ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোদাগাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ‘সবুজ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রাণীশংকৈলে ট্রাক্টরের ধাক্কায় স্কুল শিক্ষার্থী রাণী নিহত, চালক আটক বাগাতিপাড়ায় ৩০ জুনের মধ্যে রোপণ হবে সাড়ে ১২ হাজার চারা রাজশাহীতে ছিনতাই মামলার মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ রায়গঞ্জে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাণীনগরে মেধা ও বিজ্ঞান উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত লালপুরে তিনটি গাঁজার গাছ উদ্ধার, মাদক আইনে মামলা লালপুরে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে যুবক আটক, এক্সকাভেটরের ব্যাটারি জব্দ লালপুরে গরুবোঝাই ভুটভুটির ধাক্কায় অটোভ্যানচালকের মৃত্যু লালপুরে সাপের কামড়ে কৃষিশ্রমিকের মৃত্যু

শাহজাদপুরে এখন চাষ হচ্ছে জাপানের মিষ্টি আলু!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ মে ২০২৩ ২০১ বার পড়া হয়েছে

জাপানের মিষ্টি আলু চাষ হচ্ছে শাহজাদপুরে

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শাহজাদপুরে এখন চাষ হচ্ছে জাপানের মিষ্টি আলু!

মো: সবুজ হোসেন রাজা, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
শাহজাদপুরে এখন চাষ হচ্ছে জাপানের মিষ্টি আলু! মিষ্টি আলু কমবেশি সারাদেশেই চাষ হয়। বেলে দো-আশ মাটিতে এটি সবচেয়ে ভালো চাষ হয়। এর জন্য আদর্শ স্থান হলো দেশের নদীগুলোর তীরবর্তী জমি, চরাঞ্চল। যেখানে অন্যান্য ফসল ভালো হয় না পানির অভাবে, সেখানে মিষ্টি আলু ভালো ফলন দেয়। বিগত বছরগুলোতে কৃষক মিষ্টি আলুর ভালো দাম পাওয়ায়, দিনদিন এ আলু চাষে কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এদেশের কৃষি গবেষকেরাও উন্নত মানের জাত উদ্ভাবনে নিরলস প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে। আমাদের হাতে চাষাবাদের জমি সীমিত তাই ফলন বাড়াতে চাইলে আমাদের উন্নত মানের জাত ব্যবহার করতে হবে।

আলু জাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সরকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এটি হল “কন্দাল ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি” প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে উদ্যমী কৃষকদের জমিতে প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু দিয়ে প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ওকিনাওয়া একটি উন্নত মানের জাপানি মিষ্টি আলুর জাত। উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পাকুরতলা গ্রামে কৃষক ইউসুফ শেখের জমিতে গিয়ে আমরা এ আলু দেখতে পাই। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষক খুশিতে আত্মহারা। কৃষক ২০ শতাংশ জমির মধ্যে ৫ শতাংশ জমি থেকে ১৫ মনের অধিক আলু পেয়েছে, এ হিসাবে প্রতি বিঘায় একশ মণ আলু পাবে। এ জাতের আলু দেখতে লাল হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ভালো এবং দামও বেশি। প্রতি মণ আলু স্থানীয় বাজারেই ১২০০ টাকা করে বিক্রি করা যাচ্ছে।

কৃষক জানিয়েছেন, ২০ শতাংশ জমিতে তার জমি লিজ নেওয়া, চাষ দেওয়া, শ্রমিক নেওয়া, কীটনাশক এবং আলু উঠানো পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। প্রতি মণ আলু এক হাজার টাকা করে বিক্রি করলেও ৬০ মণ আলু থেকে খরচ বাদে ৪০ হাজার টাকা লাভ করবেন তিনি। যেটা অন্য কোন ফসল থেকে লাভ করা সম্ভব না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় মোট ১৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ এহসানুল হক বলেন, মিষ্টি আলু অপেক্ষা কৃত অনুর্বর, কম পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন মাটিতে চাষ করা যায় এবং ফলন যে কোন ফসলের চেয়ে বেশি। যার ফলে কৃষক লাভবান হচ্ছে, এর আবাদকে সম্প্রসারিত করতে তারা প্রতিনিয়ত কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুস ছালাম বলেন, মিষ্টি আলু এমন একটা ফসল যেখানে রোগবালাই এর প্রকোপ খুবই কম এবং স্বল্প সময়ে অধিক ফলন হয়। এ ফসলের উৎপাদনকে বাড়াতে তারা কৃষকদের হাতে উন্নত জাতের মিষ্টি আলুর জাত তুলে দিচ্ছেন। আশা করেন, এই কৃষকদেরকে দেখে অন্যান্য কৃষক অনুপ্রাণিত হবে এবং আবাদ সম্প্রসারিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শাহজাদপুরে এখন চাষ হচ্ছে জাপানের মিষ্টি আলু!

আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ মে ২০২৩

শাহজাদপুরে এখন চাষ হচ্ছে জাপানের মিষ্টি আলু!

মো: সবুজ হোসেন রাজা, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
শাহজাদপুরে এখন চাষ হচ্ছে জাপানের মিষ্টি আলু! মিষ্টি আলু কমবেশি সারাদেশেই চাষ হয়। বেলে দো-আশ মাটিতে এটি সবচেয়ে ভালো চাষ হয়। এর জন্য আদর্শ স্থান হলো দেশের নদীগুলোর তীরবর্তী জমি, চরাঞ্চল। যেখানে অন্যান্য ফসল ভালো হয় না পানির অভাবে, সেখানে মিষ্টি আলু ভালো ফলন দেয়। বিগত বছরগুলোতে কৃষক মিষ্টি আলুর ভালো দাম পাওয়ায়, দিনদিন এ আলু চাষে কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এদেশের কৃষি গবেষকেরাও উন্নত মানের জাত উদ্ভাবনে নিরলস প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে। আমাদের হাতে চাষাবাদের জমি সীমিত তাই ফলন বাড়াতে চাইলে আমাদের উন্নত মানের জাত ব্যবহার করতে হবে।

আলু জাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সরকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এটি হল “কন্দাল ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি” প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে উদ্যমী কৃষকদের জমিতে প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু দিয়ে প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ওকিনাওয়া একটি উন্নত মানের জাপানি মিষ্টি আলুর জাত। উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পাকুরতলা গ্রামে কৃষক ইউসুফ শেখের জমিতে গিয়ে আমরা এ আলু দেখতে পাই। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষক খুশিতে আত্মহারা। কৃষক ২০ শতাংশ জমির মধ্যে ৫ শতাংশ জমি থেকে ১৫ মনের অধিক আলু পেয়েছে, এ হিসাবে প্রতি বিঘায় একশ মণ আলু পাবে। এ জাতের আলু দেখতে লাল হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ভালো এবং দামও বেশি। প্রতি মণ আলু স্থানীয় বাজারেই ১২০০ টাকা করে বিক্রি করা যাচ্ছে।

কৃষক জানিয়েছেন, ২০ শতাংশ জমিতে তার জমি লিজ নেওয়া, চাষ দেওয়া, শ্রমিক নেওয়া, কীটনাশক এবং আলু উঠানো পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। প্রতি মণ আলু এক হাজার টাকা করে বিক্রি করলেও ৬০ মণ আলু থেকে খরচ বাদে ৪০ হাজার টাকা লাভ করবেন তিনি। যেটা অন্য কোন ফসল থেকে লাভ করা সম্ভব না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় মোট ১৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ এহসানুল হক বলেন, মিষ্টি আলু অপেক্ষা কৃত অনুর্বর, কম পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন মাটিতে চাষ করা যায় এবং ফলন যে কোন ফসলের চেয়ে বেশি। যার ফলে কৃষক লাভবান হচ্ছে, এর আবাদকে সম্প্রসারিত করতে তারা প্রতিনিয়ত কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুস ছালাম বলেন, মিষ্টি আলু এমন একটা ফসল যেখানে রোগবালাই এর প্রকোপ খুবই কম এবং স্বল্প সময়ে অধিক ফলন হয়। এ ফসলের উৎপাদনকে বাড়াতে তারা কৃষকদের হাতে উন্নত জাতের মিষ্টি আলুর জাত তুলে দিচ্ছেন। আশা করেন, এই কৃষকদেরকে দেখে অন্যান্য কৃষক অনুপ্রাণিত হবে এবং আবাদ সম্প্রসারিত হবে।