বাঘায় আ’লীগের দুই গ্রুপের সং*ঘ*র্ষে অর্ধশতাধিক আহত
- আপডেট সময় : ০১:৫৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪ ৩৯০ বার পড়া হয়েছে

বাঘায় আ’লীগের দুই গ্রুপের সং*ঘ*র্ষে অর্ধশতাধিক আহত
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘায় আওয়ামী লীগের দুই গ্ৰুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল এবং ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে দশটায় শুরু হয়ে প্রায় পৌনে এক ঘন্টা ধরে উপজেলা পরিষদের সামনে চলে এই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট পাটকেল এবং ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা। এ সময় কবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারসেল ছোড়ে।
ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, বাঘা পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আক্কাস আলী, আড়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান শফি, আব্দুল খালেক, জার্মান আলীসহ অন্তত অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছে। গুরুতর আহত আশরাফুল ইসলাম বাবুল ও রফিকুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া সহ ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে অন্য আহতদের নাম জানা যায়নি। এছাড়াও পুলিশের ছোড়া টিয়ারসেলে পথচারী উজ্জ্বল আহত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শনিবার বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে ও আশরাফুল ইসলাম এর নেতৃত্বে বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাস আলীর সীমাহীন দুর্নীতি, স্বজন প্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি চলছিল। সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াইজ সাদিক কবিরের সঞ্চালনায় পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস সরকার বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
অপরদিকে একই সময়ে পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আক্কাস আলী ও পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজের নেতৃত্বে উপজেলা সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে, বাঘা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কতিপয় ব্যক্তি দলিল লেখক সমিতির নামে ক্রেতার কাছে জোর পূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাচ্ছিল।
এ সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে দেশীয় অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বাঘা থানা পুলিশ। এ সময় প্রায় পৌনে এক ঘন্টা সময় ধরে চলা সংঘর্ষ থামাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মাঝে মাঝে টিয়ারশেল ছোড়ে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিক কবীর জানান, প্রশাসনকে অবগত করে উপজেলা পরিষদের সামনে দলীয় লোকজন নিয়ে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছিলাম। এ সময় বাঘা পৌর মেয়র আক্কাস আলীর নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ অনেক নেতা কর্মী আহত হয়।
পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মেরাজ জানান, বাঘা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কতিপয় ব্যক্তি দলিল লেখক সমিতির নামে ক্রেতার কাছে জোর পূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদে সচেতন নাগরিকের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। সহমত পোষণ করেও তারা বিক্ষোভ মিছিলের ওপর হামলা করে। এর আগে মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে উস্কানি মূলক বক্তব্যে দিয়েছে বলে দাবি করেন মেরাজ।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন ও পৌর মেয়র আক্কাস আলী গ্ৰুপের সাথে এমপি পক্ষের পূর্ব রেসারেসির জের ধরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওসি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে ঘটনাস্থল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


















