বাগাতিপাড়ায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার রেলপথে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত, দুর্ঘটনার শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০২:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার রেলপথে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত, দুর্ঘটনার শঙ্কা
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার রেলপথের এলাকাজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি কংক্রিট স্লিপার ভেঙে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপারের ওপর দিয়েই প্রতিদিন দ্রুতগতিতে আন্তঃনগর, মেইল ও ঢাকাগামী ট্রেন চলাচল করায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্লিপারগুলো ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকলেও কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপার প্রতিস্থাপন ও রেলপথ সংস্কার না করলে যাত্রী নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সান্তাহার কিলোমিটার বোর্ড সেকশনের পিলার ২২৬/৩ থেকে ২৩৩/০ পর্যন্ত এলাকায় শত শত রেল স্লিপার ভেঙে রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপারের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি। বড়াল ব্রিজ এলাকা, মালঞ্চি রেলস্টেশন, মালঞ্চি বাজার লেভেল ক্রসিং, বড়পুকুরিয়া, ঠেঙ্গামারা, স্বরিপপুর লেভেল ক্রসিং এবং ইয়াছিনপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে।

অনেক স্থানে রেললাইনের নিচের স্লিপার নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। কোথাও নাট-বল্টু খুলে গেছে, কোথাও স্লিপারের ভেতরের লোহার তার বাইরে বেরিয়ে এসেছে। আবার কিছু স্থানে একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি স্লিপার ভেঙে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
মালঞ্চি রেলস্টেশন সংলগ্ন পেড়াবাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা ওমর আলী মণ্ডল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে স্লিপারগুলো ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। দ্রুতগতিতে ট্রেন চলাচল করায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত এগুলো মেরামত করা প্রয়োজন।”
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই রেলপথ। প্রতিদিন আপ-ডাউন মেইল, আন্তঃনগর ও ঢাকাগামীসহ প্রায় ৩২টি ট্রেন এই পথে চলাচল করে।
বড়পুকুরিয়া লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান আমিরুল ইসলাম ও ইয়াছিনপুর লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান ইরাক হোসেন জানান, রেললাইনের অনেক স্লিপার দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও একসঙ্গে একাধিক স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তারা বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ কয়েকবার পরিদর্শন করলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।
সান্তাহার ৬ আইএসের আওতাধীন বাগাতিপাড়া এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত রেল মিস্ত্রি (মেট) কিরণ সরকার জানান, তার দায়িত্বাধীন সাড়ে ৭ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি কংক্রিট স্লিপার ভাঙা রয়েছে। তিনি নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিচ্ছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপারের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপার অপসারণ করে রেললাইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।










