ঢাকা ০২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে বাগাতিপাড়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রাজশাহীতে ধ/র্ষ/ণ মামলার রায় পুনর্বিবেচনা ও শি/শু ধ’র্ষ’ণে’র বিচার দাবিতে মানববন্ধন যাত্রীবেশে নারীকে কু’পিয়ে ছিনতাই, ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে মহারাজার দিঘি থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, পাশে মিলল চিরকুট দেবীগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু নলডাঙ্গায় হালতি বিলে পোনা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা নলডাঙ্গায় সরকারি সারবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন চালক-হেলপার অর্থের অভাবে চীনের মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত, সহযোগিতা চায় বাগাতিপাড়ার মেধাবী ফাতেমা বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনেই নিরাপত্তাহীনতায় আনসার সদস্য, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

পঞ্চগড়ে ১৫০ টাকায় কাপড় কেনায় হাত-পা বেঁ ধে স্ত্রীকে নি র্যা ত ন, স্বামী আটক

উমর ফারুক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৭:২৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫ ৩০৫ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ে ১৫০ টাকায় কাপড় কেনায় হাত-পা বেঁ ধে স্ত্রীকে নি র্যা ত ন, স্বামী আটক

পঞ্চগড়ে মাত্র ১৫০ টাকার একটি কাপড় কেনাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন স্বামী মোঃ আনিছুর রহমান। পরে অজ্ঞান হয়ে পড়লে রশি দিয়ে হাত-পা বাধা অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গত সোমবার বিকেলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বর্তমানে রয়েছেন মোছাঃ রেনু আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূ।

নির্যাতিত ওই গৃহবধূ সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের, শিংরোড দেওনিয়াপাড়া এলাকার মোঃ রফিকুল ইসলাম এর মেয়ে। আনুমানিক ১২ বছর আগে হাড়িভাসা বড়বাড়ি এলাকার মোঃ মন্তাজ আলীর ছেলে মোঃ আনিছুর রহমান এর সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যেই রেনু আক্তার এর গর্ভে থেকে দুটি সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে আসতেছে।

এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনায় একাধিক বার বিচার শালিস হয়। স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, মারপিটের কারনে রেনু আক্তার এর কখনো হাত কখনো পা ভেঙ্গেছে। ভুক্তভোগী রেনু’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বামীর কাছে পায়জামার কাপর কিনে চাওয়ায় বেধড়ক মারপিট শুরু করে। কখনো বালিশ চাপা, কখনো গলা টিপে ধরে আবার কখনো এলোপাথারী কিল ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে পড়নের ওরনা দিয়ে পা বেধে মারতে থাকে। এর পর আমার আর কিছুই মনে নাই।

এ ঘটনায় গৃহবধূর মা ফরিদা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, আমার জামাই আমাকে ফোন দিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি কারন জানতে চাইলে ফোন কেটে দেয়। পরে আমার ছেলেকে ফোন দিয়ে বলি একটু খবর নিতে। পরে আমার ছেলে ওদের বাড়িতে গিয়ে দেখে পা বাধা অবস্থায় আমার মেয়ে পড়ে আছে। আমার জামাই বাড়িতে ছিল না। পরে আমার ছেলে আমার জামাইকে ফোন করলে তার সাথেও খারাপ আচরণ করে আমার জামাই। তখন ভয় পেয়ে আমার ছেলে সেখান থেকে চলে আসে। পরক্ষণেই ৯৯৯ জরুরি সেবা নম্বরে কল করে পুলিশের সহযোগিতা চাই। এর মধ্যেই আমার মেয়ে মরে গেছে ভেবে তারা জামাই এর বোন মনছুরা বেগম ও স্বামী রবিউল এর বাসা কামাত কাজলদীঘি ইউনিয়নের তালমা চছপাড়া নিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং আনিছুর রহমান কে আটক করে। এর মধ্যে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও কোন প্রকার পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেওয়ার চেষ্টা করে। ভিকটিম এর বাবা বাদী হয়ে করা মামলার কার্যকারিতা নিষ্ক্রিয় করতে এই চক্রান্ত করা হয়েছে মর্মে ধারণা করছেন ভিকটিম এর পরিবার। তবে ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যাপারে কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (আর এম ও) ডাঃ মোঃ আবুল কাশেম। তবে এই ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেন ভিকটিমের পরিবার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পঞ্চগড়ে ১৫০ টাকায় কাপড় কেনায় হাত-পা বেঁ ধে স্ত্রীকে নি র্যা ত ন, স্বামী আটক

