ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে বাগাতিপাড়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রাজশাহীতে ধ/র্ষ/ণ মামলার রায় পুনর্বিবেচনা ও শি/শু ধ’র্ষ’ণে’র বিচার দাবিতে মানববন্ধন যাত্রীবেশে নারীকে কু’পিয়ে ছিনতাই, ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে মহারাজার দিঘি থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, পাশে মিলল চিরকুট দেবীগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু নলডাঙ্গায় হালতি বিলে পোনা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা নলডাঙ্গায় সরকারি সারবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন চালক-হেলপার অর্থের অভাবে চীনের মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত, সহযোগিতা চায় বাগাতিপাড়ার মেধাবী ফাতেমা বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনেই নিরাপত্তাহীনতায় আনসার সদস্য, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

ঝিনাইগাতীতে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসবের বর্ণিল সমাপ্তি

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ৪৪২ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝিনাইগাতীতে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসবের বর্ণিল সমাপ্তি

গারোদের সবচেয়ে বড় সামাজিক–ধর্মীয় উৎসবে নৃত্য, ছড়া, প্রতিযোগিতা ও প্রার্থনায় মুখরিত মরিয়মনগর; নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতি ধারণে উৎসাহ প্রধান বক্তাদের

নানা আয়োজন, ধর্মীয় আবহ এবং সংস্কৃতিমণ্ডিত মিলনমেলায় বর্ণিলভাবে শেষ হয়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ সামাজিক উৎসব ওয়ানগালা। রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে মরিয়মনগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের কার্ডিনাল বিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও সিএসসি।

সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মরিয়মনগর মিশনের পাল পুরোহিত ফাদার লরেন্স রিবেরু। তিন দিনব্যাপী উৎসবকে ঘিরে ছিল কিশোর–কিশোরীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মান্দি ছড়া পাঠ, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, ‘মিস ওয়ানগালা’ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা, খেলাধুলা, বাণী পাঠ, থক্কা প্রদান, পবিত্র খ্রিস্টযাগ, প্রার্থনা এবং নকগাথাসহ নানান আয়োজন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন মরিয়মনগর ধর্মপল্লীর প্যারিস কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অনার্শন চাম্বুগং।
প্রধান অতিথি কার্ডিনাল বিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও সিএসসি বলেন—
“ওয়ানগালা শুধু একটি উৎসব নয়; এটি গারোদের কৃতজ্ঞতা, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের অনন্য প্রকাশ। নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সংস্কৃতি ধারণে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

বক্তব্যে অনার্শন চাম্বুগং বলেন, “এই উৎসব আমাদের পরিচয়, বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেয়। শান্তি, সৌহার্দ্য ও মিলনমেলার বার্তা বহন করে ওয়ানগালা।”

উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান ও মরিয়মনগর মিশনের পাল পুরোহিত ফাদার লরেন্স রিবেরু সিএসসি জানান, ওয়ানগালা উৎসব ১৯২৫ সাল থেকে শুরু হলেও ১৯৮৫ সাল থেকে মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীর উদ্যোগে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে।
তার ভাষায়—“আমাদের লক্ষ্য গারোদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সামনে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মকে তাদের শেকড়ে পরিচিত রাখা।”

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গারোদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসবের নাম ‘ওয়ানগালা’।
‘ওয়ানা’ অর্থ দেবদেবীর দানের উপকরণ, আর ‘গালা’ অর্থ অর্পণ করা।

collected

দেবদেবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর অংশ হিসেবে বর্ষা শেষে ও নতুন শস্য ঘরে তোলার পরই পালন করা হয় এ উৎসব। নতুন খাদ্যশস্য ভোজনের আগে ওয়ানগালা পালন করা গারোদের ঐতিহ্য।

এটি ‘নবান্ন উৎসব’, ‘ধন্যবাদ উৎসব’ এবং ‘একশ ঢোলের উৎসব’ নামেও পরিচিত। গারোদের বিশ্বাস—মিসি সালজং, শস্য দেবতার কৃপায় হয় ভালো ফলন। তাই নতুন শস্য ভোগের আগে নৃত্য–গীতের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

রবিবার বিকেলে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের বর্ণিল পরিসমাপ্তি ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঝিনাইগাতীতে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসবের বর্ণিল সমাপ্তি

আপডেট সময় : ০৩:৫২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

ঝিনাইগাতীতে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসবের বর্ণিল সমাপ্তি

গারোদের সবচেয়ে বড় সামাজিক–ধর্মীয় উৎসবে নৃত্য, ছড়া, প্রতিযোগিতা ও প্রার্থনায় মুখরিত মরিয়মনগর; নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতি ধারণে উৎসাহ প্রধান বক্তাদের

নানা আয়োজন, ধর্মীয় আবহ এবং সংস্কৃতিমণ্ডিত মিলনমেলায় বর্ণিলভাবে শেষ হয়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ সামাজিক উৎসব ওয়ানগালা। রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে মরিয়মনগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের কার্ডিনাল বিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও সিএসসি।

সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মরিয়মনগর মিশনের পাল পুরোহিত ফাদার লরেন্স রিবেরু। তিন দিনব্যাপী উৎসবকে ঘিরে ছিল কিশোর–কিশোরীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মান্দি ছড়া পাঠ, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, ‘মিস ওয়ানগালা’ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা, খেলাধুলা, বাণী পাঠ, থক্কা প্রদান, পবিত্র খ্রিস্টযাগ, প্রার্থনা এবং নকগাথাসহ নানান আয়োজন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন মরিয়মনগর ধর্মপল্লীর প্যারিস কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অনার্শন চাম্বুগং।
প্রধান অতিথি কার্ডিনাল বিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও সিএসসি বলেন—
“ওয়ানগালা শুধু একটি উৎসব নয়; এটি গারোদের কৃতজ্ঞতা, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের অনন্য প্রকাশ। নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সংস্কৃতি ধারণে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

বক্তব্যে অনার্শন চাম্বুগং বলেন, “এই উৎসব আমাদের পরিচয়, বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেয়। শান্তি, সৌহার্দ্য ও মিলনমেলার বার্তা বহন করে ওয়ানগালা।”

উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান ও মরিয়মনগর মিশনের পাল পুরোহিত ফাদার লরেন্স রিবেরু সিএসসি জানান, ওয়ানগালা উৎসব ১৯২৫ সাল থেকে শুরু হলেও ১৯৮৫ সাল থেকে মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীর উদ্যোগে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে।
তার ভাষায়—“আমাদের লক্ষ্য গারোদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সামনে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মকে তাদের শেকড়ে পরিচিত রাখা।”

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গারোদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসবের নাম ‘ওয়ানগালা’।
‘ওয়ানা’ অর্থ দেবদেবীর দানের উপকরণ, আর ‘গালা’ অর্থ অর্পণ করা।

collected

দেবদেবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর অংশ হিসেবে বর্ষা শেষে ও নতুন শস্য ঘরে তোলার পরই পালন করা হয় এ উৎসব। নতুন খাদ্যশস্য ভোজনের আগে ওয়ানগালা পালন করা গারোদের ঐতিহ্য।

এটি ‘নবান্ন উৎসব’, ‘ধন্যবাদ উৎসব’ এবং ‘একশ ঢোলের উৎসব’ নামেও পরিচিত। গারোদের বিশ্বাস—মিসি সালজং, শস্য দেবতার কৃপায় হয় ভালো ফলন। তাই নতুন শস্য ভোগের আগে নৃত্য–গীতের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

রবিবার বিকেলে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের বর্ণিল পরিসমাপ্তি ঘটে।