পঞ্চগড়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সব শিক্ষক এক পরিবারের!
- আপডেট সময় : ০২:২৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২৬১ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সব শিক্ষক এক পরিবারের!
উমর ফারুক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ
পঞ্চগড়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সব শিক্ষক এক পরিবারের। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ৯০ নং মাঝিয়ালী গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক এক পরিবারের। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, পড়ালেখা হয় না শুধু স্কুল আসে কেউ ঘুমায়, কেউ মোবাইল ফোন কেউ ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। পড়ালেখা না হওয়ায় অনেক ছাত্রছাত্রী ঝরে পড়ছে আবার কেউ অন্য স্কুলে পড়ছে। স্কুলটির পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম যাদু তার বোন মুরশিদা পারভীন, ভাই আব্দুল মতিন, ভাইয়ের স্ত্রী আফরোজা সুলতানা ও প্রতিবেশী একজন চাচা কামাল আহসান হাবীব শিক্ষকতা করছেন।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, প্রথম শ্রেণীতে ১৫ জন, দ্বিতীয় ১৫, তৃতীয় ১২, চতুর্থ ৩২ ও পঞ্চম শ্রেণীতে ১৫জন শিক্ষার্থী আছে। কিন্তু রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটায় সরেজমিন স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় শ্রেণীতে ছয়জন, চতুর্থ শ্রেণীতে সাতজন, পঞ্চম শ্রেণীর কক্ষে কেউ না থাকলেও চারটা স্কুল ব্যাগ রয়েছে। এদিকে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর পাঁচটি ছাত্রছাত্রী হাজিরা খাতায় একজনেরও হাজিরা তুলেননি শিক্ষকেরা।
স্থানীয় মজিবর, কমলা, রাসেলসহ একাধিক ব্যাক্তি জানান, স্কুলটিতে একই পরিবারের সব শিক্ষক হওয়ায় পড়ালেখা হয় না সেখানে। এজন্য অনেক ছাত্রছাত্রী ঝরে পড়ছে আবার কেউ অন্য স্কুলে (উপানুষ্ঠানিক) গিয়ে পড়ালেখা করছে। যে কয়েকজন স্কুলে আছে পড়ালেখায় অনেক পিছিয়ে তারা।
পঞ্চম শ্রেণীর নুর সাঈদ নামের এক ছাত্র স্কুলে পড়ালেখা না হওয়ায় তার পরিবার এ স্কুল বাদ দিয়ে তিস্তাপাড়া উপানুষ্ঠানিক শিখন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করে দেয়। এরকম মাসুদ ও নিলয় এ স্কুলে পড়ছে চতুর্থ শ্রেণিতে তবুও উপানুষ্ঠানিক স্কুলে পড়াচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। পরিবারের দাবী এ স্কুলে পড়ে কিছুই শিখেননি তারা।
প্রধান শিক্ষক মোঃ আজাহারুল ইসলাম যাদু জানান, স্কুলের বিরুদ্ধে কি অভিযোগ আছে আপনার ইচ্ছেমতো লিখতে পারেন। তবে এলাকার লোকজন বলতেই পারে পড়ালেখা হয় না স্কুলে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শামসুল আলম জানান, জাতীয়করণ স্কুল এজন্য হয়ত সব শিক্ষক এক পরিবারের।আর কয়েক বছর ধরে শিক্ষক বদলি বন্ধ হয়ে আছে। আমরা কিছুদিন মনিটরিং করে দেখি কি করা যায়।




