আপডেট সময় : ০৭:২৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

পঞ্চগড়ে ১৫০ টাকায় কাপড় কেনায় হাত-পা বেঁ ধে স্ত্রীকে নি র্যা ত ন, স্বামী আটক

পঞ্চগড়ে মাত্র ১৫০ টাকার একটি কাপড় কেনাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন স্বামী মোঃ আনিছুর রহমান। পরে অজ্ঞান হয়ে পড়লে রশি দিয়ে হাত-পা বাধা অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গত সোমবার বিকেলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বর্তমানে রয়েছেন মোছাঃ রেনু আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূ।

নির্যাতিত ওই গৃহবধূ সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের, শিংরোড দেওনিয়াপাড়া এলাকার মোঃ রফিকুল ইসলাম এর মেয়ে। আনুমানিক ১২ বছর আগে হাড়িভাসা বড়বাড়ি এলাকার মোঃ মন্তাজ আলীর ছেলে মোঃ আনিছুর রহমান এর সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যেই রেনু আক্তার এর গর্ভে থেকে দুটি সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে আসতেছে।

এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনায় একাধিক বার বিচার শালিস হয়। স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, মারপিটের কারনে রেনু আক্তার এর কখনো হাত কখনো পা ভেঙ্গেছে। ভুক্তভোগী রেনু’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বামীর কাছে পায়জামার কাপর কিনে চাওয়ায় বেধড়ক মারপিট শুরু করে। কখনো বালিশ চাপা, কখনো গলা টিপে ধরে আবার কখনো এলোপাথারী কিল ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে পড়নের ওরনা দিয়ে পা বেধে মারতে থাকে। এর পর আমার আর কিছুই মনে নাই।

এ ঘটনায় গৃহবধূর মা ফরিদা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, আমার জামাই আমাকে ফোন দিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি কারন জানতে চাইলে ফোন কেটে দেয়। পরে আমার ছেলেকে ফোন দিয়ে বলি একটু খবর নিতে। পরে আমার ছেলে ওদের বাড়িতে গিয়ে দেখে পা বাধা অবস্থায় আমার মেয়ে পড়ে আছে। আমার জামাই বাড়িতে ছিল না। পরে আমার ছেলে আমার জামাইকে ফোন করলে তার সাথেও খারাপ আচরণ করে আমার জামাই। তখন ভয় পেয়ে আমার ছেলে সেখান থেকে চলে আসে। পরক্ষণেই ৯৯৯ জরুরি সেবা নম্বরে কল করে পুলিশের সহযোগিতা চাই। এর মধ্যেই আমার মেয়ে মরে গেছে ভেবে তারা জামাই এর বোন মনছুরা বেগম ও স্বামী রবিউল এর বাসা কামাত কাজলদীঘি ইউনিয়নের তালমা চছপাড়া নিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং আনিছুর রহমান কে আটক করে। এর মধ্যে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও কোন প্রকার পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেওয়ার চেষ্টা করে। ভিকটিম এর বাবা বাদী হয়ে করা মামলার কার্যকারিতা নিষ্ক্রিয় করতে এই চক্রান্ত করা হয়েছে মর্মে ধারণা করছেন ভিকটিম এর পরিবার। তবে ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যাপারে কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (আর এম ও) ডাঃ মোঃ আবুল কাশেম। তবে এই ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেন ভিকটিমের পরিবার।