অপারেশনের পর রেফার, অ্যাম্বুলেন্সে প্র’সূতির মৃ/ত্যু
- আপডেট সময় : ০৮:১২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ২০২ বার পড়া হয়েছে

অপারেশনের পর রেফার, অ্যাম্বুলেন্সে প্র’সূতির মৃ/ত্যু
নবীনগরের প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ, ক্ষুব্ধ স্বজনদের ভাঙচুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত অন্যত্র রেফার করা হয়, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরই তারা বুঝতে পারেন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন। পরে অ্যাম্বুলেন্সেই ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা রোববার সকালে হাসপাতালে এসে ভাঙচুর চালান। তবে নবজাতক শিশু সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত প্রসূতির নাম রাকিবা আক্তার (১৮)। তিনি নবীনগর উপজেলার লাউরফতেহপুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে প্রসব ব্যথা উঠলে নরমাল ডেলিভারির উদ্দেশ্যে রাকিবা আক্তারকে নবীনগর উপজেলা সদরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।
রোগীর স্বজনদের দাবি, অপারেশনের কিছুক্ষণ পরই রাকিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে রোগীকে অন্যত্র পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। স্বজনদের অভিযোগ, রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক, কর্মচারী ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সরে যান।
নিহতের মা রেহেনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, মেয়েকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময়ই তার সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে তিনি দেখেন, মেয়ের শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। তার দাবি, অপারেশনের পরই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির তদন্ত ও বিচার চান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ওই হাসপাতালে প্রসূতি মা ও নবজাতকের চিকিৎসা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।
রোববার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, নিহত রাকিবার নবজাতক পুত্রসন্তান সুস্থ রয়েছে।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।




















