তানোরে সাজিদের ‘মৃত্যুকূপ’ দেখতে এখনও মানুষের ভিড়
- আপডেট সময় : ০১:১১:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৮৮ বার পড়া হয়েছে

তানোরে সাজিদের ‘মৃত্যুকূপ’ দেখতে এখনও মানুষের ভিড়
৩২ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে শিশুর মৃত্যু, ঘটনাস্থলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থী
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তটি এখন যেন এক করুণ স্মৃতিস্তম্ভ। সেই গর্তেই পড়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই বছরের শিশু সাজিদ। একটানা ৩২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের পর বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯টার পর ৫০ ফুট গভীর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিশু সাজিদের মৃত্যুতে শোকাহত মানুষের মন যেন টেনে নিচ্ছে সেই মৃত্যুকূপের দিকেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, মেহেরপুর, জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে মানুষ কোয়েলহাট গ্রামে ছুটে আসছেন। তারা কেউ গর্তটি ঘুরে দেখছেন, কেউ মোবাইল ফোনে স্বজনদের ঘটনাস্থলের দৃশ্য দেখিয়ে আবেগে ভেঙে পড়ছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার রাণীহাটি এলাকা থেকে আসা ৭২ বছর বয়সী ইসরাইল বলেন, “অনলাইনে ঘটনাটি জানার পর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। ছেলেটিকে জীবিত দেখতে পারিনি, তাই যেখানে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে সেই জায়গাটা দেখতে এলাম। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ছয়জন মিলে শুধু মনকে একটু শান্ত করতে এসেছি।”
নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আসা শহিদুল ইসলাম জানান, “ভোরেই রওয়ানা দিয়েছি। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য প্রায় ১০ কাঠা জমি ৬০ ফুট গভীর করে খনন করতে হয়েছে—যেন পুরো একটি পুকুর। এমন মর্মান্তিক ঘটনা নিজের চোখে দেখে খুব কষ্ট লাগছে। আমার বাবা খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন, কিন্তু অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি। তাকে ফোনে সব দেখালাম। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেটাই কামনা।”
মেহেরপুরের মুজিবনগর থেকে পরিবারসহ আসা যুবক সাকিবুল হাসান বলেন, “সারা দেশে এ ঘটনা আলোড়ন তুলেছে। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। এখানে এসে এক ধরনের প্রশান্তি পেলেও শিশুটির জন্য ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আল্লাহ যেন শিশুটিকে জান্নাত নসিব করেন।”
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের মাঠে শিশু সাজিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সাজিদের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই এক গভীর বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।



















