লালপুরের সাজিদ জুট মিলে ডাকাতির রহস্য উদঘাটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০২:৫১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ৮১ বার পড়া হয়েছে

লালপুরের সাজিদ জুট মিলে ডাকাতির রহস্য উদঘাটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার; ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত যানবাহনও জব্দ
নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জনপুর বরমহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামগাড়ী এলাকায় অবস্থিত সাজিদ জুট মিলে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও লালপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ছয় সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মাহতাব মৃধা (৩২), লিটন প্রামানিক (৪৬), সেলিম হোসেন (৩২), সাদ্দাম হোসেন (৩৫), আব্দুল খালেক (৩৪) এবং সাগর শেখ (২২)। তাদের সবার বাড়ি পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা এগারোটার দিকে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার শরিফুল হক।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার শরিফুল হক বলেন, গত ৩০ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ১২ থেকে ১৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাজিদ জুট মিলে প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের এক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারসহ চারজন কর্মচারীকে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে পৃথক কক্ষে আটকে রাখে। এরপর রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর পৌনে ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা ডাকাতির কাজে ধারালো অস্ত্র, চাপাতি, লোহার রড ও কাটার মেশিন ব্যবহার করে এবং ট্রাকযোগে লুণ্ঠিত মালামাল সরিয়ে নেয়।
পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনায় জুট মিলের মালিক সাজিদ মল্লিক বাদী হয়ে লালপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর নাটোর ডিবি পুলিশ ও লালপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম যৌথ অভিযান শুরু করে। এরই একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা জেলার আটঘরিয়া ও সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আভিযানিক টিম। একই সঙ্গে তারা পাবনা সদর থানার বড় বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৩০০ কেজি তামার তার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মিনি পিকআপ, একটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
পুলিশ সুপার শরিফুল হক আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



















