পঞ্চগড়ে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, পুনঃতদন্তের নির্দেশ ইউএনওর
- আপডেট সময় : ০৩:৫১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ১৫৬ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, পুনঃতদন্তের নির্দেশ ইউএনওর
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের দুই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা এবং টিসিবির কার্ড দেওয়ার নামে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে সন্তোষজনক তথ্য না পাওয়ায় পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
জানা গেছে, গত মাসে ধাক্কামারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম ও সদস্যা সুরাইয়া আক্তারের বিরুদ্ধে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। অভিযোগে বলা হয়, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও টিসিবির কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এলাকার একাধিক অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও ভুক্তভোগীরা প্রতিশ্রুত কোনো সুবিধা পাননি।
পরে ভুক্তভোগীরা উপায়ান্তর না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গণপিটিশন দাখিল করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও ফাহমিদা সুলতানা ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের নিয়ে উপজেলা পরিষদে শুনানি করেন।
শুনানির পর বিষয়টি তদন্তের জন্য ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে চেয়ারম্যানের দাখিল করা প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ না থাকায় তা গ্রহণ না করে পুনরায় সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন ইউএনও।
এদিকে ভুক্তভোগীদের দাবি, কয়েকদিন আগে তারা উৎকোচের টাকা ফেরত নিতে গেলে অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম ও সুরাইয়া আক্তারকে মোটরসাইকেলসহ সড়কে আটকান। পরে তাদের কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এখনও প্রায় ৫৪ হাজার টাকা বাকি রয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। তারা আরও অভিযোগ করেন, একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তদন্তকারী হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। অন্যদিকে সদস্যা সুরাইয়া আক্তার মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগ প্রমাণ হয়নি এবং জনগণ তাকে ভালোবাসেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তোষজনক তথ্য না থাকায় পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হবে।




















