অফিস ফেলে রাজশাহীতে ইফতার করতে এলেন রাকাব কর্মকর্তারা
- আপডেট সময় : ০৫:১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ২৪৬ বার পড়া হয়েছে

অফিস ফেলে রাজশাহীতে ইফতার করতে এলেন রাকাব কর্মকর্তারা
পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৮০০ কর্মকর্তা; গ্রাহক সেবায় ভোগান্তির অভিযোগ
পঞ্চগড় থেকে রাজশাহীর দূরত্ব প্রায় ২৮০ কিলোমিটার। এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শুধু একটি ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজশাহী এসেছেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) কর্মকর্তারা। এ কারণে সারাদিনই অনেক কর্মকর্তা নিজ নিজ অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৮ মার্চ) রাজশাহীতে রাকাবের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাকাব অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। এতে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মকর্তারা অংশ নেন।
শুধু পঞ্চগড় নয়; দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারিসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মোট ৯টি জোনের কর্মকর্তারা এই ইফতারে অংশ নিতে রাজশাহী আসেন। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক কর্মকর্তা মাইক্রোবাস ভাড়া করে রাজশাহীতে পৌঁছান।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে দিনভর অনেক কর্মকর্তাকে অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এতে ব্যাংকের গ্রাহকদের বিভিন্ন সেবায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অধীনে রাকাবের মোট ১৮টি জোন কার্যালয় রয়েছে। দুই বিভাগ থেকে প্রায় ৮০০ কর্মকর্তা এই ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইফতার শেষে তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যান এবং সোমবার যথারীতি অফিস করার কথা রয়েছে।
ইফতারে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সকালে অফিসে যাওয়ার পরপরই তারা রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সাধারণত ৮ থেকে ১০ জন কর্মকর্তা মিলে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে রাজশাহীতে আসেন।
তবে এ আয়োজন নিয়ে ব্যাংকের ভেতরেও কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, রাকাব অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের চাপে অনেককেই দূর-দূরান্ত থেকে ইফতারে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগের একটি জেলা থেকে আসা একজন ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমি ব্যাংকের ক্যাশ অফিসারকে দায়িত্ব দিয়ে সকালে রওনা হয়েছি। কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্যাশ অফিসার সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। এতে কিছুটা জটিলতা হয়েছে। তবে না এসে উপায় ছিল না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাকাব অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সদস্যসচিব ইকবাল হোসেন খান বলেন, ব্যাংকের কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হয়নি।
তিনি বলেন, “আমাদের শাখাগুলোতে লেনদেন চলে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। লেনদেন শেষে কর্মকর্তারা ইফতারে যোগ দিয়েছেন। দায়িত্বে অবহেলার কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং সব জায়গায় লেনদেন স্বাভাবিকভাবেই চলেছে।”


















