বিকেএসপিতে সুযোগ পেয়েও অনিশ্চয়তায় মিথিলা, আর্থিক সহায়তার আবেদন
- আপডেট সময় : ১০:৩৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৮০ বার পড়া হয়েছে

বিকেএসপিতে সুযোগ পেয়েও অনিশ্চয়তায় মিথিলা, আর্থিক সহায়তার আবেদন
বাগাতিপাড়ার দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ক্রীড়াবিদের স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন ৫০–৬০ হাজার টাকা
মাত্র ১৩ বছর বয়সেই খেলাধুলায় অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার মিথিলা মহুয়া। হকি, টেনিস, হাইজাম্প ও ফুটবলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের খেলা উসু (ফেন্সিং)-এ নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে সুযোগ পেয়েছে সে। তবে পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্বপ্নের এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মিথিলা মহুয়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের মাড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক মুক্তার হোসেন ও হামিদা বেগম দম্পতির বড় মেয়ে। বর্তমানে সে বাগাতিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের ট্রায়াল পেরিয়ে সম্প্রতি বিকেএসপিতে উসু (ফেন্সিং) বিষয়ে সুযোগ পাওয়ায় এলাকাজুড়ে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
কিন্তু মিথিলার পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। তার বাবা একজন ভ্যানচালক হওয়ায় নিত্যদিনের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। বিকেএসপিতে ভর্তি, খেলাধুলার সরঞ্জাম, যাতায়াতসহ আনুষঙ্গিক খরচ বহন করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগামী ২৩ তারিখের মধ্যে ভর্তি সম্পন্ন করতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা প্রয়োজন।
মিথিলার মা হামিদা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়েটি খেলাধুলা ভালোবাসে। বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়ায় পরিবার খুব খুশি হলেও অর্থের অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত বছরও অর্থাভাবে সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

মিথিলা জানায়, এর আগেও টেনিসে সুযোগ পেলেও আর্থিক সংকটের কারণে ভর্তি হতে পারেনি। এবারও যদি ভর্তি হতে না পারে, তবে তার স্বপ্ন ভেঙে যাবে। সে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছে।
প্রতিবেশী মলিন আলী বলেন, টাকার অভাবে যেন একটি প্রতিভা হারিয়ে না যায়, সে জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
মিথিলার শিক্ষক সাজেদুর রহমান জানান, মিথিলা খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনাতেও মনোযোগী ও শৃঙ্খলাবান। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে সে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।
উপজেলা ‘নিজেরা করি’ সংগঠনের কর্মী প্রতিমা রায় বলেন, তাদের উদ্যোগে বিভিন্ন ফুটবল দল থেকে খেলোয়াড়দের বিকেএসপি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়। মিথিলা তাদের দলের একজন এবং সে বিকেএসপিতে সুযোগ পেয়েছে। তবে ভর্তির জন্য অর্থ সহায়তা প্রয়োজন।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও প্রশিক্ষক শফিকুর রহমান বলেন, ফেন্সিং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি খেলা। গ্রামের একজন মেয়ের বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়া গর্বের বিষয়। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে মিথিলা ভবিষ্যতে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




















