ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংকটে জিয়ার পরিবার বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে- সংসদের হুইপ দুলু গত ১৭ বছরে দুর্বিত্তায়নের রাজনীতি রাষ্ট্রের অবসান, সন্ত্রাসী অপরাধী চক্র নির্মূল হবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবিগঞ্জে ১ মাস পূর্বের লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের তুমুল সংঘ’র্ষ, আহত ২০ রাজশাহীতে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত বাগাতিপাড়ায় ট্রেনের ধা/ক্কা/য় মা’নসিক ভা’রসাম্যহীন ব্যক্তির মৃ-ত্যু বাগাতিপাড়ায় ঈদ পুনর্মিলনী করেছে এসএসসি ২০০৩-০৪ ব্যাচ লালপুরে ডোবায় পড়ে দিনমজুরের মৃত্যু লালপুরে অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু বাগাতিপাড়ায় ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিলেন একই পরিবারের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আক্কেলপুরে জমিজমা বিরোধে যুবককে ছু/রি/কা/ঘা/তে হ’ত্যা

রাঙ্গামাটিতে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০২২ ১৯৯ বার পড়া হয়েছে

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাঙ্গামাটিতে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু!

মহুয়া জান্নাত মনি, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃ
রাঙ্গামাটিতে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু! প শীল প্রার্থনাসহ ধর্মীয় আচার পালনের মধ্যদিয়ে রাঙ্গামাটির আসামবস্তী বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙ্গামাটি উলুছড়ি ছাবা বৌদ্ধ বিহারে চীবর উৎসর্গের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু হয়েছে। সোমবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাঙ্গামাটি আসামবস্তী বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙ্গামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ২৩তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু হয়।
বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙ্গামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক উদয়ন বড়ুয়ার পরিচালনায় ধর্মসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সুপ্রিয় বড়ুয়া, বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙ্গামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সভাপতি রণজিৎ কুমার বড়ুয়া।
এর আগে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের রাঙ্গামাটি পৌর শাখার প্রধান উপদেষ্টা ভদন্ত ধর্মকৃর্তি মহাথেরোর সভাপতিত্বে আয়োজিত দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসবে ধর্মসভায় পূর্ণার্থীদের উদ্দেশে প্রধান ধর্মদেশক প্রদান করেন, কাউখালী শান্তি নিকেতন’র বৌদ্ধ বিহার’র অধ্যক্ষ্য ভদন্ত শ্রীমৎ জ্ঞানানন্দ মহাথেরো, আসামবস্তি ধর্মচক্র বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ পাঞ্ঞা বংশ মহাথেরো। সদ্ধর্মালোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম চন্দনাইশ কেন্দ্রীয় শ্রদ্ধানন্দ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ বোধিপ্রিয় ভিক্ষু।
অনুষ্ঠানে পবিত্র মঙ্গলাচরণ পাঠ করেন, বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ করুনাপাল ভিক্ষু। এতে শত শত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

পরে প শীলের মাধ্যমে মঙ্গলাচরনের পর ভিক্ষুসংঘকে চীবর উৎসর্গ করা হয়। বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারে সমবেত প্রার্থনায় অংশ নিয়ে রাঙ্গামাটি বড়ুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ ভিক্ষুসংঘকে চীবর দান করেন।
ধর্মসভা ও প শীল গ্রহণের পর চীবর দানের মাধ্যমে ‘মুক্তির অহিংসা বাণী ছড়িয়ে যাক মানুষে মানুষে এবং সামনের দিনগুলোতে শান্তি ফিরে আসুক ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের’ এমন প্রার্থনার মধ্যদিয়ে চীবর দানের সমাপ্তি ঘটে।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল ভোরে পরিত্রাণ পাঠ, পুষ্পপূজা ও ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, জাতীয় পতাকা ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধপূজা, শীলগ্রহণ, সংঘদান ও ভিক্ষু সংঘের ধর্ম দেশনা, অনুত্তর পূণ্যক্ষেত্র ভিক্ষু সংঘকে পিন্ডদান। দুপুরে ছিল উদ্বোধনী সংগীত, দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান, পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের ধর্মোপদেশ ও সন্ধ্যায় ফানুস বাতি উত্তোলন।
এর আগে সকালে রাঙ্গামাটি উলুছড়ি ছাবা বৌদ্ধ বিহারে ১৫তম কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সকালে বিহার প্রাঙ্গনে প শীল প্রার্থনা, বৌদ্ধ মুর্তি দান, সংঙ্গ দান, চীবর দানসহ বিভিন্ন দানের মাধ্যমে চীবর দানানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন পার্বত্য ভিক্ষু সংষের সভাপতি শুদ্ধালংকার মহাথের, ছাবা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শুভদর্শী মহাথের। পরে ভিক্ষুসংঘকে চীবর উৎসর্গ করার মধ্যদিয়ে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

উল্লেখ্য, মহামতি বুদ্ধের প্রজ্ঞাদীপ্ত শিক্ষা ‘বর্ষাবাস তথা বর্ষাব্রত’ পালনের সমাপনী অনুষ্ঠান শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা এবং দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব হলো বৌদ্ধদের অতি পবিত্র ও মাহাত্ম্যপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এ পূত-পবিত্র অনুষ্ঠান-উৎসবের মধ্যদিয়ে বৌদ্ধরা তথাগত গৌতম বুদ্ধের পরম কল্যাণময় শিক্ষা চর্চার ব্রত হয়। হিংসা ক্রোধ ও মোহের বদলে প্রেম দয়া ও ক্ষমায় মানুষের কল্যাণে তপস্যা ভিক্ষুদের। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্রকে বলা হয় চীবর। তাই এ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের পরিধেয় বস্ত্রের অভাব দুর করতেই কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান। তাই বৌদ্ধদের কাছে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান অত্যন্ত গুরুত্ববহ পুণ্যানুষ্ঠান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাঙ্গামাটিতে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু!

