মিরপুরে ৭-৮ দিন ধরে কক্ষে পড়ে ছিল বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ, তিন সন্তান উচ্চপদস্থ ও প্রতিষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০১:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

মিরপুরে ৭-৮ দিন ধরে কক্ষে পড়ে ছিল বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ, তিন সন্তান উচ্চপদস্থ ও প্রতিষ্ঠিত
রাজধানীর মিরপুরে নুরজাহান বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর অন্তত সাত থেকে আট দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১ জুন) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মিরপুর-১১ এলাকার পল্লবী থানাধীন ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠায় পুলিশ।
পল্লবী থানার পুলিশ জানায়, নুরজাহান বেগম তার মেয়ের বাসায় বসবাস করতেন। তবে তিনি একটি পৃথক কক্ষে থাকতেন। কয়েকদিন ধরে কোনো সাড়া না পেয়ে তার মেয়ে একজন নার্সকে ডেকে আনেন। নার্স ওই কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান এবং ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরেছিল এবং পুরো কক্ষে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। যে ঘরে বৃদ্ধা থাকতেন, সেটি অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো ও আবর্জনায় ভরা ছিল। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ পরিচর্যা ও তত্ত্বাবধানের অভাবে ছিলেন।
পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জর (ওসি) হাসান বাসির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মৃত্যুর সময় ও কারণ সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের মধ্যে একজন সরকারের একজন যুগ্ম সচিব, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং অপরজন কানাডাপ্রবাসী। এছাড়া তার মেয়ের স্বামীও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।










