নানীর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো না নাতির!
- আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

নানীর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো না নাতির!
ঘোড়াঘাট, দিনাজপুরঃ
নানীর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো না নাতির! ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বৃদ্ধা নানী। তার মরদেহ ঢাকা থেকে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ীতে দিনাজপুরে নিয়ে যাচ্ছিলেন নাতি হৃদয় মাহিন আলভি (২৭)। তিনি গাড়ির সামনে চালকের পাশের ছিটে বসে ছিলেন। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয় তাদের লাশবাহী গাড়িটি। এতে গাড়ির সামনের অংশ দুমরে মুচরে যায়। গাড়ির চালক মিঠুন মিয়া (৩৫) সহ আহত হন তিনি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে গাড়িতে থাকা দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক আলভিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭ টায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের নুরজাহানপুরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় মাহিন আলভি দিনাজপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ বালুবাড়ি এলাকার মেফতাহুল রহমানের ছেলে। আহত লাশবাহী গাড়ির চালক মিঠুন মিয়া ঢাকার ল্যাব এইড মেডিকেলের লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ীর (ঢাকা মেট্রো-শ-১৩-১৪৭৪) চালক হিসেবে কর্মরত আছেন।
চালক মিঠুন এর একটি হাত ভেঙ্গে গিয়েছে বলে জানান, ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মনিরুজ্জামান মুরাদ। বর্তমানে সে সেখানেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলেও জানান তিনি।
ঘোড়াঘাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ নিরঞ্জন সরকার স্থানীয়দের বরাদ দিয়ে বলেন, মহাসড়কের পাশে দিনাজপুর মুখী অবস্থায় একটি ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। লাশবাহী গাড়িটি ঢাকা থেকে দিনাজপুরের দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি নুরজাহানপুর নামক স্থানে পৌঁছালে থেমে থাকা ওই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। লাশবাহী গাড়িতে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারীর মরদেহ ছিল।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) ও নিহত আলভির মামা শফিকুর রহমান বলেন, তার মা ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মায়ের মরদেহ তারই বোনের ছেলে (ভাগিনা) লাশবাহী গাড়িতে দিনাজপুর নিয়ে যাওয়া যাচ্ছিলো। দুর্ঘটনায় সেও মারা গেলেন। দুটি শোকে তার পরিবার এখন দিশেহারা।
ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ঘটনার পরপরেই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটি পালিয়ে গেছে। বৃদ্ধা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত যুবকের মরদেহ দুইটি তাদের পরিবার দিনাজপুরের নিয়ে গেছে। নিহতের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