আপডেট সময় : ০১:১৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০২২

রাঙ্গামাটিতে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু!

মহুয়া জান্নাত মনি, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃ
রাঙ্গামাটিতে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু! প শীল প্রার্থনাসহ ধর্মীয় আচার পালনের মধ্যদিয়ে রাঙ্গামাটির আসামবস্তী বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙ্গামাটি উলুছড়ি ছাবা বৌদ্ধ বিহারে চীবর উৎসর্গের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু হয়েছে। সোমবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাঙ্গামাটি আসামবস্তী বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙ্গামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ২৩তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু হয়।
বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙ্গামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক উদয়ন বড়ুয়ার পরিচালনায় ধর্মসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সুপ্রিয় বড়ুয়া, বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙ্গামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সভাপতি রণজিৎ কুমার বড়ুয়া।
এর আগে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের রাঙ্গামাটি পৌর শাখার প্রধান উপদেষ্টা ভদন্ত ধর্মকৃর্তি মহাথেরোর সভাপতিত্বে আয়োজিত দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসবে ধর্মসভায় পূর্ণার্থীদের উদ্দেশে প্রধান ধর্মদেশক প্রদান করেন, কাউখালী শান্তি নিকেতন’র বৌদ্ধ বিহার’র অধ্যক্ষ্য ভদন্ত শ্রীমৎ জ্ঞানানন্দ মহাথেরো, আসামবস্তি ধর্মচক্র বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ পাঞ্ঞা বংশ মহাথেরো। সদ্ধর্মালোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম চন্দনাইশ কেন্দ্রীয় শ্রদ্ধানন্দ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ বোধিপ্রিয় ভিক্ষু।
অনুষ্ঠানে পবিত্র মঙ্গলাচরণ পাঠ করেন, বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ করুনাপাল ভিক্ষু। এতে শত শত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

পরে প শীলের মাধ্যমে মঙ্গলাচরনের পর ভিক্ষুসংঘকে চীবর উৎসর্গ করা হয়। বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারে সমবেত প্রার্থনায় অংশ নিয়ে রাঙ্গামাটি বড়ুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ ভিক্ষুসংঘকে চীবর দান করেন।
ধর্মসভা ও প শীল গ্রহণের পর চীবর দানের মাধ্যমে ‘মুক্তির অহিংসা বাণী ছড়িয়ে যাক মানুষে মানুষে এবং সামনের দিনগুলোতে শান্তি ফিরে আসুক ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের’ এমন প্রার্থনার মধ্যদিয়ে চীবর দানের সমাপ্তি ঘটে।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল ভোরে পরিত্রাণ পাঠ, পুষ্পপূজা ও ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, জাতীয় পতাকা ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধপূজা, শীলগ্রহণ, সংঘদান ও ভিক্ষু সংঘের ধর্ম দেশনা, অনুত্তর পূণ্যক্ষেত্র ভিক্ষু সংঘকে পিন্ডদান। দুপুরে ছিল উদ্বোধনী সংগীত, দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান, পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের ধর্মোপদেশ ও সন্ধ্যায় ফানুস বাতি উত্তোলন।
এর আগে সকালে রাঙ্গামাটি উলুছড়ি ছাবা বৌদ্ধ বিহারে ১৫তম কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সকালে বিহার প্রাঙ্গনে প শীল প্রার্থনা, বৌদ্ধ মুর্তি দান, সংঙ্গ দান, চীবর দানসহ বিভিন্ন দানের মাধ্যমে চীবর দানানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন পার্বত্য ভিক্ষু সংষের সভাপতি শুদ্ধালংকার মহাথের, ছাবা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শুভদর্শী মহাথের। পরে ভিক্ষুসংঘকে চীবর উৎসর্গ করার মধ্যদিয়ে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

উল্লেখ্য, মহামতি বুদ্ধের প্রজ্ঞাদীপ্ত শিক্ষা ‘বর্ষাবাস তথা বর্ষাব্রত’ পালনের সমাপনী অনুষ্ঠান শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা এবং দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব হলো বৌদ্ধদের অতি পবিত্র ও মাহাত্ম্যপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এ পূত-পবিত্র অনুষ্ঠান-উৎসবের মধ্যদিয়ে বৌদ্ধরা তথাগত গৌতম বুদ্ধের পরম কল্যাণময় শিক্ষা চর্চার ব্রত হয়। হিংসা ক্রোধ ও মোহের বদলে প্রেম দয়া ও ক্ষমায় মানুষের কল্যাণে তপস্যা ভিক্ষুদের। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্রকে বলা হয় চীবর। তাই এ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের পরিধেয় বস্ত্রের অভাব দুর করতেই কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান। তাই বৌদ্ধদের কাছে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান অত্যন্ত গুরুত্ববহ পুণ্যানুষ্ঠান।