দরিদ্র্যতা দমাতে পারেনি জুঁইকে, এসএসসিতে পেলেন জিপিএ-৫, স্বপ্ন দেখেন ডাক্তার হওয়ার
- আপডেট সময় : ০৪:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫ ৪৭৯ বার পড়া হয়েছে

দরিদ্র্যতা দমাতে পারেনি জুঁইকে, এসএসসিতে পেলেন জিপিএ-৫, স্বপ্ন দেখেন ডাক্তার হওয়ার
এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেয়ে জুঁই আক্তার, সে প্রমাণ করেছে দারিদ্র্যে কখনো স্বপ্ন কে আটকাতে পারে না। ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার বাঁচোর ইউনিয়নের বুড়িপুকুর গ্রামের দিনমজুর পরিবারের সন্তান জুঁই। বাবা জাহাঙ্গীর আলম একজন ভ্যান চালাক, মা পান্না বেগম গৃহিণী। থাকার বাড়ি টাও খড়কুটো দিয়ে তৈরি, বিদুৎ চলে গেলে তেমন কোন আলোর ব্যবস্থাও নেই ঘরে। পড়াশোনা করার মতো নেই ভালো কোন চেয়ার বা টেবিল। কিন্তু সেই ঘরের বিছানাতেই বসে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে জুই এলাকায় দেখালেন সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
জুই পড়াশোনা করেছেন চোপড়া দোশিয়া (সিডি) উচ্চ বিদ্যালয়ে। এবার ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সফলভাবে উত্তির্ন হয়েছে জুঁই। বাবা মায়ের একটাই স্বপ্ন-ভবিষ্যতে মেয়েকে ডাক্তার বানিয়ে দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাড় করানো।
জুঁই জানায়, “রেজাল্ট বের হওয়ার পর প্রথমেই আল্লাহকে ধন্যবাদ দিয়েছি। তারপর মাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। সবাই বলেছিল আমি পারবো। সেটাই আজ সত্যি হলো এজন্য মহান আল্লাহ কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া জানাই। অদম্য মেধাবী জুঁই আক্তার আরো জানান, জিপিএ -৫ পাওয়ার কথা শোনে এলাকার অনেক মানুষ এখন আমাদের বাড়িতে আমাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন।
জুঁইয়ের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বলেন,আমি দীর্ঘদিন থেকেই অনেক অসুস্থ ঠিকমতো কাজ করতে বা ভ্যান চালাতে পারিনা, মেয়ের পরিক্ষার সময় তাকে ঠিক মতো খাওয়াতেও পারিনাই ঠিকমতো টাকা দিয়ে কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারিনি।আল্লাহ রহমতে আমার মেয়ে অনেক ভালো রেজাল্ট করেছে তার জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।
জুঁইয়ের মা পান্না বেগম জানান,ঘরে একটা বিদুৎয়ের বাতি আছে যখন বিদুৎ থাকে তখন মেয়েটা আমার পড়াশোনা করতো আর বিদুৎ চলে গেলে আর পড়াশোনাও ঠিকমতো করতে পারে নি। হইতো মেয়েকে যদি ঠিকমতো লাইটের ব্যবস্থা করে দিতে পারতাম তাহলে সে আরো ভালো রেজাল্ট করতে পারতো।
স্থানী প্রতিবেশী এক শিক্ষাকা বলেন, “ওর বাবার অবস্থা খুব খারাপ অনেক দিন থেকেই অসুস্থ ঠিকমতো কাজকাম বা ভ্যান চালাতে পারেন না, কিন্তু পড়াশোনার প্রতি মেয়েটার মনোবল অনেক বেশি। আসলে জুই আমাদেরকে আনন্দিত করেছে। জুই আমাদেরকে জানিয়ে দিলো দরিদ্র কখনো পড়াশোনায় বাধা হতে পারে না।যদি নিজের মনোবল ঠিক থাকে।
মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রি কলেজ ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্হাপনা বিভাগ প্রভাষক জাহিরুল ইসলাম জাহির বলেন, জুই আমার প্রতিবেশী ভাতিজি হয় সে খুব নম্র ও ভদ্র একটা মেয়ে তার পরিবার খুব অসহায়। জুইকে যদি পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত দেওয়া যেতে তাহলে সে আরো ভালো করতো।আমার সাথে দেখা হলেই আমি তাকে সব সময় সাহস যুগিয়েছি পড়াশোনার প্রতি।জুই এলাকার সচ্ছল দানশীল সামর্থবান ব্যক্তি বা সরকারের সহযোগিতা পেলেই সে ভালো কিছু করবে।জুইয়ের সাফল্যে সে যেমন খুশি হয়েছে সেই সাথে উচ্ছ্বসিত হয়েছি আমরা এলাকাবাসী। তবে এই অদম্য মেধাবী জুইয়ের জন্য সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—উচ্চশিক্ষার খরচ চালিয়ে যাওয়া।




















