
চারদিকে সবুজ ফসলের মাঠ, পাশে ছোট দুটি পুকুর আর সামনে কয়েকটি বসতঘর—প্রকৃতির শান্ত পরিবেশের মাঝেই পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি ভাঙাচোরা ঘর। মাটির চার দেয়াল, ভাঙা টিনে ঘেরা, উপরে ঢেউটিনের ছাউনি—যা আবার গাছের ডাল দিয়ে কোনোভাবে চাপা দেওয়া। দূর থেকে পাখির বাসার মতো দেখালেও, কাছ থেকে বোঝা যায়—এটাই মানুষের বসবাসের জায়গা।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের জাবড়াকুড়া এলাকায় এভাবেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন প্রায় ৪৫ বছর বয়সী দেলোয়ার হোসেন। তার সঙ্গী একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তান বকুল।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা ঘরের এক পাশে একটি চৌকি, পাশে ছোট একটি টেবিল, আর এক কোণে একটি টিউবওয়েল। সেই এক ঘরেই তাদের বসবাস। প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে যেতে হয় খোলা মাঠে। নেই কোনো ন্যূনতম স্যানিটেশন ব্যবস্থা।
দেলোয়ার হোসেন জানান, তার ছেলে বকুল যখন মাত্র দুই বছরের, তখনই তার স্ত্রী মারা যান। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর দ্বিতীয় বিয়ে করেননি তিনি। আশঙ্কা ছিল—নতুন সংসারে প্রতিবন্ধী সন্তান অবহেলার শিকার হতে পারে।
স্ত্রীর মৃত্যুর পর বকুলকে লালন-পালন করেন দেলোয়ারের মা। কিন্তু পরবর্তীতে তার মায়ের মৃত্যু হলে পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে তার ওপর। তখন থেকেই শুরু হয় কঠিন সংগ্রামের জীবন।
ছেলের চিকিৎসার জন্য বাবার দেওয়া সামান্য সম্পত্তিও বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। এখন মাত্র ৬ শতক জমির ওপর ভাঙাচোরা একটি ঘর তুলে দিনমজুরির আয়ে কোনোভাবে জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবন্ধী সন্তানের সব কাজই নিজ হাতে করতে হয় দেলোয়ারকে। ঝড়-বৃষ্টির সময় ঘরটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেলোয়ার হোসেন বলেন,
“আমার কোনো সম্পত্তি নেই, কোনো সম্পদ নেই—আছে শুধু আমার সন্তান। ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতাটাও বন্ধ হয়ে গেছে। যা আয় করি, তা দিয়ে কষ্টে দিন পার করি। সামনে ঈদ, অথচ মা-হারা ছেলেটাকে একটি নতুন কাপড়ও কিনে দিতে পারিনি।”
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.