জাতীয় পার্টিকে প্রতীক দিলে রাজশাহীতে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না—এনসিপি নেতা
- আপডেট সময় : ০১:২০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫৯ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় পার্টিকে প্রতীক দিলে রাজশাহীতে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না—এনসিপি নেতা
প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে হুমকিমূলক বক্তব্য, তবে আইন অনুযায়ী জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা
রাজশাহীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলে রাজশাহীতে কোনো নির্বাচন হবে না, নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তবে এসব বক্তব্যের মধ্যেই আইন অনুযায়ী জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম চলছিল। দুপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির কার্যক্রম স্থগিত থাকা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সাবেক আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলো মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে এবং তাদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে—যা গভীর উদ্বেগজনক। অভিযোগে বলা হয়, এসব ব্যক্তি ও দল অতীতে গণতন্ত্র ধ্বংস, ভোটাধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছে।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে স্বৈরাচার ও তার দোসরদের রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা জরুরি। সংবিধান, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এনসিপির পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দলের মনোনয়নপত্র ও প্রতীক বরাদ্দ বাতিল, অতীতে অবৈধ নির্বাচন, ভোট কারচুপি ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত প্রার্থীদের প্রার্থিতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
প্রতীক বরাদ্দ চলাকালে সাংবাদিকদের সামনে নাহিদুল ইসলাম সাজু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগের দোসর কিংবা সহযোগী কারও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে না। যদি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে রাজশাহীতে কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না—হতে দেওয়া হবে না।’ এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে ‘ঠিক’ বলে সায় দিতে শোনা যায়।
এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, ‘আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করছি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর এখন জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ না দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইনের বাইরে গিয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।’



















