, “গোপনে বিলটি সাবলিজ দেওয়ার পর আমাদের আর সেখানে মাছ ধরতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাহেব আলী, মনজুর আলী মিস্ত্রি, সাইদুর রহমান, নায়েব আলী ও রুবেল হোসেন।
অভিযোগের বিষয়ে সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সাবলিজগ্রহীতা মিলন হোসেন বলেন, “সমিতির নেতাদের কাছ থেকে বিলটি সাবলিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছি। ইতোমধ্যে সেখানে অনেক টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।” তবে সাবলিজটি বৈধ কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।
উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা দেওয়া জলমহাল সাবলিজ দেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















