ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যাত্রীবেশে নারীকে কু’পিয়ে ছিনতাই, ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে মহারাজার দিঘি থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, পাশে মিলল চিরকুট দেবীগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু নলডাঙ্গায় হালতি বিলে পোনা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা নলডাঙ্গায় সরকারি সারবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন চালক-হেলপার অর্থের অভাবে চীনের মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত, সহযোগিতা চায় বাগাতিপাড়ার মেধাবী ফাতেমা বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনেই নিরাপত্তাহীনতায় আনসার সদস্য, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ লালপুরে ৩১ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে রাজশাহীতে সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট ও ভোগান্তি শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ভাঙা ঘরেই জীবনসংগ্রাম-প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে দেলোয়ারের অনন্ত লড়াই

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ ২৮০ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভাঙা ঘরেই জীবনসংগ্রাম-প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে দেলোয়ারের অনন্ত লড়াই

ঠাকুরগাঁওয়ে মা-হারা ছেলেকে আগলে দিনমজুর বাবার বেঁচে থাকার সংগ্রাম

চারদিকে সবুজ ফসলের মাঠ, পাশে ছোট দুটি পুকুর আর সামনে কয়েকটি বসতঘর—প্রকৃতির শান্ত পরিবেশের মাঝেই পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি ভাঙাচোরা ঘর। মাটির চার দেয়াল, ভাঙা টিনে ঘেরা, উপরে ঢেউটিনের ছাউনি—যা আবার গাছের ডাল দিয়ে কোনোভাবে চাপা দেওয়া। দূর থেকে পাখির বাসার মতো দেখালেও, কাছ থেকে বোঝা যায়—এটাই মানুষের বসবাসের জায়গা।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের জাবড়াকুড়া এলাকায় এভাবেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন প্রায় ৪৫ বছর বয়সী দেলোয়ার হোসেন। তার সঙ্গী একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তান বকুল।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা ঘরের এক পাশে একটি চৌকি, পাশে ছোট একটি টেবিল, আর এক কোণে একটি টিউবওয়েল। সেই এক ঘরেই তাদের বসবাস। প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে যেতে হয় খোলা মাঠে। নেই কোনো ন্যূনতম স্যানিটেশন ব্যবস্থা।

দেলোয়ার হোসেন জানান, তার ছেলে বকুল যখন মাত্র দুই বছরের, তখনই তার স্ত্রী মারা যান। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর দ্বিতীয় বিয়ে করেননি তিনি। আশঙ্কা ছিল—নতুন সংসারে প্রতিবন্ধী সন্তান অবহেলার শিকার হতে পারে।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর বকুলকে লালন-পালন করেন দেলোয়ারের মা। কিন্তু পরবর্তীতে তার মায়ের মৃত্যু হলে পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে তার ওপর। তখন থেকেই শুরু হয় কঠিন সংগ্রামের জীবন।

ছেলের চিকিৎসার জন্য বাবার দেওয়া সামান্য সম্পত্তিও বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। এখন মাত্র ৬ শতক জমির ওপর ভাঙাচোরা একটি ঘর তুলে দিনমজুরির আয়ে কোনোভাবে জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবন্ধী সন্তানের সব কাজই নিজ হাতে করতে হয় দেলোয়ারকে। ঝড়-বৃষ্টির সময় ঘরটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেলোয়ার হোসেন বলেন,
“আমার কোনো সম্পত্তি নেই, কোনো সম্পদ নেই—আছে শুধু আমার সন্তান। ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতাটাও বন্ধ হয়ে গেছে। যা আয় করি, তা দিয়ে কষ্টে দিন পার করি। সামনে ঈদ, অথচ মা-হারা ছেলেটাকে একটি নতুন কাপড়ও কিনে দিতে পারিনি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভাঙা ঘরেই জীবনসংগ্রাম-প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে দেলোয়ারের অনন্ত লড়াই

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ভাঙা ঘরেই জীবনসংগ্রাম-প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে দেলোয়ারের অনন্ত লড়াই

ঠাকুরগাঁওয়ে মা-হারা ছেলেকে আগলে দিনমজুর বাবার বেঁচে থাকার সংগ্রাম

চারদিকে সবুজ ফসলের মাঠ, পাশে ছোট দুটি পুকুর আর সামনে কয়েকটি বসতঘর—প্রকৃতির শান্ত পরিবেশের মাঝেই পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি ভাঙাচোরা ঘর। মাটির চার দেয়াল, ভাঙা টিনে ঘেরা, উপরে ঢেউটিনের ছাউনি—যা আবার গাছের ডাল দিয়ে কোনোভাবে চাপা দেওয়া। দূর থেকে পাখির বাসার মতো দেখালেও, কাছ থেকে বোঝা যায়—এটাই মানুষের বসবাসের জায়গা।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের জাবড়াকুড়া এলাকায় এভাবেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন প্রায় ৪৫ বছর বয়সী দেলোয়ার হোসেন। তার সঙ্গী একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তান বকুল।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা ঘরের এক পাশে একটি চৌকি, পাশে ছোট একটি টেবিল, আর এক কোণে একটি টিউবওয়েল। সেই এক ঘরেই তাদের বসবাস। প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে যেতে হয় খোলা মাঠে। নেই কোনো ন্যূনতম স্যানিটেশন ব্যবস্থা।

দেলোয়ার হোসেন জানান, তার ছেলে বকুল যখন মাত্র দুই বছরের, তখনই তার স্ত্রী মারা যান। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর দ্বিতীয় বিয়ে করেননি তিনি। আশঙ্কা ছিল—নতুন সংসারে প্রতিবন্ধী সন্তান অবহেলার শিকার হতে পারে।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর বকুলকে লালন-পালন করেন দেলোয়ারের মা। কিন্তু পরবর্তীতে তার মায়ের মৃত্যু হলে পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে তার ওপর। তখন থেকেই শুরু হয় কঠিন সংগ্রামের জীবন।

ছেলের চিকিৎসার জন্য বাবার দেওয়া সামান্য সম্পত্তিও বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। এখন মাত্র ৬ শতক জমির ওপর ভাঙাচোরা একটি ঘর তুলে দিনমজুরির আয়ে কোনোভাবে জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবন্ধী সন্তানের সব কাজই নিজ হাতে করতে হয় দেলোয়ারকে। ঝড়-বৃষ্টির সময় ঘরটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেলোয়ার হোসেন বলেন,
“আমার কোনো সম্পত্তি নেই, কোনো সম্পদ নেই—আছে শুধু আমার সন্তান। ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতাটাও বন্ধ হয়ে গেছে। যা আয় করি, তা দিয়ে কষ্টে দিন পার করি। সামনে ঈদ, অথচ মা-হারা ছেলেটাকে একটি নতুন কাপড়ও কিনে দিতে পারিনি।”