পঞ্চগড়ে এতিম ও পথশিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব
- আপডেট সময় : ০৭:০২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৬৯ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে এতিম ও পথশিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব
শীতের সকালে পিঠার আনন্দে মুখর আহছানিয়া মিশন শিশু নগরী
পঞ্চগড়ের শীতের সকালে মিষ্টি পিঠার ঘ্রাণ আর শিশুদের হাসিতে মুখর হয়ে উঠেছিল সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের জলাপাড়া গ্রামে অবস্থিত আহছানিয়া মিশন শিশু নগরী। সেখানে শীতের ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসবে অংশ নেয় প্রতিষ্ঠানটিতে বসবাসরত এতিম, পথশিশু ও পরিবারবিচ্ছিন্ন প্রায় দেড় শতাধিক শিশু।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই শিশু নগরী বর্তমানে ১৫০ জন শিশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এসব শিশুর বেশির ভাগই শৈশবেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, অনেকেরই বাবা-মায়ের কোনো পরিচয় নেই।
শুক্রবার দুপুরে শিশুদের আনন্দ দিতে পঞ্চগড়ের সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব সরকারের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় শীতের ঐতিহ্যবাহী দুধ পিঠার উৎসব। নিজ হাতে শিশুদের পিঠা পরিবেশন করেন তিনি। এতে শিশু নগরীতে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, চোখেমুখে ফুটে ওঠে উচ্ছ্বাস আর আনন্দ।
পিঠা খেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আব্দুর রাহিম নামে এক শিশু। সে জানায়, “অনেক দিন পর এমন মজার পিঠা খেলাম। খুব ভালো লাগছে।”
হযরত নামে আরেক শিশু বলে, “আজকে আহসান আঙ্কেল এসে আমাদের পিঠা খাওয়াইছে। পিঠা খাইছি, খুব আনন্দ লাগছে। তার জন্য সবসময় দোয়া করবো।”
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব সরকার বলেন, “এই শিশুরা আমাদের সমাজেরই অংশ। তাদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারলে সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। শীতের পিঠার আনন্দ তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই এই ছোট আয়োজন। সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীর সেন্টার ম্যানেজার দীপক কুমার রায় বলেন, “শিশুদের জন্য এ ধরনের আয়োজন তাদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজ শিশুরা খুব আনন্দিত। সমাজের বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি এসব এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে তারা ভবিষ্যতে দেশের জন্য সম্পদে পরিণত হবে।”
তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব সরকারের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং আমরা তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।




















