জরিমানার টাকা দিতে না পারায় গৃহবধুকে নির্যাতনসহ বাড়ী থেকে ফ্রিজ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মাতাব্বরের বিরুদ্ধে!
- আপডেট সময় : ০৩:৩১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২ ২১৩ বার পড়া হয়েছে

জরিমানার টাকা দিতে না পারায় গৃহবধুকে নির্যাতনসহ বাড়ী থেকে ফ্রিজ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মাতাব্বরের বিরুদ্ধে!
আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর আএাইয়ে গ্রাম্য শালিসে জরিমানার টাকা দিতে নাপারায় এক গৃহবধুর বাড়ী থেকে ফ্রিজ নিয়ে যাওয়া সহ গৃহবধুকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে মাতাব্বরের বিরুদ্ধে। এঘটনায় সোমবার (২৭ জুন) রাতে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধু।
আত্রাই উপজেলার প্রত্যন্ত্ম অঞ্চলের ভুক্তভোগী গৃহবধু জানান, উপজেলার হাতিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩৫) তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের অজান্ত্মে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে কম্পিউটারের মাধ্যমে নগ্ন করে বেশ কয়েকজনকে দেখায়। ৩/৪দিন আগে এমন ঘটনা ঘটলে ওই সুত্র ধরে গত রবিবার রাতে সমাজের পক্ষে থেকে হাতিয়াপাড়া গ্রামে শালিস বসায়। ওই শালিসে কিশোরী মেয়ের এমন নগ্ন ছবি ধারনে সহযোগিতা আছে এমন অভিযোগ তুলে গৃহবধুকে ১০টি বেত্রাঘাত ও ১৫হাজার টাকা জরিমানা করে এবং সাদ্দাম হোসেনকে ৫টি বেত্রাঘাত এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা করে। ওই শালিসে শালিসকারকরা গৃহবধুর স্বামীকে দিয়ে বেত্রাঘাত করে নেয়। এতে গৃহবধুর শরীরের বেশ কয়েক জায়গায় রক্তাক্ত জখম হয়ে যায়। এছাড়া চলমান বৈঠকে জরিমানার টাকা না দিতে পারায় রাতেই তার ঘর থেকে ফ্রিজ বের করে নেয় মাতাব্বররা।
গৃহবধু আরো জানান,আমার মেয়ের ঘারে কলংকের দাগ দিয়ে উল্টো আমাকেই নির্যানত করেছে এবং জরিমানা করেছে। শালিসে যেতে না চাইলেও মাতাব্বর আব্দুস ছালাম এর হুকুমে স্থানীয় মেম্বার ইসমাইল হোসেন, মহিলা মেম্বার আফরোজা বেগমসহ ৭/৮জন বাড়ীতে এসে জোর করে নিয়ে গেছে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পাবার জন্য সোমবার রাতে তিনি আত্রাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর রাতেই মাতাব্বররা ফ্রিজ ফিরে দিয়েছে বলে জানান ওই গৃহবধু।
এব্যাপারে মেম্বার ইসমাইল হোসেন বলেন,শৃংখলা বজায় রাখার জন্য সমাজের পÿ থেকে শালিস ডাকা হয়েছিল। ওই শালিসে গ্রামের প্রায় সবাই উপস্থিত ছিল। মেয়ের অপকর্মে মা বেশি সহায়তা করেছে। শালিসে গৃহবধুর পক্ষের, সাদ্দামের পক্ষের এবং সমাজের পক্ষের লোকজন দিয়ে জুরিবোর্ড গঠন করা হয়েছিল। জুরিবোর্ডের রায় অনুযায়ী স্বামীকে দিয়ে গৃহবধুকে শাসন স্বরম্নপ ১০টি বেত্রাঘাত করা হয়েছে এবং ১০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে গৃহবধু জরিমানার টাকা দিতে না পারায় ফ্রিজ নেয়া হয়েছিল পরে সোমবার রাতে আবার ফেরৎ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ওই কিশোরির ছবি কয়েকজনকে মোবাইলে ছড়িয়ে দেয়ার অপরাধে সাদ্দামকে ৫টি বেত্রাঘাত এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
স্থানীয় মহিলা মেম্বার আফরম্নজা বেগম বলেন,শালিসে উপস্থিত মাতাব্বরদের নির্দেশে ইমাইল মেম্বারসহ কয়েকজন গিয়ে গৃহবধু ও তার স্বামীকে ডেকে এনেছিলাম। শালিসের রায়ে গৃহবধুকে বেত্রাঘাতের জন্য আমাকে বলেছিল, কিন্তু আমি বেত্রাঘাত না করায় তার স্বামীকে দিয়ে বেত্রাঘাত করা হয়েছে এবং গৃহবধুর ১০ হাজার ও সাদ্দাম হোসেনকে ৫/৭টি বেত্রাঘাত করে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শালিসে উপস্থিত মাতাব্বর আব্দুস ছালাম এর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নামাজ পর কথা বলবো বলে ফোন কেটে দেন। নামাজ পর একাধিকবার তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
আত্রাই থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন,সোমবার রাতে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত্ম সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।










