ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব!
- আপডেট সময় : ০২:৫৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুন ২০২২ ১৬৯ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব!
আলমগীর হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব! পানি উন্নয়ন বোর্ড বা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ঠাকুরগাঁও শহরের টাঙন নদীর ব্রীজের পাশ থেকে আবারো দিনে-দুপুরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর আগেও ব্রীজের পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে ব্রীজের রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ভুক্তভোগীরা বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কায়েবারবার অভিযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছেন না। এমতাবস্থায় কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত শহরের টাঙ্গন ব্রীজটি রয়েছে ঝুকিতে।
বুধবার (১৫জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা শহরের টাঙন নদীর ব্রীজের নিচে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। পাশের সাব-রেজিট্রি অফিসের পেছনের খাল ভরাট করার জন্য এই ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। ড্রেজার বসানোর অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তারা মাটি ভরাট করার একটি কাগজ দেখান। যেখানে উল্লেখ রয়েছে যে, নদীর পাড়ে বিদ্যমান বালি দিয়ে সাব-রেজিট্রি অফিসের পেছনের খাল ভরাট করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু তারা ড্রেজার বসিয়ে বালু দিয়ে খাল ভর্তি করছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গন নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসলেও এরা বরাবরই রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিষয়টি বার বার প্রশাসনকে অবহিত করার পরও কাজের কাজ কিছুই হয়না বরং বালু সিন্ডিকেটরা বেপরোয়া ভাবে তাদের বালু উত্তোলনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারনে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নদীর পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, গাছপালা, জায়গা জমি হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে যায়।
জানা যায়, ২০১০ সালে বালু উত্তোলন নীতিমালায় যন্ত্রচালিত মেশিন দ্বারা ড্রেজিং পদ্ধতিতে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও সেতু, কালভার্ট, রেললাইনসহ মূল্যবান স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন করা বেআইনি। অথচ বালু দস্যুরা সরকারি ওই আইন অমান্য করে সেতুর কয়েক গজ দূরে থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
ঠাকুরগাঁও মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, মাটির নিচ থেকে কাদা বালু উত্তোলন করা হলে ভূমির উপরিভাগ ঠিক থাকলেও তলদেশের ব্যাপক জায়গা নিয়ে ফাঁকা হয়ে যায়। এভাবে প্রতিনিয়ত চলতে থাকলে বড় বড় স্থাপনা, রাস্তাঘাটসহ ব্যাপক এলাকা দেবে যেতে পারে। এটা পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।










